টেলিযোগাযোগ মাধ্যমে প্রেরিত যেকোনো বার্তা ও কথপোকথন রেকর্ড করতে উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন ‘ল-ফুল ইন্টারসেপশন’ প্রযুক্তি কিনছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার’ (এনটিএমসি) এটি ক্রয় করবে। এর সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ২শ’ কোটি টাকারও বেশি। উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন এ প্রযুক্তিটি ক্রয়ের লক্ষ্যে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮’-এর তফসিল-২ এ বর্ণিত আর্থিক সীমা শিথিল করাসহ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের অনুমতি চেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’তে পাঠানো হয়েছে। কমিটির আগামী বৈঠকে এটি উপস্থাপন করা হতে পারে।
‘ল-ফুল ইন্টারসেপশন’ ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খানের পাঠানো সারাংশ প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘ল-ফুল ইন্টারসেপশন’ কাজের প্রকৃতি ও ফলাফল অত্যন্ত সংবেদনশীল বিধায় এ সংক্রান্ত তথ্য, প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, সরঞ্জামাদি ইত্যাদি ক্রয়/বিক্রয়/সরবরাহ/ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করে শুধুমাত্র সীমিত, নির্বাচিত ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে। প্রকাশ্য দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে গোয়েন্দা কার্যক্রম সংক্রান্ত এ সকল যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হলে গোয়েন্দা কার্যক্রম অর্থাৎ এ সকল যন্ত্রপাতি সংগ্রহের উদ্দেশ্য ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
অন্যদিকে আর্থিক সীমা শিথিল করার বিষয়ে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮’ এর তফসিল-২ এ অর্থাৎ বিধি-৮১ অনুযায়ী সরাসরি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতিবার ক্রয়ে আর্থিক পরিমাণ হচ্ছে অনধিক ২৫ হাজার টাকা এবং বাৎসরিক হিসেবে এর পরিমাণ অনধিক ৫ লাখ টাকা। এ কারণে এ প্রযুক্তিটি ক্রয়ে আর্থিক সীমা বাড়ানো প্রয়োজন।’
প্রযুক্তিটি ক্রয়ের সারাংশ প্রস্তাবে এ সংক্রান্ত সাতটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ভেরিন্ট সিস্টেম’ ও ‘এসএস৮’; ইতালির ‘আরসিএস’; জার্মানের ‘ট্রভিকর’ ও ‘ইউটিম্যাকো’; সুইজারল্যান্ডের ‘নিউ সেফট’ ও চীনের প্রতিষ্ঠান ‘ইনোভেশিয়ো’।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী অবাধ তথ্য প্রবাহের কারণে সংবেদনশীল তথ্যের অযাচিত প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ কার্যক্রমে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাসহ নানাবিধ অপতৎপরতা রোধে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ‘এনটিএমসি’ কার্যক্রম শুরু করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে যেকোনো টেলিযোগাযোগ সেবা গ্রহণকারীর প্রেরিত বার্তা ও কথপোকথন প্রতিহত করা, রেকর্ড ধারণ বা এ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সহায়তা দিয়ে থাকে।
এনটিএমসি’র বর্তমানে ব্যবহৃত মনিটরিং সিস্টেমটির মেয়াদকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং বিরাজমান অত্যাধুনিক তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থার সকল মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় সেবা প্রত্যাশী সংস্থা ও কর্তৃপক্ষসমূহকে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে নতুন এ প্রযুক্তিটি ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রস্তাবের সারাংশে বলা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply