অবশেষে জামিন পেলেন প্রবীর সিকদার। মাঝখানে ঘোলা হলো জল। উদ্রেক হলো ভাবনার। সেই উদ্বেগ থেকেই বলছি-
রাষ্ট্রকে আরো উদার হতে হবে, হয়। নাগরিকরা তো রাষ্ট্র থেকেই শিখবে। একটি রাষ্ট্রে সভ্যতার সংস্কৃতির জন্ম তো উভয়ের দায়বোধ , রাষ্ট্র ও নাগরিক, থেকেই। প্রবীর’দার (সাংবাদিক প্রবীর সিকদার) জন্যই এ লিখা। লিখা মানে উদ্বেগ।
ফেসবুকে এমনতর স্ট্যাটাস লিখা উচিত হয়নি, আমিও স্বীকার করি। এ স্ট্যাটাসের বদৌলতে অন্য কোন পক্ষ নেতিবাচক কোন সুবিধা নিয়ে দায় তাকেই দিতে পারতো। যাক আপাতত সেটি হয়নি এবং আগেভাগেই বিষয়টি আইনের দ্বারস্থ হয়েছে। এটি একদিক দিয়ে ভালোই হলো। কিন্তু সংকটটা অন্য জায়গায়।
আমার প্রশ্ন- ১. প্রবীরদার বলা উচিত, তাকে কি কেউ ফোনে বা সামনাসামনি বা লোকমুখে হত্যা বা কোন অনিষ্টের হুমকি দিয়েছে? দিলে কারা? কেনই বা দিয়েছে? ২. কাদের বিরুদ্ধে জিডি করতে গিয়েছিলেন? কেন? কোন থানায়? কেনইবা পুলিশ জিডি নিলো না? ৩. তিনি যে তিনজনের নাম উল্লেখ করেছেন, কেন করেছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্যই বা জানালেন না কেন?
অন্যদিকে, ১. গ্রেপ্তারের পর তার সঙ্গে পুলিশের আচরণ সঠিক হয়নি। বরং তা অামনবিক পর্যায়ে গেছে। ২. রাতে ডিবি অফিসে একটি চেয়ারে ঠায় কয়েক ঘন্টা বসিয়ে রাখা, ৩. হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা, আরেকটি পা ভেঙে্ দেওয়ার হুমকি ৪. বিশেষ করে ফরিদপুর আদালতের কোন আইনজীবীর তার পক্ষে না দাঁড়ানো, খুবই অশোভন ও অমানবিক বটে।
যেটি হতে পারতো- ১. প্রবীর’দা স্ট্যাটাসের ব্যাপারে আরো সংযত হতে পারতেন্। ২. যারা তাকে হুমকি দিচ্ছেন, বা পুর্ব শ্ত্রুতা যদি থেকে থাকে, তাদের ব্যাপারে সরকারের উচ্চ বা সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা করা। কারণ আমরা যতদুর জানি তিনি আওয়ামী পন্থী সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার যোগােযোগ ভালো। শেষতক আইনের আশ্রয় নেওয়া।
অন্যদিকে, সরকার পারতো- এমন পুলিশী হয়রানী না করিয়ে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করতে। ঘটনাকে এমন তালগোল না পাকানো।
এখন উচিত হবে- ঘটনাটির স্থায়ী সমাধান করা। সে উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে, মানে আওয়ামীলীগকে। কারণ উভয় পক্ষই তারই তো লোক।
আর সমাধান মানে, এমন নয়, যে পাশ কাটিয়ে যাওয়া। কারণ সাধারণ মানুষ রাজনীতি ও ক্ষমতার দাপটে আর নিষ্পেষিত হতে চায় না।
সবকিছু রাজনীতিকরণ হয়ে যাওয়ায়, আমরা সাধারণ নাগরিকরা ভালো নেই।
১৯ আগস্ট ২০১৫
প্রতীক ইজাজ: সাংবাদিক




Leave a Reply