মেরী রাশেদীন। সংগীত, আবৃত্তি ও উপস্থাপনা শিল্পের প্রতিটি অঙ্গনেই পেয়েছেন সমান সফলতা। একজন সফল আয়োজক হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছেন দেশ-বিদেশে। তার বাবার ইচ্ছা ছিল মেয়েকে গান শেখাবেন। তাই শিশু মেরী একদিন বাবার কণ্ঠে সূর মিলিয়ে সঙ্গীত অঙ্গনে পা বাড়ান। পরবর্তীতে তিনি বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে ৭ বছর রবীন্দ্র সঙ্গীতের তালিম নেন। সেই অল্প বয়সেই তিনি অনুভব করেন সঙ্গীতের পাশাপাশি কবিতা, কথা এবং বাচনিকতার প্রতি তার দুর্বলতা। তাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা জীবনে পারফর্মিং আর্টস সেন্টার এবং মুক্তকণ্ঠে তিনি শুরু করেন আবৃত্তি এবং নাট্যচর্চা। সেই থেকে শুরু সংস্কৃতি অঙ্গনে পথ চলা। এরপর তিনি বিভিন্ন মঞ্চ এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্রের একজন তালিকাভুক্ত ইংরেজি সংবাদ পাঠিকাও ছিলেন।
বর্তমানে কানাডা প্রবাসী মেরী টরন্টোর মঞ্চ এবং টেলিভিশনের একজন নিয়মিত আবৃত্তিশিল্পী এবং উপস্থাপিকা। কবিতার গভীর পাঠ ও অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলা কবিতার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে যথাযথভাবে প্রবাসে তুলে ধরার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে টরন্টোতে গড়ে তুলেন আবৃত্তিকেন্দ্রিক সংগঠন ‘বাচনিক’।
২০১১ সালে বাজারজাত হয় তার আবৃত্তির তিনটি অ্যালবামÑ ময়ূর পঙ্খী, পরিচয় ও ‘অনন্ত স্বপ্নের উৎস’।
সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত আবৃত্তি মেলা থেকে জনপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পী মাহিদুল ইসলামের নির্দেশনায় ‘জলঝর্ণার ধ্বনি’ নামে একটি অ্যালবামটি প্রকাশিত হয়েছে। এটি এই আবৃত্তিশিল্পীর চার নম্বর আবৃত্তির অ্যালবাম। এই অ্যালবামে মোট ১৭টি কবিতা রয়েছে।
নির্দেশনার পাশাপাশি মাহিদুল ইসলাম অ্যালবামটির বেশ কয়েকটি কবিতায়ও কণ্ঠ দিয়েছেন। অ্যালবামটির জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন তার স্বামী রাকিব রাশেদীন। কবিতাকে ধারণ করে সারা জীবন এর শুদ্ধ প্রয়োগে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান মেরী রাশেদীন। আর ‘বাচনিক’ নিয়ে এগিয়ে যেতে চান অনেক দূরে।
‘জলঝর্ণার ধ্বনি’ অ্যালবামে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সৈয়দ শামসুল হক, রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লা, জীবনানন্দ দাশ, আসাদ চৌধুরী, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, তুষার গায়েন ও খোন্দকার আশরাফ হোসেনের কবিতা।



Leave a Reply