ফিটনেসবিহীন মোটরযান চলাচল বন্ধের পাশাপাশি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার চালকের হাতে থাকা ‘ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স’ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। যারা এ ধরনের লাইসেন্স ব্যবহার করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ তিনদফা নির্দেশনা দেয়।
এসব নির্দেশনার কতোটা বাস্তবায়ন করা হল- তা জানিয়ে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বিআরটিএ চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিষয়টি আগামী ২ সেপ্টেম্বর আবার হাই কোর্টের কার্যতালিকায় আসবে বলে আদালতের আদেশে জানানো হয়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) জুন মাসের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশে ১৮ লাখ ৭৭ হাজার চালকের কাছে বৈধ লাইসেন্স নেই। মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর আগে ‘ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি টেস্ট বোর্ড’-এ পরীক্ষা দিতে হয়। ডিসিটিবির সুপারিশ ও অনুমোদনের পরই বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করে। নির্ধারিত ফি দিয়ে ড্রাইভিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সাপেক্ষে পেশাদার ও অপেশাদার চালকদের জন্য যথাক্রমে ৫ ও ১০ বছর মেয়াদি লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। মোটরযানে কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করার জন্যও বিআরটিএ লাইসেন্স ইস্যু করে।
মোটরযান অধ্যাদেশ অনুসারে, পেশাদার চালকের লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে সারা দেশে জেলা প্রশাসনের অধীনে ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি টেস্ট বোর্ডের মাধ্যমে শারীরিক ও লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার নিয়ম আছে। কিন্তু বিআরটিএ পরীক্ষা ছাড়াই লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ দিচ্ছে। বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষার পরিবর্তে বিআরটিএর একজন মোটরযান পরিদর্শকের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের চাপে পড়ে সংস্থার উচ্চপর্যায় থেকে পরীক্ষা ছাড়াই লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। এ যাবৎ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের অধীন বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের তালিকা ধরে বিশেষ চাপে এক লাখ ৯৮ হাজার যুবককে পেশাদার চালক হিসেবে পরীক্ষা ছাড়াই লাইসেন্স দিয়েছে সংস্থাটি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply