বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন: চারিদিকে সাজ সাজ রব

Mujib-DU-Tourঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাজ সাজ রব। প্লেকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে চারিদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ। জাতির পিতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বল্পকালীন সফরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি গৌরবোজ্জ্বল দিন। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে এর আগে মাত্র একদিন বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন ভাষণ দিতে। কিন্তু এই প্রথমবার তিনি আসছেন চ্যান্সেলার হিসেবে। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিশ্ববিদ্যালয় বর্ণাঢ্য কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।

এদিকে চ্যান্সেলর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন নানা কর্মসূচীতে পরিকল্পিত। প্রথমে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ অধ্যাপকদের মাজার জিয়ারত করে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। এরপর কলাভবনে ইউটিসির সালাম নেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুকে মাল্যভূষিত করার পর কলাভবনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মিউজিয়াম প্রদর্শন করবেন।

এরপর জগন্নাথ হলের গণকবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের ডাটা প্রসেসিং ইউনিট দেখে কার্জন হলের একটি বিজ্ঞানাগার, হোস্টেল, বিভিন্ন হলের বহির্ভাগ, ও নির্মীয়মান বিজ্ঞান ভবন পরিদর্শন করবেন। সবশেষে বঙ্গবন্ধু ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন টিএসসির মিলনায়তনে।

ক্লাস, ক্যাম্পাস, ছাত্রাবাস সবখানেই ছাত্র-ছাত্রীরা বঙ্গবন্ধুর আলোচনায় তাই উচ্ছসিত। উপাচার্য ড. আবদুল মতীন চৌধুরীসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নানা আয়োজন ছিলেন ব্যস্ত।

সকলের প্রাণের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাগত জানাতে ১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া প্রস্তুতি ১৪ আগস্ট অনেক রাতে শেষ হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষকসহ সংশ্লি­ষ্ট সকলে অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত।

বিশ্ববিদ্যালয় ভবনগুলো রং করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু যে পথ দিয়ে যাবেন সে পথগুলোর সংস্কার হয়েছে। কলাভবনের চারতলা ভবনের সাদা রংয়ের দেয়ালের শীর্ষে লাল অক্ষরে বিন্যান্ত বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক। ঝলমলে করিডোরের দেয়ালে দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, ছাত্রসমাজের উদ্দেশ্যে নানা অমূল্য বাণী। শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি হিসেবে প্রতিটি কর্মসুচির চূড়ান্ত মহড়া সারাদিন ব্যাপী চলেছে। স্বেচ্ছাসেবকরা কোথায় দাঁড়াবে, ব্যান্ডে জাতীয় সংগীতের বাজনায় ইউটিসির সালাম প্রদান, টেলিভিশন ও বি ভ্যানের ক্যামেরার অবস্থানও সবকিছু একদম তৈরি।’

৭৫ এর ১৫ আগস্টের দৈনিক পত্রিকাগুলোতে এমন সব তথ্যই পাওয়া যায়।

এবিষয়ে দৈনিক বাংলা ও ইত্তেফাক প্রায় একই শিরোনাম করে ‘বঙ্গবন্ধু আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন’। এছাড়া দৈনিক বাংলা ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণের সাড়া’ ও ‘বঙ্গবন্ধুকে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাগত জানাবে’ শিরোনামে আরও দুটি খবর প্রকাশ করে।

ইত্তেফাক বঙ্গবন্ধুর বিশ্ববিদ্যালয় আগমন উপলক্ষে ৮ পৃষ্ঠার বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। দৈনিক বাংলা বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে ১২ পৃষ্ঠার। তবে দুটি পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায়ই তৎকালীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী এম মনসুর আলী, উপাচার্য ড. আবদুল মতিন চৌধুরীর  বাণী প্রকাশ করে।

‘আজ শুক্রবার ১৫ আগস্ট ১৯৭৫’, সারা বিশ্ববিদ্যালয় এ মহান নেতাকে স্বাগত জানাতে সব রকম সজ্জা, পরিচ্ছন্নতা, আন্তরিকতা ও বিপুল আনন্দের সম্ভারে অপেক্ষমান।

কিন্তু বাঙালির এ অপেক্ষা থমকে গেল। রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে বঙ্গবন্ধুকে আর কখনই আসতে দেখেনি এ হতভাগ্য জাতি। এর আগেই তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ করা হলো। ১৫ আগস্টের সূর্য তিনি দেখলেন না। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাসায় ভোরবেলায় নিহত হলেন। সামরিকবাহিনীর বিপথগামী একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজসে বঙ্গবন্ধুকে গোটা পরিবারসহ হত্যা করা হয়। তাঁর দুই মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা তখন জার্মানিতে ছিলেন বলে প্রাণে রক্ষা পান।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *