বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

জুলহাজ-তনয় হত্যায় ‘জঙ্গি’ শিহাব ফের রিমান্ডে

julhas_killarজুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয়কে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ‘জঙ্গি’ শরিফুল ইসলাম ওরফে শিহাবকে হত্যা মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে অস্ত্র মামলায় আরও পাঁচ দিনের হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক বাহাউদ্দিন ফারুকী বৃহস্পতিবার শিহাবকে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করে অস্ত্র আইনের আওতায় শিহাবকে আরও দশ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন।

অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আলমগীর কবির রাজ শুনানী শেষে পাঁচ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেন।

আতালত পুলিশের এসআই শহীদ জানান, শুনানির সময় দুজন আইনজীবী রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে জামিনের জন্য আবেদন করতে এলেও ওকালতনামা না থাকায় বিচারক তাদের ফিরিয়ে দেন।

নিষিদ্ধ জঙ্গি দল আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের সন্দেহভাজন সদস্য শিহাবকে আদালতে তোলার আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মাশুকুর রহমান খালেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তার কাছে অস্ত্র পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তাকে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।”

গত ২৫ এপ্রিল কলাবাগানে বাড়িতে ঢুকে জুলহাজ ও তার বন্ধু তনয়কে কুপিয়ে হত্যার পর আনসার আল ইসলামের নামে দায় স্বীকারের খবর আসে।

ঢাকায় ইউএসএআইডির কর্মসূচি কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান (৩৫) সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক দীপু মনির খালাত ভাই। তিনি সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সাময়িকী ‘রূপবান’ সম্পাদনায় যুক্ত ছিলেন।

আর তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয় (২৬) ছিলেন লোকনাট্য দলের কর্মী। পিটিএ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ‘শিশু নাট্য প্রশিক্ষক’ হিসেবেও কাজ করতেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন হামলায় অংশ নিয়েছিল পাঁচ থেকে সাতজন।

হামলাকারীদের অস্ত্রাঘাতে ওই বাড়ির দারোয়ান পারভেজ মোল্লা আহত হন। বাধা দিতে গিয়ে আহত হন মমতাজ নামে এক এএসআই।

খুনিরা পালানোর সময় তাদের একজনের কাছ থেকে একটি ব্যাগ ছিনিয়ে রাখেন মমতাজ, যেখানে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও মোবাইল ফোন পায় পুলিশ।

জুলহাজের বড় ভাই মিনহাজ মান্নান ইমন ঘটনার দিনই কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যাতে অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়।

আর এএসআই মমতাজের ওপর হামলা এবং অস্ত্র পাওয়ার ঘটনায় অন্য মামলাটি করেন কলাবাগান থানার এসআই শামীম আহমেদ।

এরপর গত ১৫ মে কুষ্টিয়া থেকে শিহাবকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। সেদিন এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের আগে প্রায় দুই মাস ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন শিহাব।

“শিহাব আমাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। হত্যার পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা দুটি অস্ত্রের একটি (শাটার গান) তার নিজের বলে জানিয়েছে। এর আগেও আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের একাধিক অপারেশনে সে বিভিন্নভাবে যুক্ত ছিল।”

ওইদিনই শিহাবকে আদালতে হাজির করে হত্যা মামলায় ১০ দিনের হেফাজত চাওয়া হলে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

পুলিশ বলছে, গত শতাকের শেষ দিকে নিষিদ্ধ সংগঠন হরকাতুল জিহাদ(হুজি) এর সদস্য হিসেবে সিলেটে কাজ করতেন শিহাব। সে সময় মুফতি হান্নান এর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। এরপর ২০১৫ সালের মাঝামাঝি আনসারউল্লাহ বাংলা টিম এ যোগ দেন তিনি। তার দায়িত্ব ছিল মূলত অস্ত্র সরবরাহ করা।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *