কৃষকরা যাতে ক্ষতির মুখে না পড়েন এজন্য সরাসরি তাদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেছেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের এবার কৃষকের কাছে ভিড়তে দেওয়া হবে না। কৃষকরা যাতে সরাসরি খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মীদের কাছে ধান বিক্রিতে উদ্বুদ্ধ হয় সেজন্য মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
এবার ৭ লাখ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্য ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কার্ডধারী কৃষকদের কাছ থেকেই এসব ধান কেনা হবে এবং দাম দেওয়া হবে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।
৯২০ টাকা মণ দরে গত ৫ মে থেকে ৩১ অাগস্ট পর্যন্ত সরকারিভাবে ধান কেনার ঘোষণা রয়েছে।
তবে বোরোর এই ভরা মৌসুমে কৃষকরা সরকারের কাছে নয়, ব্যবসায়ীদের কাছে কম টাকায় ৫০০ থেকে ৭০০টাকায় মণ ধান বিক্রি করছেন বলে বিভিন্ন জেলা থেকে খবর এসেছে।
সিরাজগঞ্জে ৪০০টাকায় এক মণ ধান বিক্রির খবর পত্রিকায় এসেছে, যেখানে এক কেজি গরুর মাংস কিনতে এর চেয়ে বেশি গুণতে হচ্ছে।
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল গত ২৪ এপ্রিল সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার ঘোষণা দেওয়ার পর সে সময়ও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন কৃষকরা।
সে সময় নেত্রকোণা সদর উপজেলার পাঁচকাহনিয়া গ্রামের কৃষক গফুর মিয়া বলেন, “বাস্তবে খাদ্য বিভাগ এক-দুই দিন লোক দেখানো কিছু ধান কেনার পর আর কেনে না।”
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় খাদ্য গ্রহণ নির্দেশিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, রাইস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের পাশাপাশি দেশে গম ও ভুট্টা রিসার্চ ইনস্টিটিউটও করা হচ্ছে।
দেশে এখন আর খাদ্য ঘাটতি নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এখন খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে। খাদ্য ঘাটতি না থাকায় খাদ্য রপ্তানি হচ্ছে।”
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এম বদরুদ্দোজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) প্রতিনিধি ডেভিড ডোলান, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান, বারডেমের পরিচালক অধ্যাপক নাজমুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।



Leave a Reply