বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা জিম বা ফিটনেস সেন্টারগুলোতে নারীদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কম বয়সী থেকে শুরু করে বয়স্ক অনেক নারীই এখন নিয়মিত জিম করছেন সুস্থ থাকার প্রত্যাশায়। ঢাকায় এমন অনেক সেন্টারে পুরুষদের পাশাপাশি একই স্থানে শরীরচর্চা করেন নারীরাও। আবার কোনো কোনো সেন্টারে নারীদের জন্যে আছে আলাদা সেকশন। যদিও বেশিরভাগ জিমগুলো এখন নারী ও পুরুষদের একই সঙ্গে ‘ওয়ার্ক আউট’ করার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
ঢাকার মালিবাগে ফিটনেস বাংলাদেশ নামক এমন একটি প্রতিষ্ঠানে একই জায়গায় নানা ধরনের শারীরিক অনুশীলন করছিলেন বেশ কিছু নারী ও পুরুষ। ট্রেড মিলে দৌড়াচ্ছিলেন শিক্ষার্থী কানিজ ফাতেমা। তিনি বলছিলেন, ‘আমি যা আছে সবই করার চেষ্টা করি। ট্রেড মিল, সাইক্লিং করি। বডিতে যাতে ফ্যাট না জমে বা স্লিম থাকার জন্য।’
তার পাশেই থাকা গৃহবধূ সেলিনা আলী বলেন, ‘পরিবেশটা ভালো। সুন্দর। বাইরে তো এমন পরিবেশ পাওয়া যায় না। আমি এখানে সাইক্লিং, কার্ডিও, বিভিন্ন ধরনের ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করি’। তাদের পাশেই একি সময়ে অনুশীলন করছিলেন একজন যুবক ফাহিম শাকের।
মেয়েদের ফিটনেস সেন্টারে আসা এবং তাদের সঙ্গেই অনুশীলন করাকে তারা কীভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা খুব ভালো যে ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে জিম করছে। এখানে অনেক মেয়ে আসছে। প্রাইভেসিও আছে। পরস্পরের প্রতি একটা রেসপেক্ট সবার মধ্যেই আছে।’
ফিটনেস বাংলাদেশের মালিক ও এর প্রধান প্রশিক্ষক মোহাম্মদ মিন্টু বলেন, একসঙ্গে পড়ালেখা বা চাকরি করতে পারলে ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে জিম করতে পারবে না কেন। সেটি মাথায় রেখেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম দিকে মেয়েরা না আসলেও এখন তার প্রতিষ্ঠানের অর্ধেকই মেয়ে। আনুষ্ঠানিক কোনো হিসাব না থাকলেও ফিটনেস বাংলাদেশের মতো অনেক জিম বা ফিটনেস সেন্টার রয়েছে ঢাকায়।
সিদ্ধেশ্বরীতে কমব্যাট জিমের মহিলা সেকশনের প্রশিক্ষক শামপা আল মজিদি বলছেন, প্রতিদিন তিনশ’র বেশি নানা বয়সী নারী তাদের কাছে অনুশীলন নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘যা যা প্রয়োজন সব উপকরণ এখানে আছে। তিন থেকে সাড়ে তিনশ’ মহিলা প্রতিদিনই আসেন এখানে। ৬৪ বছর বয়স্ক নারীও যেমন আছে তেমনি আট দশ বছরের মেয়েও আছে এখানে এক্সারসাইজ করেন।
কমব্যাট জিমেই অনুশীলন করছিলেন লায়লা জাহান ইতি। তিনি বলেন, ‘দশ বছর ধরে জিম করছি। অনেক মোটা ছিলাম। বেশি ওজন ছিল। স্লিমিংয়ের জন্য ফ্রি হ্যান্ডসহ নানা কিছু করেছি। ওজন কমার পর ওয়েট লিফটিং করছি।’
তার পাশেই থাকা প্রিয়াংকা ভট্টাচার্য বলেন, জিম করলে কাজের উদ্দীপনা বাড়ে। এজন্যই তিনি নিয়মিত জিম করেন বলে জানান তিনি।
ফিটনেস বাংলাদেশ ও কমব্যাটের জিমের চেয়েও বড় পরিসরে ফিটনেস সেন্টার রয়েছে ঢাকার বসুন্ধরা শপিং মলে। সেখানে অ্যাডোনাইজ ফিটসেন সেন্টারে দুটি আলাদা সেকশনে নারী ও পুরুষদের জন্য রয়েছে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক।
নারী সেকশনের প্রশিক্ষক মাইশা দেওয়ান বলছেন, শারীরিক নানা অসুস্থতার নিরাময় পেতেও অনেকে তাদের কাছে আসছেন। তিনি বলেন, ‘ষাটোর্ধ্বদের হরমোনাল, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা সমস্যা থাকে। এগুলো ভালো করতে নানা এক্সারসাইজ করে অনেকে। ওয়েট লিফটিং হাড় শক্ত করে স্ট্যামিনা বাড়ায়, কার্ডিও ভ্যাসকুলার হরমোনে কাজ করে। সুইমিং ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, হাঁটু ও ঘাড়ে সমস্যা তাদের জন্য।’
এখানকার ফিটনেস সেন্টারটির পরিচালক রুহুল আমিন বলছেন সমাজের সব স্তরের নারীদের মধ্যেই জিমে আসার প্রবণতা বাড়ছে। তিনি বলেন সব বয়সের মহিলারাই আসছে। এর মধ্যে চাকরিজীবী, রাজনীতিবিদ, ডক্টরসহ অনেকেই রয়েছেন। এসব ফিটনেস সেন্টারগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী একেক সেন্টারে একেক ধরনের ফি দিতে হয় ব্যবহারকারীদের। কেউ বছর ভিত্তিক আবার কেউ বা তিন বা ছয় মাসের জন্য এগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন।
চট্টগ্রামের নারীদের জন্য জিম:
পিছিয়ে নেই নারীরা। এছাড়া সববয়সীদের আগ্রহকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে চালু হয়েছে আন্তর্জাতিকমানের অত্যাধুনিক শরীর চর্চাকেন্দ্র হ্যামার স্ট্রেংথ জিম। এই শরীর চর্চাকেন্দ্রটি চট্টগ্রামের সববয়সী নারীদের মধ্যে নতুন ক্রেজ সৃষ্টি করেছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর দুই নম্বর গেইটের ইভস্ সেন্টারে ৪, ৬ ও ৭ তলায় সর্বমোট ৮ হাজার বর্গফুটের এই জিমটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে গত ১৫ মার্চ। আলাদা আলাদা ফ্লোরে নারী ও পুরুষের জন্য শরীর চর্চার ব্যবস্থা রয়েছে। এই জিমে নারীরা যেসব সেবা পাচ্ছেন তার মধ্যে রয়েছে স্বতন্ত্র কার্ডিও জোন, বডি ম্যাসাজ জোন, স্টিম বাথ, সোনা, ইয়োগা, এ্যারোবিকসসজ স্বাভাবিক শরীর চর্চার সব আয়োজন। এই জিমের মহিলা ইউনিটটি অত্যাধুনিক শরীর চর্চার ইকুইপমেন্টে সমৃদ্ধ হওয়ায় এবং বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শরীর চর্চার প্রশিক্ষক থাকায় এখানে তরুণীরা বিশেষভাবে শরীর চর্চায় আগ্রহী হয়েছে।
হ্যামার স্ট্রেংথ জিমের মহিলা ইউনিটের ব্যবস্থাপক ইশরাত জানান, চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হ্যামার স্ট্রেংথ জিমটি দেশের বৃহত্তম এবং ব্যায়ামের অত্যাধুনিক ইকুইপমেন্টে সমৃদ্ধ অত্যন্ত নিরাপদ একটি শরীর চর্চাকেন্দ্র। মহিলাদের শরীর চর্চার জন্য এই জিমে রয়েছে সমৃদ্ধ আয়োজন। রয়েছে বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শরীর চর্চার প্রশিক্ষক। এই জিমটি চট্টগ্রামে চালু হওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রামের তরুণীদের মধ্যে নতুন ক্রেজ সৃষ্টি করেছে।



Leave a Reply