শুনলাম দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রদানে ভৌতিক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কোনও কোম্পানি যাতে দেশের বৃহত্তম প্রচার সংখ্যার এই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন না দেয় সেজন্য ভৌতিক চাপ ! ব্যাংক, বীমা মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিয়েছে। পত্রিকাটি এখন সংকটে। এর মানে কি? প্রথম আলো বন্ধ করে দেয়া হবে!!! এতে কার লাভ হবে?
সংবাদপত্র ক্ষমতাসীনের বন্ধু হয়ে বেশীক্ষণ চলতে পারে না। কারণ খবর প্রকাশ করতে হয় ক্ষমতাসীনের। সমালোচনা করতে হলে ক্ষমতাসীনদেরই করতে হয়। সেটা কেবল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যারা আছে তারা নয়; সমাজের সকল স্তরে যারা ক্ষমতাবান তারাই সংবাদপত্রের শিরোনাম হন। ভিকটিমও অনেক সময় শিরোনাম হন। কিন্তু সেটা ক্ষমতাবানের দাপটের কারণে। প্রথম আলো (শিরোনাম বানানোর) এই কাজটা সব সময় করে এসেছে। একারণে সকল সমালোচনা সত্ত্বেও এখনও প্রথম আলো পড়ি। ক্ষমতাধর, যাদের প্রথম আলোর প্রতি অনেক রাগ তারাও প্রথম আলোই আগে পড়েন। এই প্রথম আলো বন্ধ হয়ে গেলে আপনার সমালোচনা করবে কে? আপনি না রাজনীতি করেন? সমালোচক না থাকলে আপনার রাজনীতি থাকে? থাকবে কেবল শাসন। আপনি শাসন করতে ভাল বাসেন, নাকি জননেতা হিসেবে জনগণকে সাথে নিয়ে রাজনীতি করতে ভালবাসেন? যদি রাজনীতি ভালবাসেন, যদি গণতন্ত্র ভালবাসেন তবে আপনার ভাল মন্দের রিপোর্ট করতে দিন। সমালোচনা করতে দিন। বিরোধীদল হীনতা কিংবা দুর্বল ও অকার্যকর বিরোধীদলের জায়গায় প্রথম আলো স্থান করে নিলে ক্ষতি কি?
প্রথম আলোর বিরুদ্ধে অনেক কথা আছে, যার সবগুলো এখন বলব না। শুধু বলব, আমরা প্রথম আলোর পক্ষে কথা বলতে ভয় পাই। তত্ত্বাবধায়ক আমলে বায়তুল মোকাররমের উগ্র মৌলবাদী এক খতিবের কাছে মতি ভাইয়ের নাক খত দেয়ার দৃশ্য আমরা ভূলতে পারি না। আগেরদিন আমরা প্রগতিশীল সাংবাদিক ফোরামের সংগঠকরা (কামাল লোহানি ছিলেন আহ্ববায়ক, আমি ছিলাম সদস্য সচিব) প্রথম আলোর পক্ষে/মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে সেমিনার করলাম। সম্পাদকরা প্রথম আলোর পক্ষে বিবৃতি দিলেন। পরদিনই মতি ভাই ব্যারিষ্টার মইনুলকে সাথে নিয়ে খতিবের পায়ের কাছে বসে পড়লেন। আমরা লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম।
আমরা নানা কারণে প্রথম আলোর পক্ষে কথা বলতে কুন্ঠিত হই। প্রথম আলো সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোকে পছন্দ করে না। ট্রেড ইউনিয়ন সহ্য করতে পারে না। দেশের বৃহত্তম সংবাদপত্র শিল্প প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নেই – এটা ভাবা যায়না। এরকম প্রতিষ্ঠান যখন অন্যদের অধিকারের কথা লেখে তখন ভন্ডামি মনে হয়। যে সংগঠন তারা পছন্দ করে না, সেই সংগঠন তাদের পক্ষে দাড়াবে কেন? তবুও দাড়াতে হবে। প্রথম আলো বহু সাংবাদিক-শ্রমিকের কর্মস্থল – রুটি রুজির ঠিকানা। প্রথম আলো গণমানুষের মত প্রকাশের ঠিকানা। প্রথম আলোকে রক্ষা করতে হবে।
পুলক ঘটক: সাংবাদিক; এবং সংবাদকর্মীদের পেশাগত স্বার্থরক্ষার অগ্রণী সেনানী




Leave a Reply