পুলিশি তদন্তে আদাবর থানার এসআই রতন কুমার হাওলাদারের বিরুদ্ধে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টার সত্যতা মেলেনি। তবে বিচারবিভাগীয় তদন্তে ঠিকই অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। আদালতের নির্দেশে গঠিত বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে ওই ঘটনায় এসআই রতনের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে নিপীড়ন ও হয়রানির তথ্য পাওয়া গেছে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই রিপোর্টে রতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী ১ ফেব্রুয়ারি শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। বিচারবিভাগীয় তদন্ত শেষে মঙ্গলবার আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এর আগে সোমবার ডিএমপি সদর দফতরের করা তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্টে ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে উল্লেখ করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৩১ জানুয়ারি এসআই রতন ওই ছাত্রীকে তল্লাশির নামে আটক ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেয়। রতন একটি দোকানে নিয়ে ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নসহ কুপ্রস্তাব দেয়। এই অভিযোগ পাওয়ার পর ১ ফেব্রুয়ারি এসআই রতনকে প্রথমে প্রত্যাহার ও পরে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মামলা দায়েরের পর ছাত্রী আদালতে জবানবন্দিতে বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আদাবরের বাসায় রিকশাযোগে ফিরছিলেন। তার রিকশা মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদের কাছে পৌঁছলে আদাবর থানার এসআই রতন তাকে রিকশা থেকে জোর করে নামান। সেখানে তার ব্যাগ তল্লাশি করতে যান। তিনি জনসম্মুখে ব্যাগ তল্লাশির দাবি করলে পুলিশ তাকে শিয়া মসজিদের উল্টোপাশে একটি ইলেকট্রনিক্সের দোকানে নিয়ে যায়। সেখানে ছাত্রীকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর হুমকি দেয়। এতে ছাত্রীটি ভয় পেয়ে গেলে রতন তাকে কুপ্রস্তাব দেন। ওই ছাত্রী মোহাম্মদপুর এলাকার এক ছাত্রদল নেতার স্ত্রী।


