বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

টিভি রিপোর্টের আলোচিত ওই ছাত্র জিপিএ ৫ পায়নি, মিথ্যা বলেছে

Masranga TV- GPA 5 (2)মাছরাঙা টিভিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় যেখানে বলা হয় ‘কিছু না জেনে’ জিপিএ ফাইভ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিবেদনটিতে এসএসসিতে সদ্য পাস করা ১৩ শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়। যদিও অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাছরাঙা টিভিতে সাক্ষাৎকার নেওয়া এক শিক্ষার্থী এসএসসিতে জিপিএ-২.৯৪ পেয়েছে। তেজগাঁও  সরকারি হাই স্কুলের এই শিক্ষার্থী দু’বছর দশম শ্রেণিতে থাকার পর বিশেষ বিবেচনায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সুযোগ পায়। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক শাহরিন খান রূপা নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তেজগাঁও সরকারি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহরিন খান রূপা বলেন, মাছরাঙা টিভি এ প্রতিবেদনের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। আমাদের স্কুলের রিয়াজ মাহমুদ রাকিব নামের যে ছেলের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়েছে, সে জিপিএ-৫ পায়নি। তার টেস্ট পরীক্ষার ফলও ভালো ছিল না, তাকে বিশেষ বিবেচনায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের সুযোগ দেওয়া হয়।  তাহলে কিভাবে মাছরাঙ্গা টিভি এ ছেলের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করলো। আমাদের সহায়তা নিলে যারা জিপিএ-৫ পেয়েছে তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া ব্যবস্থা করে দেওয়া যেত। যে ছেলে-মেয়ে জিপিএ-৫ পাবে তারা এত সহজ প্রশ্ন ভুল করবে না।

শাহরিন খান রূপা  বলেন, এছাড়াও টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদক এভাবে শিক্ষার্থীদের চেহারা দেখিয়ে ঠিক কাজ করেননি। কেননা এতে তাদের সম্মানহানি ঘটেবে, মানসিক ভাবে অসুস্থ হবে।

জানা গেছে, রিয়াজ মাহমুদ রাকিব তেজগাঁও এলাকাতে বসবাস করেন। তার বড় ভাই রাসেল মাহমুদ তেজগাঁও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহকারি সাংগঠনিক সম্পাদক বলেও একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

Masranga TV- GPA 5 (1)এদিকে, প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। সমাজের সচেতন মানুষ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাংবাদিক সমাজও বিষয়টির নিন্দা জানিয়েছে, জানাচ্ছে। উঠছে সাংবাদিকতার এথিকস (নীতি-নৈতিকতা) নিয়ে প্রশ্ন। তবে কেউ কেউ এ প্রতিবেদনকে শিক্ষার বর্তমান অবস্থার প্রকৃত চিত্র বলেও উল্লেখ করেছেন। প্রতিবেদনে জিপিএ ফাইভপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জিপিএ অর্থ, রণসংগীত জাতীয় সংগীত রচয়িতা, অপারেশন সার্চলাইট অর্থ, শহীদ মিনার কোথায় এসব প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়। সেসবের উত্তর তারা পারেনি এবং জবাব না দিতে পারায় তাদের লজ্জা এবং আড়ষ্টভাব প্রকাশ পেয়েছে। সামাজিক গবেষকরা বলছেন, ভিডিওতে আপত্তির মূল জায়গাটা হলো, দৃশ্যত যাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে তারা সবাই কিশোর বয়সী।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শাশ্বতী মজুমদার বলেন, এভাবে ছোট বাচ্চাদের হেনস্ত করা হয়েছে। মাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে দেশের পুরো শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা সম্ভব নয়। কয়েকজন শিক্ষার্থীর জানা-না জানা মানে  কেউ জানে না বিষয়টি এমন নয়। এতে করে অল্প বয়সী শিক্ষার্থীরা মানসিক ভাবে হেয় হবে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *