আগের দিন টেলিভিশনে এতটাই হরবড় করে কথা বললেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, ঠিক বুঝতে পারিনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে পত্রিকা পড়ে জানলাম, উনি রেলের সব মেগা প্রজেক্ট নিয়ে দার“ণ সব আশাবাদী কথা বলেছেন। আমরাও আশাবাদী হতে চাই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ব্রিটিশ আমলের রেলওয়ের উন্নতি না হয়ে কেন ক্রমশই অবনতি হলো এই জাতীয় নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জনপরিবহনের।
সারাদেশে রেলপথের কত উন্নতির খবর বলে গেলেন রেলমন্ত্রী, আমাদের প্রিয় মুজিবভাই। ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে। ব্রডগেজ ও মিটারগেজ মিলে ২৭০টিকোচ, ৭০টি ইঞ্জিন আসবে। যানজট নিরসনে সার্কুলার ট্রেন হবে রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে। প্রথম দিন থেকেই পদ্মা সেতুতে চলবে স্বপ্নের ট্রেন। নতুন রেলপথ হবে গেন্ডারিয়া থেকে মাওয়া। জাজিরা থেকে ভাঙা পর্যন্ত রিপোর্টেই পড়লাম, যে অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী অনেক বড় স্বপ্ন দেখিয়েছেন রেলকে নিয়ে। যেখানে বলেছেন, রেলের উন্নয়নে ছোটবড় ৩৫টি প্রকল্পের কথা সেখানেই। কথা উঠেছে, রেলের আসন ভাঙাচোরা, পাখা চলে না, ছারপোকার কামড়ে অতিষ্ঠ রেলযাত্রীরা।
মুজিবুল হক সম্পদের সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন। আর জোর দিয়ে বলেছেন, ‘সব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিচ্ছি। সব খারাপ আসন বদলে ফেলব। রেলে ছারপোকা থাকবে না।’
আমি বলি কি মুজিব ভাই, হাজার কোটি টাকার বড় বড় প্রকল্প তো আছেই, সবার আগে নিন ‘রেলের ছারপোকা নিধন কর্মসূচী।’ সাবেক রেলমন্ত্রী কালো বিড়াল মারতে চেয়েছিলেন। আপনি না হয় আগে ছারপোকাই মারুন!
রেলের সময়সূচী ঠিক না থাকুক, ছারপোকার কামড় থেকে রেহাই দেন রেলযাত্রীদের।
আমরা আম জনতা, তাও আবার হুটহাট মরে যাই সড়ক দুর্ঘটনায়, ভেজাল খেয়ে ক্যান্সার বা কিডনি বিকল হয়। স্বাধীনতার পর ৪৪ বছরে রেলপথ ৩৬ কিলোমিটার কমলো না বাড়লো তা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন সংগ্রহ ও লোকমোটিভ মাস্টার নিয়োগে গত ১০ বছরে কতটুকু এগিয়েছে সে প্রশ্নের তো জবাব দিতে হবে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে রেলপথকে আলাদা করে মন্ত্রণালয় করা হলো। রেলমন্ত্রী কোরবানির ঈদের আগেও যা বলেছেন, একই কথা যদি বলেন ঈদের পরও তাহলে ‘সততার গুণও, বেশি কচলানোয় তিতায় পরিণত হবে। মেগা প্রজেক্ট নিয়ে বিগ লেকচার চলে, কিন্তু ছারপোকা মারতে না পাড়লে চকচকে পাঞ্জাবি আর চুমকি লাগানো পাগড়ীর রোশনাই ম্লান হবে দ্রুতই। তাই বলি মুজিব ভাই, সবার আগে ছারপোকা মারুন।
আর যানজটের জন্য বিশাল সার্কুলার, রেল চালুর আগে রাজধানীর ভেতরে ২৭টি রেলক্রসিং, যা যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে তা দূর করেন। ঢাকার ট্রাফিক পুলিশ, এসব বাধাকে যানজটের অন্যতম কারণ বলছে। বনানীতে যে রেললাইন ওভার পাস করা হয়েছে, এ রকম আরও কয়েকটা ওভার পাস করতে অসুবিধা কোথায়? রেলমন্ত্রী সম্পদের অভাবের কথা বলছেন।
ডেমু ট্রেন কেনাকাটায় যে অপচয় হয়েছে, তার খোঁজ না নিয়েই আবার কেন একই ধরনের ডেমু ট্রেন কেনার তোড়জোর চলছে? প্রশ্ন অনেক, তবু বলি সফল হোক রেলমন্ত্রী। রেল প্রিয় হোক দেশবাসীর। ডিজিটাল যুগে অনলাইনে টিকিট বিক্রীর একটা সুন্দর ব্যবস্থা করেন। টিকিট কেনার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপচয়ের বিলাসিতা কেন করব আমরা?
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক




Leave a Reply