রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে বন্দুকধারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীল গুলিবিনিময়ের ঘটনা টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সরাসরি বা ‘লাইভ’ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এই ঘটনা জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ শুক্রবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
র্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ভেতরে থাকা বন্দুকধারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থে তাই এই ঘটনা সরাসরি না দেখানো সবার জন্য ভালো।
তিনি বলেন, ‘রেস্তোরাঁর ভেতরে কয়েকজন অস্ত্রধারী আছেন। আমরা তাদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছি।’ রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে গিয়ে কয়েকজন আটকা পড়েছেন বলেও তিনি জানান।
বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আপনাদের টাইম-টু-টাইম আপডেট দেব। এ জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই।’ জাতির স্বার্থে ঘটনাটি সার্বক্ষণিক সম্প্রচার না করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
এদিকে ঘটনাস্থলে পুলিশের বিশেষ বাহিনী ‘সোয়াট’ মোতায়েন করা হয়েছে।
গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান নামের ওই রেস্টুরেন্টে কয়েকজন বিদেশিসহ অন্তত ত্রিশজন জিম্মি হয়ে আছে বলে মনে করা হচ্ছে। বেকারির সুপারভাইজার সুমন রেজা জানান, ভেতরে আটকে পড়াদের মধ্যে অন্তত ২০ জনই বিদেশি। রেস্টুরেন্টের সুপারভাইজার জানান, হামলাকারীরা আল্লাহুআকবার বলে গুলি করে এবং বোমা ছুড়ে। তবে তাদের কারো দাড়ি ছিল না। তাদের বয়স প্রায় ২৮ এর মধ্যে।
রাত এগারোটায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গোলাগুলি চলছিল। পুলিশ দূর থেকে ওই রেস্টুরেন্টের দিকে পাল্টাগুলি ছুঁড়তে থাকে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুইজন পুলিশ এবং ভেতর থেকে ৪ জনকে জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তা পুলিশের কোনো পর্যায়েই কর্মকর্তারাই নিশ্চিত করতে পারছেন না।
এলাকাটি র্যাব, পুলিশ ঘিরে রেখেছে। ইতোমধ্যে দুইটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এলাকাটিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং রেস্টুরেন্টের আশপাশের সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।



Leave a Reply