মস্তিষ্কে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা জনপ্রিয় অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতির মরদেহ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নিজ বাড়িতে আনা হয়েছে। মরদেহটি দত্তরপাড়া জামে মসজিদ মাঠে রাখা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়ি উপজেলার দত্তরপাড়া জামে মসজিদের মাঠে মরদেহটি আনা হয়। দিতির বড় ভাই মনির হোসেন জানান, সোমবার বাদ জোহর দত্তরপাড়া জামে মসজিদের মাঠে নামাজের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। পারিবারিকভাবেই এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে জনপ্রিয় অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতির মরদেহ আসার পর থেকেই নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দিতির মরদেহ দেখতে সহকর্মী, বন্ধুবান্ধবসহ এলাকার শত শত নারী-পুরুষ ভিড় জমায়। সেখানে পরিবারসহ আত্মীয় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। সোনারগাঁয়ের দত্তপাড়া গ্রামের মৃত আবুল খলিফার চার ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে তৃতীয় হলেন দিতি। দিতি ছোট বেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। আশির দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে পা রাখেন দিতি। দিতি ছাড়াও তার বড় ভাই মনির হোসেন ও পারভেজ দু’জনই গান গাইতেন। ছোট বোন নাসরিন একসময় মডেলিং করতেন। আরেক ভাই আনোয়ার ছবি আঁকার সঙ্গে জড়িত।
১৯৭৪ সালে দিতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ সোনারগাঁও জিআর ইনস্টিটিউশনে। এখানে পড়াশোনার পাশাপাশি দিতি নিয়মিত গান গাইতেন। মূলত গায়িকা হিসেবেই স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি ঘটে। ১৯৭৯ সালে সোনারগাঁও জিআর ইনস্টিটিউশন থেকে এসএসসি পাশের পর দিতি পড়াশোনার সুবাদে চলে যান ঢাকায়। সেখানে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান গাওয়ার পাশাপাশি অভিনয়ে জড়িয়ে পড়েন। একসময় নায়িকা হিসেবে শক্ত অবস্থান দখল করেন বাংলা চলচ্চিত্রে। একের পর এক ব্যবসাসফল ছবির মাধ্যমে দিতি জয় করে নেন দর্শক হৃদয়। সর্বশেষ টিভি নাটকেই বেশি নিয়মিত ছিলেন তিনি



Leave a Reply