পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আগামী ২৮ মে। এর আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সারা দেশ।
মঙ্গলবার এক দিনেই নির্বাচনী সহিংসতায় চট্টগ্রাম, সিলেট, মুন্সীগঞ্জ ও ময়মনসিংহে চারজন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষকে আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন- চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়ার ইসলামপুর ইউনিয়নের খতিবনগর এলাকার রমজান আলীর ছেলে মো. মহসিন (৩৬), মুন্সীগঞ্জের হোসেন্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক ও ওই গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে হানিফ (২৫), সিলেট ওসমানীনগরের একারাই গ্রামের মৃত মছদ্দর আলীর ছেলে রকিব মিয়া (৩২) ও নরসিংদী সদর থানার বাদুয়ারচর কাচারীবাজারের মৃত কেলো মুন্সির ছেলে এমদাদুল হক (২৮)।
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ইসলামপুরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর এক সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে ইউনিয়নের খতিবনগর মসজিদের পার্শ্ববর্তী স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ফজরের নামাজের পর খতিবনগর জামে মসজিদ থেকে মুসল্লিরা বের হয়ে মহসিনের ক্ষত-বিক্ষত লাশ দেখতে পায়। পরে খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
রাণীহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শামসুল হক যুগান্তরকে জানান, লাশ উদ্ধারের সময় মহসিনের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পোস্টার ও লিফলেট পাওয়া গেছে। লাশ পোস্ট মর্টেমের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দি ইউনিয়নে গণসংযোগকালে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে মো. হানিফ (২৫) নামে এক ছাত্রলীগ নেতা গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সোমবার রাতে হোসেন্দি বাজার সংলগ্ন লস্করদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরই গুলিবিদ্ধ হানিফকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থা রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে লস্করদী গ্রামে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মনিরুল হক মিঠু (নৌকা) ও মাহবুবুল হক মজনু (আনারস) সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং মজনুর সমর্থকরা মিঠুর কয়েকটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করে। এ সময় উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে হানিফ গুলিবিদ্ধ হয়। এবং পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়।
এএসপি সার্কেল সদর কায়সার রিজভী কোরেশি জানান, ঘটনার পরই হানিফকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থা রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
সিলেট
সিলেটের ওসমানীনগরে মেম্বার প্রার্থীর লিফলেট (প্রচারপত্র) বিলিকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় রকিব মিয়া (৩২) নামে একজন নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী আফতাব মিয়া সোমবার দুপুরে গণসংযোগে বের হন। এ সময় শিশুরা হুড়োহুড়ি করে লিফলেট নিতে গেলে একারাই গ্রামের দিলবর মিয়ার মেয়ে মাটিতে পড়ে আহত হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিলবর মিয়া উত্তেজিত হয়ে জাকিরকে মারধর করেন। এতে জাকির আহত হন। এরপর আহত জাকিরকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে দিলবরের ভাই রকিব রাত আটটার দিকে তাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে ওঁৎ পেতে থাকা জাকিরের চাচাতো ভাই আখতার, রিপন ও আখলু গংরা রকিবের ওপর অর্তকিত হামলা চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় রকিবকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রকিব মারা যায়।
ওসমানীনগর থানার ওসি আব্দুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ)
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে শফিকুল ইসলাম সোহাগ ফকির নামে এক যুবললীগকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
সোমবার রাত ১০টা দিকে উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নে চরবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ প্রার্থী চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন বিপ্লবের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন সোহাগ। এ সময় পেছন থেকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে সোহাগকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাগলা থানার ওসি চাঁন মিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
নরসিংদী
নরসিংদী শহরতলীর হাজীপুর ইউনিয়নে এমদাদুল হক এবাদ নামে এক যুবককে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার রাত ৩টার দিকে সদর থানার বাদুয়ারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে বাদুয়ার চর কাঁচা বাজারে যায় এবাদ। এ সময় ইউপি সদস্য প্রার্থী আলতাফ হোসেনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন তিনি। রাতে প্রচারণা শেষে আলতাফ হোসেনকে তার বাড়ি পৌঁছে দিয়ে নিজ বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন এবাদ।
রাতে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মঙ্গলবার সকালে বাদুয়ার চর গ্রামের নদীর তীরে তার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী।
আগামী ২৮মে অনুষ্ঠেয় হাজীপুর ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপর ইউপি সদস্য প্রার্থী তৈয়বুর রহমানের সমর্থকরা এবাদকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিল বলেও জানায় পরিবারের সদস্যরা।
সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক খালেদ হাসান বলেন, কী কারণে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তদন্তের পর তা বলা যাবে।



Leave a Reply