বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কলকাতা বাংলাদেশের হয়নি ৩৩ কোটি টাকার লোভে

ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য।

১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগের সময় পূর্ব পাকিস্তানের ভাগে গঙ্গা নদীর পাশ দিয়ে কলকাতা শহর পর্যন্ত ছিল প্রস্তাবিত সীমানা। পূর্ববঙ্গের নেতারা দাবি ছেড়ে না দিলে কলকাতা অধুনা বাংলাদেশের ভাগে না পড়ার কোনও কারণ ছিল না। পশ্চিম পাকিস্তান তাদের ভাগে যেন লাহোর থাকে তাই পূর্ববঙ্গের নেতাদের কলকাতার দাবী ছেড়ে দিতে পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা চাপ দিয়েছিল। তাই আমাদের নেতারা কিছুটা গাই গুই করলেও দাবী ছেড়ে দেন। এছাড়াও আরেকটি বড় কারণ ছিল বলে সেই সময় জানা গিয়েছিল।

লাহোর ছাড়া আর কী যুক্তি ছাড়ানো হয়েছিল জানেন? বলা হয়েছিল পূর্ববঙ্গ কলকাতার দাবী ছেড়ে দিলে পূর্ব পাকিস্তান ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩৩ কোটি টাকা পাবে। সেই ৩৩ কোটি টাকা দিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের ঢাকাকে আমেরিকার হাডসন নদীর তীরের মতো নিউ ইয়র্ক শহরের মতো আধুনিক করা হবে!

পশ্চিম পাকিস্তানের নেতাদের আশ্বাস মতো সেই টাকা সেই টাকাতো আসেইনি, বরং, দেশ ভাগের তিন মাস পরে জানা গেল আসলে পূর্ববঙ্গকেই ৬ কোটি টাকা দিতে হবে ভারতকে। এবার তো পূর্ববঙ্গের তথা তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের নেতাদের ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা।

তবে পশ্চিম পাকিস্তানের নিউইয়র্ক বানানোর স্বপ্ন দেখানোর কৌশলটা অনেকেই ভুলতে পারেনি। যেমন ধরেন, ট্র্যানজিট দিলে যা আয় হবে তাতে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হবে। রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে ফ্লাই অ্যাশ বেচেই খুলনাবাসী একেকজন ওয়ারেন বাফেট হয়ে যাবে।

আর হাল সময়ে যুক্ত হয়েছে হবিগঞ্জে চা শ্রমিকদের উচ্ছেদ করে অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে সেই অঞ্চলে প্রচুর কর্ম সংস্থান হবে, দৈনিক ৮৫ টাকা নয় শুধু এর দশ গুণ আয় করতে পারবে চা শ্রমিকেরা; এই স্বপ্ন দেখানো।

বাঙালিদের পশ্চিম পাকিস্তানিরা ‘আবুল’ বানিয়েছিল একবার। আর এখন নিয়মিতই বাঙালিই বাঙালিদের ‘আবুল’ বানায়। পশ্চিম পাকিস্তানিদের এইসব ভাব শিষ্যদের চিনে রাখা দরকার।

বিস্তারিত জানতে আবুল মনসুর আহমেদের “আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর” পৃষ্ঠাগুলো দেখুন-

Abul Mansur Ahmed Page1Abul Mansur Ahmed Page2Abul Mansur Ahmed Page3

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *