চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারায় সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার আগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ‘বিভ্রান্তি তৈরি করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়েছিল’ বলে মনে করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “স্থানীয় জনগণকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘পজিটিভ’ দিকগুলো জানানো হয়নি। এর মধ্য দিয়ে তাদের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।”
এ বিষয়ে সরকারকে অবহিত করার পর নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মেজবাহ উদ্দিন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মমিনুর রশিদের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি সোমবার জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের কাছে পাঁচ পৃষ্ঠার যে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে উঠে এসেছে এই পর্যবেক্ষণ।
তদন্ত কমিটির প্রধান মমিনুর রশিদ বলেন, “বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বচ্ছ ধারণা ছিল না বলে তদন্তে দেখা গেছে।”
প্রতিবেদনে জনগণের ‘বিভ্রান্তি দূর করতে’ উদ্যোগ নেওয়ার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, বাঁশখালীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘স্থানীয় এক বিএনপি নেত ‘কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে ‘বিভ্রান্তি ছড়িয়ে স্থানীয় জনগণকে ভুল বুঝিয়েছিল’।
“এর মধ্য দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হয় বলে প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে।”
জেলা প্রশাসনের এ তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী সুপার (সদর) তরিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পিপি মনোরঞ্জন দাশ।
চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তায় গণ্ডামারার বড়ঘোনায় ৬০০ একর জমিতে ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে চট্টগ্রামের ব্যবসায়িক গ্রুপ এস আলম।
এপ্রিলের শুরুতে স্থানীয় বিএনপিনেতা লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে বসতভিটা রক্ষা কমিটির ব্যানারে স্থানীয়দের একটি অংশ এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের বিরোধিতায় আন্দোলন শুরু করে। তাদের অভিযোগ ছিল, এস আলম গ্রুপ পুনর্বাসনের সুযোগ না দিয়ে জোর করে জমি অধিগ্রহণ করছে।
স্থানীয়দের অন্য একটি অংশ ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে অবস্থান নিলে দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে গত ৪ এপ্রিল বিকালে সংঘর্ষে চারজন নিহত হন।
ওই ঘটনার পর বাঁশখালীতে তিনটি মামলা হয়, যাতে আসামি করা হয় ছয় হাজার মানুষকে। পরের প্রায় দুই সপ্তাহ উত্তেজনা চলার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসে।
গণ্ডামারা ইউনিয়নবাসী বলছেন, ভিটে ও পেশা হারানোর শঙ্কা থেকেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন তারা।
অন্যদিকে এস আলম গ্রুপ ও প্রশাসন পরিবেশ ও স্থানীয় জনগণের ক্ষতি না করেই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



Leave a Reply