বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সরকারি চাকুরেদের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ

Pay__দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল অষ্টম পে-স্কেল। অবশ্য এখনও খুাঁটিনাটি অনেক বিষয় চূড়ান্ত হয়নি। যদিও টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড থাকছে না। বেতন বৃদ্ধি হবে প্রতি বছর। এদিকে এবার প্রথমবারের মতো নববর্ষ ভাতা চালু হচ্ছে। সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হওয়ার পরও পে-স্কেল চূড়ান্ত হতে অনেকগুলো কাজ করতে হবে। সেগুলো শেষ হতে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগবে। তবে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে জুলাই থেকেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নতুন এই পে-স্কেলের অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভুইঞা বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
সচিব জানান, নতুন বেতন কাঠামো জুলাই মাস থেকেই কার্যকর হয়েছে। নতুন এ কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন বেতন হবে ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা।

সচিব বলেন, নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী নববর্ষ ভাতা চালু হবে। মূল বেতনের ২০ শতাংশ নববর্ষ ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাড়ি ভাড়া ছাড়া সব ভাতা দেয়া হবে নির্ধারিত হারে। নতুন ভাতা কার্যকর হবে আগামী বছরের জুলাই থেকে। তাছাড়া, সরকারি সবাই কর্মচারী হিসেবে গণ্য হবে বলে জানান সচিব।

তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৬ হাজার টাকা।

মোশাররাফ হোসাইন ভুইঞা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের গ্রেড অনুযায়ী বেতন পাবেন। তবে তাদের পদমর্যাদার দাবি পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

তিনি জানান, পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধির হার হবে গ্রেড ২০তম থেকে ষষ্ঠ ৫ শতাংশ, পঞ্চম গ্রেড ৪ দশমিক ৫, গ্রেড চতুর্থ ও তৃতীয় ৪ শতাংশ এবং গ্রেড দ্বিতীয় ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘নতুন একটি বিষয় প্রচলন করা হয়েছে, এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। এখন থেকে নির্ধারিত ইনক্রিমেন্ট ও ইফিসিয়েন্সি বার আর থাকছে না। এটা মূল বেতনের পারসেন্টেজ আকারে হবে। পারসেন্টেজটা হবে আবার ভিন্ন রকম, উপরের দিকে আছেন তাদের বেতন বৃদ্ধির হার কম, নিচের দিকে যারা আছেন তাদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি।’

‘২০ থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির হার হবে ৫ শতাংশ, পঞ্চম গ্রেডের ক্ষেত্রে হবে চার দশমিক পাঁচ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডের ক্ষেত্রে চার শতাংশ, দ্বিতীয় গ্রেডের ক্ষেত্রে তিন দশমিক ৭৫ শতাংশ। প্রথম গ্রেডে কোনো বেতন বৃদ্ধি হবে না’— বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

‘ক্রমপুঞ্জীভূত হারে এ বেতন বাড়বে’ জানিয়ে মোশাররাফ হোসাইন আরও বলেন, ‘কারো বেতন ১০ হাজার টাকা হলে তার বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ হলে বেতন হবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা। পরের বছর আবার ১০ হাজার ৫০০ টাকার উপর ৫ শতাংশ হারে বেতন বাড়বে। এভাবে প্রতি বছরের বর্ধিত বেতন মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর উপর নির্ধারিত হারে বেতন বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘পত্রিকায় লেখা হচ্ছে টাইম স্কেল গেল গেল। যে পরিমাণে বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে বা হতো নতুন নিয়ম চালু করার পর তার চেয়ে বেশি বেতন বাড়বে। সেটা আমরা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করেছি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ আগের চেয়ে বাড়বে।’

‘টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বৈষম্যমূলক’ মন্তব্য করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘কমিশনও এটা বলেছে, সচিব কমিটির পর্যালোচনায়ও এটা এসেছে, অর্থ বিভাগেও। মন্ত্রিসভা এ বিষয়ে স্যাটিসফাইড। এ দুটি বিষয় আর থাকছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘টাইম স্কেল কেউ পায়, কেউ পায় না। সিলেকশন গ্রেড আরও বৈষম্যমূলক, কম সংখ্যক লোক এটা পায়। নতুন পদ্ধতিতে সবার জন্য বেতন বাড়বে। এ সুবিধা সার্বজনীন। কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য সুবিধার চেয়ে সার্বজনীয় সুবিধাকে বেশি যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য বলে মন্ত্রিসভা মনে করেছে।’

বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতির নির্ধারিত সময়ে আর্থিক সুবিধা হিসেবে সিলেকশন গ্রেড দেওয়া হয়। আবার চাকরির একটি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টাইম স্কেল দেওয়া হয়।

বেতন কমিশন ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে পর্যালোচনা কমিটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের সুপারিশ করে। এ সুপারিশের বিষয়টি শোনার পর শিক্ষক ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলনে নামে। তাদের অভিযোগ, নিচের দিকে পদোন্নতি কম হয়। এ দুটি বিষয় বাদ দেওয়া হলে নিচের দিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

O বেতনের নতুন স্কেল দেখতে ক্লিক করুন:

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *