চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে সেখানকার সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম হাফিজ আখতার।
বাঁশখালীতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে ‘পেটানোর’ ঘটনায় স্থানীয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীসহ তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে মামলার জন্য ইসির অফিস আদেশ বাঁশখালী থানায় পৌঁছেছে।
মামলার বাদি ও থানার ওসি।
আজ শুক্রবার দুপুরের আগেই মামলাটি নথিভূক্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। বাঁশখালী থানার ওসি আলমগীর হোসেনকে বাদি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৫৩/৩৪৩/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন থেকে মৌখিকভাবে এবং বিকেল পাঁচটার পর লিখিতভাবে মামলা করার অনুমতি পান ওসি। যার অনুলিপি পেয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইসির লিখিত আদেশ থানায় পৌঁছেছে। ইসি থেকে মামলা হওয়ার জন্য বাঁশখালী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছে। আমি থানায় যাচ্ছি, মামলা নথিভূক্ত হওয়ার পর আপনাদের জানাতে পারব।’
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) হাবীবুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের লিখিত আদেশ আমরা পেয়েছি। এফআইআর প্রস্তুত, এখন বাদির স্বাক্ষরের পর সেটি খুব শিগগিরই নথিভূক্ত করা হবে।’
সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পছন্দমতো নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ না দেওয়ায় গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামকে স্থানীয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ডেকে নেন। তখন ইউএনও তাঁর কার্যালয়ে ছিলেন না। পরে ওই কার্যালয়ের দরজা বন্ধ করে সাংসদ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারধর করেন। এরপর ওইদিন বিকেলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈঠকে সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে বাঁশখালীর সব কটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন স্থগিত করে ইসি।
এমপি মোস্তাফিজ ওই কর্মকর্তার কাছে পছন্দমতো নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার তালিকা দিয়ে চাপ দিচ্ছিলেন। এছাড়া ওই এমপি নির্বাচন কর্মকর্তাকে জামাত-শিবিরের লোক বলেও অভিযোগ দেয়। যদিও জাহিদুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ওইদিন বিকেলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, সংসদ সদস্যের পিএস তাজুল ইসলাম তাকে একটি তালিকা দিয়েছিলেন। সেই তালিকা অনুযায়ী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগের জন্য এমপি নির্দেশ দিয়েছেন বলে তাজুল তাকে জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘ওই তালিকা অনুযায়ী আমি প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ না দেয়ায় তারা আমার উপর অসন্তুষ্ট হন। আজ (বুধবার ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আমি বাহারছড়া ইউনিয়নে ছিলাম। এমপি সাহেব আমাকে ইউএনওর কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। আমি সেখানে গেলে তিনি শুরুতেই উত্তেজিতভাবে আমাকে বলেন, অ্যাই…….(ছাপার অযোগ্য গালি) আমি যাদের দায়িত্ব দিতে বলেছিলাম, তাদের তালিকায় রাখিসনি কেন ? আমি বললাম, স্যার, আমি নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কাজ করেছি। এসময় তিনি বলেন, অ্যাই তোরা কোথায় ? …(ছাপার অযোগ্য গালি) মারতে হবে। ‘
‘তখন এমপি নিজেই আমাকে … (ছাপার অযোগ্য গালি), মা-বাবা ধরে গালি দিয়ে আমাকে চড়-থাপ্পড় দিতে থাকেন। আমি বলি, স্যার আপনি আমার গায়ে হাত দিতে পারেন না। তখন তার সন্ত্রাসীরা এসে আমাকে কিল, ঘুষি, লাথি দিতে শুরু করে। এসময় সেখানে বাঁশখালী থানার একজন এস আই ছিলেন। তিনি কোন বাধা দেননি। আমি স্যারকে (আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা) ফোন করার জন্য পকেট থেকে মোবাইল বের করলে পুলিশ কর্মকর্তা সেটি আমার কাছ থেকে কেড়ে নেন। ’
‘পরে এমপি সাহেব আমাকে বাঁশখালী ছেড়ে না গেলে মেরে ফেলার হুমকি দেন। আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে দ্রুত শহরে চলে এসেছি।’
o ছাত্রলীগের ছেলেপিলেদের বলি- এখানে এসব করার দরকার নেই: মোস্তাফিজুর


