বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয় প্রতিভা সেলিম আল দীনের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী ১৪ জানুয়ারি। গদ্য-পদ্যের ভেদাভেদ লুপ্ত করে সাহিত্যের আকারে একই পাত্রে কবিতা, গান, ভাস্কর্য, নাটক ও উপন্যাসের বিস্তৃতি ধারণ করতে চেয়েছিলেন এই কালজয়ী শিল্পী। সেলিম আল দীন স্মরণে তাঁর দিনলিপি থেকে পুনর্পাঠ…
প্রতিদিনের আমার আমি’র বিন্দু বিন্দু ক্ষরণ এই টুকরো লেখাগুলো। জমা হচ্ছে ক্রমে ক্রমে ক্ষরণ পাত্রে। পৃথিবীর ভোর-অকস্মাৎ দ্বিপ্রহর, কখনো সাঁঝ, কখনোবা রাতের সঞ্চরণশীল মেঘ ও তারার ঝাঁক সে পাত্রে ছায়া ফেলেছে কতোবার কতোভাবে। এ নিতান্তরূপে দিনলিপি নয়। লেখাগুলোর শিরোভাগে যে দিন-তারিখ দেয়া হয়েছে তা সে মুহূর্তের স্মরণ চিহ্ন। ভেবেছি কখনো তা হঠাৎ উল্টেপাল্টে দেখে আনন্দিত হবো যে, ঐ সময়টাতে ঐ ভাবনাটা মাথায় এসেছিল। এ দিনলিপি যে নয়, তাও নয়। কারণ এর তারিখগুলো লেখবার দিন থেকে ক্রমেই সামনে এগিয়ে গেছে। ফলে সে অনুক্রমে এর লেখকের ভাবনার একটা পঞ্জিকার সন্ধান মেলে বটে কিন্তু তা কোন পারম্পর্যে যুক্ত হবে তা আমার বোধগম্য নয়। লেখাগুলো কাব্যবর্তী_ কিন্তু কবিতা নয়। আর গদ্য যে নয়_ সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। আবার গদ্যের ঢঙটা যে লুপ্ত করতে চেয়েছি স্বেচ্ছায়_ তাও নয়। যেভাবে ভাবনার স্বেদকম্পনে নেমেছে লেখা সেভাবেই রেখেছি। ভয় ছিল_ লেখার শিল্পরীতি যদি দেখবার অনুভব করবার স্থানটা দখল করে_ তবে সৌন্দর্যতত্ত্বের আড়ালে আমি’র অন্তরছাপে উপশম হবে কৃত্রিমতার। বিশ্বজুড়ে গণশিকারিদের হত্যা নির্দেশের উচ্চকিত চিৎকার, ভূগোলজুড়ে রাষ্ট্রব্যবস্থার নাভিশ্বাস এবং এই গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের ভেতর হত্যা ও মৃত্যুর মড়কপ্লাবন_ তার মধ্যে দিনপঞ্জির ছদ্মাবরণে একান্তরূপে আপনার করে পৃথিবীকে দেখা_ একেবারে বিপরীত স্থানে গিয়ে দাঁড়ায় নাকি। তবু জানি, এ পলায়ন নয়_ বরং লেখাগুলো হয়তো একদিন এই সাক্ষ্য দেবে যে, তারা নির্জন স্থলে দাঁড়িয়ে মানুষের অপঘাতকে ঐশ্বরিক বিশ্বাসে অগ্রাহ্য করেছে। স্রষ্টার অমৃত প্রবাহ ঠিকমতোই চলেছে ভোর ও সাঁঝে_ ঋতুর আবর্তনে। বৃক্ষ তার স্বভাব পাল্টায়নি_ কুঠার হাতে এগিয়ে গেলে সে এখনো শিকড়-বাকড় তুলে হত্যার ভয়ে পালায় না। ক্ষুদ্রতম তৃণেও জাগে মঞ্জরির গর্ভথোড়। মেঘের সার চলেছে ভাদ্র্র ফুরানো দিনে_ ঋতুর পেটরা খুলে সাজবে হেমন্তনী। সব ঠিকঠাক আছে_ বলেছে কিছু মানুষ। এতটা বদলেছে যে পুরান কথার পিশাচদের এখন আর পুরান কথার পৃষ্ঠায় পাওয়া যাবে না। তারা নানা বেশে নানা নামে একেবারে জলজ্যান্ত পৃথিবীর বাসিন্দা হয়ে উঠেছে। হাতে শস্ত্র-হত্যাকে সঙ্গীতজ্ঞান করে তারা। এ লেখাগুলোর ভেতর দিয়ে আমি নদী ও প্রভাত ছুঁতে চেয়েছি_ মানুষ ও নক্ষত্র দেখে নিজের বেঁচে থাকার আনন্দ যাচনা করেছি। প্রতি মুহূর্তে বুকের ভেতর যে মৃত্যু ফেনাশ্বাস ঘনায়ে ওঠে_ তাকে এড়ায়ে দেখতে চেয়েছি অদৃশ্যের অঙ্কিয়া। অনন্তর_এ লেখার পাঠকারীগণের ওপর নিরন্তর শান্তি বর্ষিত হোক।
১৩.০৫.২০০১ রবিবার
রাত্রিউনি্নদ্র রাত্রিগুলোতে গোলাপীবর্ণ লেক্সেটেনিল খেতে হচ্ছে। দূর শূন্য সৌরজগৎ থেকে সসার। সুই-এর সুতীক্ষষ্ট শীর্ষে ঝলসে উঠছে রাত। একটা শুভ্র প্রশান্তির কার্পাস সুতা এই অতলে নামিয়ে রাত্রির গভীরতা পরীক্ষা করছিলাম। সুতা নামাতে নামাতে অপরিমাপ্য। গুটাতে গুটাতে দেখি হাতে ধরা শুভ্র অংশটুকু ব্যতিরেকে বাকি সবটাতে আঠাল আলকাতরা। যাকে বলি রাত্রি। ভেতরের টানটান সঙ্গীতমুখা স্নায়ুতন্ত্রীগুলো ছিঁড়ে যদি যায়! হাওয়ায় হাওয়ায় উড়ন্ত কার্পাস ফুটি জ্যোৎস্নায় যার গর্ভে বৃক্ষবীজ বিন্দু। ভোরে দেখব সুনিদ্রার বীজাঙ্কুরে ভরে গেছে বিছানা ও বিশ্বপ্রান্তর।
২৭ মে ২০০১ [রাত্রি ২.৩০]
তীক্ষষ্ট চোখে দক্ষিণ-পূর্বাকাশে তারা দেখে ঘুমাতে যাই মধ্যরাতেরও পরে। রোমান যুদ্ধদেবতা মার্স। বিছানায় শুয়ে দেখি ভ্রু বিন্দুতে লেগে গেছে নক্ষত্রকণা। সে আর ঘুমাতে দিচ্ছে না কিছুতেই। হঠাৎ নক্ষত্রের আয়ু ঢুকে যায় নিদ্রাকাতর শরীরে। আমি ভাসতে থাকি। মিথের ফেনার ভেতর গ্রহের আনন। তারপর আলোর গতিতে আয়ু ফুরাতেও আর দেরি লাগে না। আমি দেখতে পাই, কাত হয়ে থাকা কঙ্কাল আমার বিছানায় মাংসত্বক অবিভাজ্য। তবু ভেতরে একটা কঙ্কাল তাকে আমি অন্য কঙ্কালের অভিজ্ঞতায় জানি। নিজের ভেতরের কঙ্কালকে চিত্র জাগিয়ে জানি। সে কথা বলে না; নিরুত্তর। শতবর্ষের ক্ষয় আমাকে ধুইয়ে দিয়েছে। মধ্যরাতে আমার দৃষ্টির রৌদ্রে দেখছি তাকে। এইভাবে নক্ষত্র ও নিদ্রার মধ্যস্থালিতে রোপণ করেছি নিজেকে। একটা সাদা হাড়ের কাঠামো সে। আমাকে সে দেখে নিচ্ছে, আমিও তাকে।
২৯ মার্চ ২০০২ [দুপুর]
আজ ইশরাত জাহান নিশাতের সঙ্গে আলাপ হলো। সাবলাইম থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার ত্রিশ-চলি্লশ মিনিট আগে। কিছু গুরুতর বিষয় নিয়ে কথা বলেছি নিশাতের সঙ্গে। নিজের ব্যাপারেও। নিজের লেখা, বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ এবং নাট্য বিষয়ে তো বটেই। ও ঢাকা থিয়েটারের উৎসব, সেমিনার, সম্মাননা প্রদান বিষয়ে বিস্তর প্রশংসা করছিল। তীক্ষষ্ট বুদ্ধিদীপ্ত চোখ নিশাতের_ এবং অনেক সরলও বটে। আমি বলেছিলাম যে, নাসির উদ্দীন ইউসুফ প্রায় একাই এ উৎসবের সকল কাজ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেছে। জাহাঙ্গীরনগরে থাকি বলে সার্বক্ষণিকভাবে উৎসবের কাজ করতে পারিনি। ১৯৮৪-৮৫ সালের উৎসবে কী রকম গায়ে খাটুনি দিতে পেরেছিলাম। তার তুলনায় এবার লেখাজোখার কাজ ছাড়া আর তেমন কিছুই আমাকে দিয়ে হয়নি। দলের আর যারা, পীযূষ ব্যতীত আফজাল, আসাদ কাউকেই সরাসরি পাওয়া গেল না। পীযূষের কথা অবশ্য আলাদা। ও যেমন ও তেমনি, যেটুকু করেছে_ অন্তত আমার চেয়ে বেশি। মাঝে-মধ্যে ভিডিও শুটিংয়ের জন্য অনুপস্থিত থেকেছে। শুটিংটা আমারই নাটকের। কাজ করতে করতে বাচ্চু প্রায় নির্ঘুম, অবিশ্রান্ত হয়ে উঠেছিল। তা প্রায় সব দায়িত্ব শেষ অবধি দলের প্রধান হিসেবে ওর ওপর এসে পড়েছিল_ এমন যে, দেখে মনে হলো, হাজার দেড় হাজার মোবাইল ফোন_ একাই ও করেছে। শেষমেশ সবকিছুতেই ও ক্ষিপ্ত হতে থাকে। সেটি আবার বাইরে থেকে বুঝবার উপায় নেই। দু’একবার আমার উপর মাল্টিপল বম্ব হয়েছিল_ তবে আমি তা থেকে কৌশল হিসেবে হাসি-গাম্ভীর্য পাল্টা ক্রোধের দ্বারা আত্মরক্ষা করেছি। নিশাতের সঙ্গে আলাপ হয়েছে অন্য বিষয়ে। আমার ব্যক্তিগত জীবনের সাংসারিক ও পার্থিব ব্যর্থতার জন্য দায়ী করি লেখার জন্য মাত্রাতিরেক দুঃসাধ্য পরিশ্রমকে। একটা সময় ছিল, যখন দেখা গেছে, আমি উন্মত্তের মতো লিখছি_ শকুন্তলা থেকে এই পর্ব-পালা। ওই নাটকটি লিখেছি সতেরো-আঠারো বারের মতো। কিত্তনখোলা, কেরামতমঙ্গল নাটকে গ্রামের পর গ্রাম দেখে বেড়িয়েছি, নোট রাখছি। শিথানের কাছে সাদা কাগজ-কলম রেখে ঘুমাতে গেছি। একটা চরিত্র, একটা ঘটনা যেমনি মাথায় এলো, অন্ধকারে তা খসখস করে লিখে ফেলছি। এই করে কোনো কোনো রাত এমন হয়েছে যে, মধ্যরাত কেটে গেলেও ঘুম আর আসেনি। চাকাতে পাঁচদিন সময় লেগেছে এবং তার মধ্যে নাওয়া-খাওয়ার কোনো ঠিক-ঠিকানা ছিল না। হয়তো গোসলটা করেছি রাতে। খাবার খাচ্ছি মনে পড়লে। এই করে শত ভোর এসে গেছে, লেখার শিউলি ফুটবে_ এই দুরাশা। স্নায়ুর ওপর এই অত্যধিক চাপ, আমাকে সংসারের দায় থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গেছে। মা গেছেন, বাবা, বড় দুলাভাই, পিটপুবান মেঝবোন। নিজের অকাল প্রয়াত পুত্রের মুখ দেখেছি ভুল জন্মের রক্তলালা মাখানো নিথর শরীর। ভেবেছি, খোদার অমৃত স্বাদ পাবো লেখার ভেতর দিয়ে। আর তা-ই শোকজয়ী শক্তি দেবে আমাকে। আমাকে নিয়ে কাছের জনদের ভুল বোঝাবুঝি আমি নিরসন করব কী করে? এইসব কথা নিশাতকে বলতে বলতে আমার বুকের কোনা একটু একটু করে ভাংছিল। চোখ প্রায় ভিজে উঠেছিল।
১৭ মে ২০০২
আজ জ্যৈষ্ঠের এক কি দুই। ক্যাম্পাসে দুঃসহ গরম। প্রতি বছরই এ রকম গরমে ভাবি, একটা এয়ারকুলার কিনব। কিন্তু কেনা হয় না। ভাবি যে, যাক না এ বছরটা আর দশজনের মতো ফ্যান ঘুরানোর ঘূর্ণিতালের নিচে। ঘামতে ঘামতে ভাবি, কাটুক না এভাবেই। প্রকৃতির কঠোরতম রূপকে এতটা আড়াল করলে জীবনীশক্তিতে একটা ভাটা এসে যেতে পারে। ভোরে রোদ এতোটা সোনা; মনে হয় শরত বুঝি। নির্মেঘ উদয় দিগন্তে সুবর্ণপুর সূর্য জ্বলে উঠছে। আর এরই মধ্যে ক্যাম্পাসের জারুল রাধাচূড়া কৃষ্ণচূড়া_ মেহগনির পাতা কাঁঠাল গাছের পাতার ছাউনি ঘর ঝকোমকো। জারুলের বেগুনি রঙটা যৌবনের শুরুতে আমাকে তাড়িয়ে বেড়াতো। মনে হতো, এই রঙ নিরন্তর পান করি। পৃথিবীর সব রঙকে এই ফিকে রঙের কাছে তুচ্ছ মনে হতো। শকুন্তলা লেখার অনুপ্রেরণাটাও এই রঙ থেকে পেয়েছি। মনে করেছি, কালিদাস যা-ই বলুন আর গ্যেটে যেভাবেই দেখুন_ শকুন্তলা জারুল বর্ণা নারী। সেই আবেগে ওই রঙের শাড়ি পরা কাউকে দেখলেই বেশ ভালো লাগতো। কৃষ্ণচূড়া কক্ষনো আমার প্রিয় ফুল ছিল না। এত বেশি ফুল এক একটা গাছে ফুটলে মনে হতো ফুলের চেয়ে প্রগলভতা বেশি। ভালো লাগতো রাধাচূড়া_ সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বার সময়। রঙটা ভালো লাগবার কারণ, ওর মধ্যে শীত হেমন্ত প্রান্তরে ফোটা সর্ষে ফুলের রঙের একটা আভাস আছে। কিন্তু যে কথা বলবার জন্য এত কথা বলা, তা হলো প্রচ গরমে, টকটকে নীলাকাশের নিচে এতটা খরতাপে এইসব গ্রীষ্মপুষ্পের উজ্জ্বলতা যেন বেড়েই চলেছে। মানুষের কাছে যে গরম এতটা দুঃসহ তা ওদের জন্য যেন বা প্রাণরসায়ন। আমরা সূর্যের প্রতি রুষ্ট হই কিন্তু তারা উৎফুল্ল। কেন। এর জবাব, মানুষের বৃক্ষ স্বভাব থেকে ক্রমেই দূরে চলে যাওয়া। কিংবা মানুষকে এই কথা জানাতে যে, বৃক্ষের নির্যাস যে ফুল_ নানা বর্ণ_ সে শরবর্ষী রৌদ্রের ভিতরেই পুষ্ট হয়। আর মানুষ তার শরীরে বাকলের পর বাকল চাপিয়ে কৃত্রিম ও পরাজিত। অথবা, এইসব আদিগন্ত লাল বেগুনি হরিদ্রা বর্ণে ভরে দেয়া ফুল এ কথা জানাতে চায়_ এই যে সেলিম, তোমার ফোটানো ফুল কই আগত মধুমাসে? চাঁদের তৃতীয়া কি চতুর্থী। একটা বিশাল বিমান খুব নিচ দিয়ে উড়ে গেল। দূরে সন্ধ্যাতারা। আহা, এই সন্ধ্যাটা যদি কালীগঙ্গার তীরে কোনো একটা গঞ্জের ঘাটে কাটাতে পারতাম!
২১ মে ২০০২ রাত্রি ১২টা
আজ হাঁটবার সঙ্গী ছিল আমার মেয়ে কাজরী, সঙ্গে রুবাই উল্লাস। মসলিনের গড়ন বুনন নিয়ে দীর্ঘ আলাপ হলো। আকাশে জেট প্রবাহ পূর্ব সাগরের জলকণা ভর্তি মেঘকে ফিনফিনে করে দিয়েছে। নিষ্ফম্ফল মেঘ ক্রমাগত দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ থেকে ঘড়ির কাঁটার উল্টা দিকে চলেছে। ভয়ঙ্কর ভ্যাপসা গরম। প্রকৃতির এই দিকটা চোখেই পড়ে না যখন শ্যামলতা জাগিয়ে মেঘের শস্যরা মানচিত্রজুড়ে ঝরতে থাকে। আজ আকাশে পাটকিলে বর্ণ ধরেনি, আজ রাধাচূড়া কৃষ্ণচূড়ার রঙের পল্গাবন চোখে নেই। চোখ কেবলি ঊর্ধ্বাকাশে ঊষর মেঘের ঝটিকা প্রবাহে চোখ রেখে চাঁদ ভুলে যেতে চায়। বুদ্ধ পূর্ণিমা এবার জ্যৈষ্ঠে এসে ঠেকেছে। প্রকৃতি একদিন মানুষের বিরুদ্ধে যাবে। কেউ রুখতে পারবে না। আকাশের অমোঘ নিয়ম আর বিপরীতে একেবারে ভুবনজোড়া চৌকাঠে নাড়া দেয়া মানুষ। দেখ দেখ, কী ঊষরতা মেঘ ও বৃষ্টির আশাভ্রম জাগাচ্ছে! বোধকরি আমার মনের ভেতর ধূসর স্বচ্ছ মেঘ দেখেই মসলিনের কথা মনে এসেছিল। সঙ্গী শিক্ষার্থীদের জানালাম কীভাবে বোনা হতো তা, আর্দ্রক বর্ণ মসলিন, কী ধূম্রছায়া বর্ণ, সোনা পোকার ডানা লাগানো মসলিন! অনাঘ্রাত মুঘল কুমারী হয়ে ওঠে সেই দূরশ্রুত কাল। আর এখন বাংলাদেশের বুনন শিল্পীরা মুক্তবাজারের দরজি। আজ মাসুমের সঙ্গে দেখা। বলল, না। ও মঞ্চনাটক লিখছে না। জীবিকার জন্য টিভি নাটক ছায়া-ঘড়ি লিখছে। দুঃখ পেলাম। পরে ডেনমার্কের এক ভদ্রলোক মার্টিনের সঙ্গে দেখা। ঢেঁকিছাঁটা চাল কিনেছি। কবি ফরহাদ মজহারের প্রবর্তনা থেকে। একবার অ্যাটাক হবার পরও তারেক শাহরিয়ার সিগারেট খাচ্ছিল। মারব কিন্তু বলে ভয় দেখালাম। ওর দুটো চোখ কিছুতেই বস্তুবিচারী নয়। সে যেন আকাশচারী। বাইরে দেখবার ছলে ভেতরটা দেখে নেয়। এ দৃষ্টিটা নাসির উদ্দীন ইউসুফের মধ্যেও আছে। তখন ওরা অন্য এক আলো দেখছে এ রকম মনে হয়। লেখকের হাত নয়; চোখই তার সৃষ্টির আদ্যন্ত সাক্ষী_ এমনকি হোমার, মিল্টনদেরও। তারা দেখার চোখকে বুকে ও মগজে পুরে লিখতেন। ঢেঁকিছাঁটা বিরুই চাল। শাদা ভাতের মতো সাদাসিধে নয়। এ ধরনের চালের সঙ্গে ভর্তা, ভাজি, সুক্ত, দোপিঁয়াজি, শাক, শুঁটকি ভালো চলে।




Leave a Reply