বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রয়াণদিবসে কুঠিবাড়িতে স্মরণ হয় না রবীন্দ্রনাথকে

Kushtia-Kuthibari-(3)রবিঠাকুরের জন্মদিনে শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে মহাসমারোহে পালিত হলেও প্রয়াণ দিবসে কোনো আয়োজন হয় না। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে কবিগুরু রচনা করেছেন নোবেলজয়ী গীতাঞ্জলিসহ বহু কালজয়ী গল্প-কবিতা-উপন্যাসসহ নানা ধরনের সাহিত্য।

প্রতি বছর ২৫শে বৈশাখ এখানে কবির জন্মদিন পালিত হয়, কিন্তু প্রয়াণ দিবস ২২ শ্রাবণে কোনো আয়োজন থাকে না। এ নিয়ে রবীন্দ্রপ্রেমীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ রয়েছে।

রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার সাহা বলেন, “রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু দিবসটি সরকারি বা জাতীয়ভাবে কুঠিবাড়িতে কেন পালিত হয় না তার কোনো সদুত্তর আমাদের কাছে নেই। জেলার রবীন্দ্র ভক্তরা ছোট পরিসরে হলেও কুষ্টিয়া পৌরসভার উদ্যোগে শহরের টেগর লজে পালন করে থাকেন।”

প্রতিবছর কবির প্রয়াণ দিবসটি পালনের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট মহল গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

কুষ্টিয়ার পৌর মেয়র ও টেগর লজের সভাপতি আনোয়ার আলী বলেন, কুষ্টিয়ার মাটিকে ঐতিহ্যমণ্ডিত করেছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরণধন্য শিলাইদহের কুঠিবাড়ি।

রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ায় শিলাইদহ কুঠিবাড়ি
সেখানে আড়ম্বর আয়োজনে জন্মদিবসটি পালিত হলেও প্রয়াণ দিবসে কোনো আয়োজন না থাকায় কুষ্টিয়া পৌরসভার উদ্যোগে প্রতিবছর ঘরোয়াভাবে শহরের টেগর লজে পালিত হয় বলে তিনি জানান।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও রবীন্দ্র গবেষক ড. সারোয়ার মুর্শেদ বলেন, শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে ২২ শে শ্রাবণ কবির মৃত্যুদিবসকে ঘিরে প্রশাসনিক বা জাতীয়ভাবে কোনো অনুষ্ঠান হয় না।

যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ সোনার তরী ও গীতাঞ্জলি লিখেছেন, অসংখ্য ছোট গল্প লিখেছেন, লিখেছেন অনেক নাটক, সেই শিলাইদহ ২২ শে শ্রাবণে বড় বেশি অবহেলিত থাকে বলে মনে করেন তিনি।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরী বলেন, “শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে সর্বপ্রথম এবং একবারই কবিগুরুর মৃত্যুদিবসকে পালন করতে দেখেছি, এবং তা ১৯৬৬ সালে ছায়ানটের। আমি মনে করি শিলাইদহে যথাযোগ্য মর্যাদায় রবীন্দ্র প্রয়াণ দিবসটিও পালন করা উচিত।”

স্থানীয় রবীন্দ্রভক্ত গৌতম কুমার রায় বলেন, রবীন্দ্রনাথকে কেবল ২৫ শে বৈশাখ জন্ম-জয়ন্তীতে স্মরণ করলেই যথার্থ মূল্যায়ন হয় না। তার প্রয়াণ দিবসকে খাটো করে দেখা হবে পরিতাপের বিষয়।

কুঠিবাড়িতে কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস পালিত না হওয়া বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *