উত্তরাঞ্চল ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় এ অঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে আড়াই লাখ মানুষ। প্রশাসনের তরফ থেকে এখনো পর্য়ন্ত কোন ত্রাণ তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।
বগুড়ায় যমুনা ৭১ সেন্টিমিটার, ফরিদপুরে পদ্মা ৩০ সেন্টিমিটার, ও জামালপুরে ৬১ সেন্টিমিটার এবং ধরলা লালমনিরহাটে বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। কুড়িগ্রামে ধরলার পানি ৪০ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ৮৫টি স্থানে ২৩টি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে।
বগুড়ায় সারিয়াকান্দি পয়েন্ট যমুনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র হচ্ছে ভাঙন। ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর ও আলফাডাঙ্গার ১০ ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সরকারীভাবে দুর্গতদের জন্য ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হলও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম।
দুটি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ায় কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি। প্লাবিত হয়েছে আরো নতুন নতুন এলাকা। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে জেলার ৯ উপজেলার ৬০টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রামের আড়াই লাখ মানুষ। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে জামালপুরেরও। বাহাদুরাবাদঘাট পয়েন্টে যমুনার পানির বিপৎ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলার ৭ উপজেলার ৬৮ ইউনিয়নের মধ্যে ৪৫ ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। এদিকে, নওগাঁর আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ৩১টি গ্রাম। সিলেটেও প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, এরইমধ্যে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। লালমনিরহাটে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দী অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে যে অবস্থাটি দেখা দিয়েছে তা হল মানুষের খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাব। ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ।
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম



Leave a Reply