নৃশংস খুনের শিকার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার সঙ্গে এসপি বাবুল আক্তার জড়িত-এ কথা বিশ্বাস করতে সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডের পর মিতুর স্বামী এসপি বাবুল আক্তারের জন্য দেশজুড়ে জনমনে যে গভীর সমবেদনা ও নিখাদ সহানুভূতি জেগেছিল, সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে পারছেনা মানুষ।
স্ত্রী হত্যায় বাবুল আক্তার জড়িত বলে পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে জানানো হলেও তার শ্বশুর এ কথা বিশ্বাস করেন না এবং পুরো বিষয়টিকে বানোয়াট ও মহল বিশেষের গভীর ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন, তার জামাতা শতভাগ নির্দোষ। একটি চক্র বাবুলকে চাকরি ছাড়া করতে এসব রটাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা যদি মুখ খুলি তবে সব ষড়যন্ত্র উড়ে যাবে।’ হয়তো শেষ পর্যন্ত আমাদের মুখ খুলতেই হবে।
বাবুলের শ্বশুর বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ যারা বাবুলকে জড়িয়ে নানা কথাবার্তা বলছেন তাদের বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করা হোক। তাদের জীবন যাপন ও সম্পদের খোঁজখবর নেয়া হোক। একই সঙ্গে বাবুলের বাড়িতে গিয়ে তার সম্পদ ও আসবাবপত্র খতিয়ে দেখা হোক। এসব দেখলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। কারণ বাবুল একজন সৎ ও নির্লোভ পুলিশ অফিসার। তাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে এখন নির্মম ষড়যন্ত্রের শিকার।’
এদিকে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ, তার পদত্যাগপত্র ও গ্রেফতার গুঞ্জনের প্রেক্ষিতে পুরো বিষয়টি সন্দেহের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদকেও অবিশ্বাস করছে। এ নিয়ে জনমনে ‘বিশ্বাসহীনতা’ জন্ম নিচ্ছে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের শুরুটা জঙ্গি সন্ত্রাসীদের মধ্যে ঘুরপাক খেলেও এখন খোদ মিতুর স্বামী এসপি বাবুল আক্তারকে দোষারোপ করা হচ্ছে।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র থেকে বলা হচ্ছে, সোর্স মুসার সুন্দরী স্ত্রীর সঙ্গে সংসার পাততে বাবুল আক্তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে খুন করে। আবার পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে দিন কয়েক আগে দাবি করা হয়, মিতুর পরকীয়া ঠেকাতে বাবুল আক্তার নিজেই এ খুনের পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা।
এ হত্যাকাণ্ডে নানামুখী তথ্যে শুধু গণমাধ্যম কর্মীরা নয়, পুরো দেশবাসীই এখন বিভ্রান্ত। দিন যত যাচ্ছে ততই পাওয়া যাচ্ছে অবিশ্বাস্য রকম নানা তথ্য। অনেক মানুষ মিতু হত্যায় বাবুলকে জড়ানোকে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তারা এটিকে সাজানো নাটক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবার অনেকে বিশ্বাসও করছেন। তারা বলছেন, স্ত্রী হত্যায় বাবুল জড়িত থাকার অভিযোগ অবিশ্বাসের কিছু নেই। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদে এ সব তথ্য পেয়েছে।
স্ত্রী হত্যায় এসপি বাবুল জড়ানো একটি গভীর ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে রাজধানীর পান্থপথের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা কোনভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। বউ মরার পর যেভাবে শিশুর মতো কেঁদেছে, তাকে আর যাই হউক বউ হত্যাকারী বলা যায় না।’
রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালযের ছাত্র ফাহিম রহমান জানান, ‘পুলিশ হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছেন। এটা আসলে ষড়যন্ত্র। মিতু হত্যায় বাবুল জড়িত নয়, এটা আমার বিশ্বাস।’
বাবুল আক্তারকে নিয়ে সর্বশেষ তথ্য জানতে পড়ুন:


