বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

চুরির অপবাদে নির্মম মৃত্যুর শিকার হল শিশু

faruma-companigonj_11283_1461827320মাত্র ২৩০ টাকা চুরির অপবাদ ও নির্যাতনে নির্মম মৃত্যুর শিকার হল চতুর্থ শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থী। তার নাম ফারুমা আক্তার (১১)। সে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী ও চরকাঁকরা গ্রামের দিনমজুর সাহাবুদ্দিনের মেয়ে।

বুধবার বিকালে পুলিশ চরকাঁকরা গ্রামের নাডাগো বাড়ির নিজ ঘর থেকে ফারুমার লাশ উদ্ধার করে।

পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে হত্যা করে ঘরে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। এসময় পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিলেন না।

শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সকালে ফারুমা প্রথম সাময়িক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা দিতে স্কুলে যায়। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ফারুমার বাড়ির ভাবী সম্পর্কিত মোস্তফার স্ত্রী মুন্নি বেগম স্কুলে গিয়ে শিশুটির বিরুদ্ধে স্কুল শিক্ষিকা তপতি নাথকে তার ২৩০ টাকা চুরির অভিযোগ জানায়।

মুন্নি বেগমের এ অভিযোগ শুনে স্কুল শিক্ষিকা তপতি নাথ ছাত্রী ফারুমাকে শারীরিক নির্যাতন ও বকাঝকা করে এবং তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে ভাবী মুন্নী বেগমের হাতে তুলে দেয়। এরপর মুন্নি তাকে নিয়ে বাড়ি যায়।

দরিদ্র হওয়ায় এসময় ফারুমার বাবা-মা কেউ বাড়িতে ছিলেন না। তারা কোনো কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন। বিকালে বাড়ি এসে ঘরের দরজার বাইরে থেকে তালা খুলে শিশুটির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায় বাবা সাহাবুদ্দিন। এসময় তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে ফারুমার লাশ থানায় নিয়ে আসে।

এদিকে এ ঘটনার পর অভিযুক্ত মুন্নি গা ঢাকা দিয়েছে। অপরদিকে স্কুল শিক্ষিকা তপতি নাথ শিশুটিকে শারীরিক নির্যাতন ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে মুন্নির হাতে তুলে দেয়ার কথা শিকার করে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিতে প্রশাসনের কাছে তদবির করছেন বলে জানা গেছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজেদুর রহমান সাজেদ জানান, শিশুটিকে হত্যা না আত্মহত্যা করেছে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দেয়া হয়নি। এজন্য ভাবী মুন্নি ও স্কুল শিক্ষিকা তপতি নাথের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি।

এদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসমাইল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি জানান, সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কুল ছাত্রীর মৃত্যুর বিষয়ে দুই ধরনের তথ্য পেয়েছি। কেউ কেউ বলেছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে আবার কারো কারো মনে হয়েছে আত্মহত্যা করেছে।

লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর বুঝা যাবে, হত্যা না আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন