বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

এবার চট্টগ্রামের জঙ্গি আস্তানায় রাইফেল, সেনাবাহিনীর পোশাক

Jongi_Arrest_Db_ctg4ঢাকার পর এবার চট্টগ্রামের এক বাসায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির আস্তানা সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে স্নাইপার রাইফেল, বিস্ফোরক, গুলি ও সেনাবাহিনীর পোশাক। চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর-দক্ষিণ) বাবুল আক্তার জানান, হাটহাজারি থানার আমান বাজার এলাকায় হাজী ইছহাক ম্যানসন নামের ওই দুই তলা বাড়ির নিচতলায় শনিবার রাত দেড়টা থেকে রোববার ভোর ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালান তারা।

তিনি জানান, গত ৫ অক্টোবর খোয়াজনগর এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার জেএমবি সদস্যদের বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে নাহিম, রাসেল ও ফয়সাল নামে ২৫ থেকে ২৭ বছর বয়সী তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে রাসেলের কাছ থেকে আমরা ওই আস্তানার সন্ধান পাই। পরে তাদের নিয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক, গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাওয়া যায়।

এর মধ্যে একটি এমকে-১১ স্নাইপার রাইফেল, ২০০ গুলি, দুটি ম্যাগজিন, দুই কেজি জেল এক্সপ্লোসিভ, ১০টি ডেটোনেটর, সেনাবাহিনীর ১২ সেট পোশাক, একজোড়া মেজর পদের র‌্যাংক ব্যাচ এবং বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে।

অভিযানে থাকা গোয়েন্দা পুলিশের বোমা নিস্ক্রিয়করণ ইউনিটের এসআই সন্তোষ চাকমা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি স্নাইপার রাইফেলটি অত্যাধুনিক। চট্টগ্রামে এ ধরনের রাইফেল এর আগে আর উদ্ধার হয়নি।”

বাবুল আক্তার জানান, ওই বাসা ভাড়া নিয়েছিল জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার ফারদিন। আগে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের কাছে ওই আস্তানার কথা জানা গেলেও ওই বাসার ঠিকানা আগে পুলিশ জানতে পারেনি।

এর আগে গত বুধবার মধ্যরাত থেকে ঢাকার মিরপুরের এক বাড়িতে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়ে জেএমবির তিন সদস্যসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বাসায় পাওয়া যায় ১৬টি হাতে তৈরি গ্রেনেড, ককটেল ও ‘সুইসাইড ভেস্ট’।

‘পরিচয় গোপন করে’ বাসা ভাড়া:
হাটহাজারি থানাধীন আমান বাজার এলাকায় হাজী ইছহাকের ওই বাড়ি পড়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে। চারদিকে সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ভবনটির পাশে আধাপাকা আরও কয়েকটি বাসা আছে। বাড়ির মালিক হাজী ইছহাক পরিবার নিয়ে দ্বিতীয় তলায় থাকেন। নিচতলার তিন কক্ষের বাসাটি সাত মাস আগে ভাড়া নিয়েছিলেন এক যুবক, যিনি নিজের নাম বলেছিলেন ‘নাফিজ’।

হাজী ইছহাক বলেন, “ছয় হাজার টাকায় বাসা ভাড়া নিয়েছিল সে। বলেছিল, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় তার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা আছে, পরিবার নিয়ে এখানে থাকবে। দেড় বছর বয়সী একটা বাচ্চা আর স্ত্রীকে নিয়ে সে বাসায় উঠেছিল। তবে মাস দেড়েক আগে স্ত্রী-সন্তানকে বাসা থেকে নিয়ে যায়। এরপর অধিকাংশ সময় বাসায় কেউ থাকতো না। নাফিজ মাঝেমধ্যে আসতো, বাকি সময় তালা লাগানো থাকতো।”

বাড়ির মালিক জানান, প্রায় মাস খানেক বাসাটি খালি থাকার পর সপ্তাহ দুই আগে ‘নাফিজ’ এসে ভাড়া পরিশোধ করেন।

বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় ‘নাফিজ’ একটি মোটর সাইকেল নিয়ে এলেও পরে আর সেটি দেখা যায়নি বলে জানান ইছহাক। তিনি জানান, ‘নাফিজ’ এমনিতে আশপাশের কারও সঙ্গে কথা বলতেন না। তার বাসায়ও বাইরের লোক তেমন একটা আসত না। মাস খানেক আগে ২৫/২৬ বছর বয়সী এক যুবক ওই বাসায় এলে তাকে ‘নাফিজ’ চাচত ভাই এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা বাবুল বলেন, “ফারদিন পরিচয় গোপন করে নাফিজ নামে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। পুলিশ তাকে খুঁজছে।”

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *