রবিবার ১১ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

কিছু সুযোগ-কিছু অসুবিধা নিয়েই পে স্কেলের গেজেট


NEWSWORLDBD.COM - December 12, 2015

Pay-Muhith-বাংলাদেশের পে স্কেলের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত অষ্টম বেতন কাঠামো ছাপার প্রক্রিয়া চলছে। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যদিয়ে শেষ মুহুর্তেও কিছু পরিমার্জন করা হলেও এতে রয়েছে বেশ কিছু অসুবিধা। এতোদিন ধরে চলে আসা নিয়মগুলোর কিছু পরিবর্তনও হয়েছে। এতে অনেকের সুবিধা হলেও বিড়ম্বনাও হবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

নয়া এই পে স্কেলে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের মধ্যে। চাকরিতে যোগদানের ক্ষেত্রে ক্যাডার কর্মকর্তাদের আগের মতো অষ্টম গ্রেডে রাখা হলেও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের একধাপ নামিয়ে দেওয়া হয়েছে নবম গ্রেডে।

গেজেট জারি করার জন্য সারসংক্ষেপ তৈরি করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের অনুমোদনের পর তা গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সইয়ের জন্য। এটি হয়ে গেলেই ছাপানো শেষে এর গেজেট হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই নয় পে স্কেলে ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সবার টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে বাতিল করা হয়েছে চলতি ২০১৫ সালেরসব ধরনের ইনক্রিমেন্ট। ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে প্রতিবছর এই ইনক্রিমেন্ট যোগ হবে। এই হিসাবে অন্তত দশলাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী কিছুটা হলেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিকে অবসরোত্তর ছুটিকালীন (পিআরএল) সুবিধা এক বছর থেকে বাড়িয়ে দেড় বছর করা হয়েছে। এছাড়া পেনশন সুবিধা বাড়িয়ে করা হয়েছে মূল বেতনের ৯০ শতাংশ।

সরকারি বাড়িতে থাকা চাকুরেদের বাড়িভাড়া ভাতার পাশাপাশি মূল বেতন থেকে যে সাড়ে ৭ শতাংশ অর্থ কাটা হতো, তা আর কাটবে না সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি ডিসেম্বর মাসের বেতন আগামী জানুয়ারিতে নতুন কাঠামোতে পাবেন চাকুরেরা। ওই সময়ই একসঙ্গে পাবেন গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসের বকেয়া বর্ধিত বেতন। তবে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য সব ভাতার বর্ধিতাংশ মিলবে আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে। এর মধ্য দিয়ে নতুন কাঠামোয় বেতন পাওয়ার দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষ হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের।

এদিকে ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ ছিল, যে যেদিনই যোগদান করুক না কেন, প্রতিবছর ১ জুলাই ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে সরকার। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধিমালা ১৯৮৫ অনুযায়ী একজন কর্মচারীর শাস্তি হিসেবে বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা হয়। তাই এভাবে ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা আইনানুগ হয়নি। তাঁদের মতে, এ ক্ষেত্রে চলতি বছরের জন্য প্রত্যেককে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার পর আগামী ১ জুলাই বর্ধিত একটি করে ইনক্রিমেন্ট দিয়ে তা কার্যকর করা যেত। এতে সরকারের খরচ হতো বাড়তি ৯০ কোটি টাকা।

বাড়িভাড়া ছাড়াও মূল বেতনের ৭.৫% কর্তন রহিত :
সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের মধ্যে যাঁরা সরকারি বাসায় থাকেন, তাঁদের বাড়িভাড়া ভাতার পুরোটা এবং মূল বেতনের ৭.৫ শতাংশ অর্থ বাড়িভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ কেটে নেয় সরকার। ভেটিং হওয়া নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে ওই সব বাড়ির ভাড়া বাবদ শুধু চাকরিজীবীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা কেটে নেওয়া হবে। মূল বেতনের ৭.৫ শতাংশ নেবে না সরকার। ফলে সরকারি বাড়িতে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাশ্রয় হবে।

পিআরএল সুবিধা ১৮ মাস :
বিদ্যমান বেতন কাঠামোতে পিআরএল সুবিধা এক বছর রয়েছে। অর্থাৎ অবসরে যাওয়ার আগের এক বছর ছুটিতে থেকেও চাকরির সময়ের মতোই সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা এক বছর ভোগ করতে পারেন চাকরিজীবীরা। নতুন বেতন কাঠামোতে এটি বাড়িয়ে দেড় বছর বা ১৮ মাস করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে অবসরে যাওয়ার দেড় বছর আগে থেকে ছুটিতে থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন তাঁরা।

পেনশন বেড়ে মূল বেতনের ৯০% :
নতুন বেতন কাঠামোতে অবসরে যাওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা তাঁদের সন্তানদের পাওয়া পেনশন সুবিধা বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ অবসরে যাওয়ার আগে তিনি যে গ্রেডে ছিলেন, ওই গ্রেডের মূল বেতনের ৯০ শতাংশ অর্থ প্রতি মাসে পেনশন হিসেবে পাবেন। বিদ্যমান কাঠামোতে এটি ছিল মূল বেতনের ৮০ শতাংশ।

ক্যাডার অষ্টম, নন-ক্যাডার নবম গ্রেড :
প্রথমবারের মতো নতুন বেতন কাঠামোতে চাকরিতে যোগদান পর্বে ক্যাডার ও প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করা হয়েছে। এত দিন উভয় ধরনের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তারাই বেতন স্কেলের অষ্টম গ্রেডে যোগদান করতেন। নতুন বেতন কাঠামোতে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য অষ্টম গ্রেডে এবং নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের নবম গ্রেডে যোগদানের কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই সরকারের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত গবেষক ও বিজ্ঞানী এবং নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তার মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের ধারণা, এই বৈষম্যের ফলে গবেষণা কিংবা বৈজ্ঞানিক কাজে মেধাবীরা আর আসবেন না।

১০ ও ১৬ বছরে অটো আপগ্রেডেশন :
টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না থাকায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেডে পৌঁছানোর সুবিধা বাতিল হয়ে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় তাঁদের জন্য চাকরি শুরুর প্রথম ১০ বছরে কোনো পদোন্নতি না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরে আরো ছয় বছর চাকরি শেষেও একইভাবে উচ্চতর গ্রেডে যেতে পারবেন তাঁরা। তবে ব্লকড পদে কর্মরত ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি কিংবা উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার পদ্ধতি কী হবে, সে সম্পর্কে নতুন বেতন কাঠামোতে কিছু বলা নেই বলে জানা গেছে। সাধারণত, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিয়মিত পদোন্নতি পান। অন্যান্য ক্যাডার কিংবা ব্লকড পদে কর্মরত চাকুরেদের পদোন্নতির সুযোগ কম। এত দিন তাঁরা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পেয়ে উচ্চতর গ্রেডে বেতন পেতেন। তাঁদের জন্য করণীয় নির্ধারণ করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নীতিমালা প্রণয়ন করবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

জটিলতা শিক্ষকদের জন্য:
এদিকে জটিলতা বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে। শিক্ষকদের অপত্তির অনেকগুলোরই স্পষ্টত কোনো সুরাহা ছাড়াই আইন মন্ত্রণালয় থেকে গত বুধবার সন্ধ্যায় ভেটিং সম্পন্ন করে ফাইল (নথি) পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি পূরণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) পদ সৃষ্টি করতে বলা হয়েছে। সরকারি কলেজের শিক্ষকদের চতুর্থ গ্রেডের ওপরে ওঠার দাবি সুরাহা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। আর এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের আয়ের অর্থ সরকারি কোষাগারে নেওয়ার প্রক্রিয়া বের করার পর এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নতুন কাঠামোতে বেতন দেওয়া হবে। নানা সুবিধাসহ প্রায় শতভাগ বেতন বৃদ্ধির এই কাঠামোর কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি ছিল বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের।

পে স্কেল নিয়ে আরো জানতে পড়তে পারেন:-

o বেতন স্কেল: বৈষম্য ছাড়াও অসঙ্গতি পদে পদে

o সরকারি চাকুরেদের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ

o নয়া পে স্কেল: কার বেতন কত দাঁড়াচ্ছে (বিস্তারিত)

o

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.