উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার ফলে যাকে প্রায় বশ করা গিয়েছিল, এবার মহামারীর চেহারায় ফিরছে সেই মরণব্যধি।
একদা ত্রাস সঞ্চারকারী যৌনরোগ ‘গনোরিয়া’ ফিরে এসেছে নব কলেবরে। যন্ত্রণাদায়ক এই রোগ সারাতে অব্যর্থ ছিল অ্যান্টিবায়োটিক্স। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অসুখ সারানোর ক্ষেত্রে তার দাপট ফিকে হতে শুরু করেছে। একে একে সব রকমের অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে রোগের জীবাণু। পরিস্থিতি এমনই, যে আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র সিডিসি সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানিয়েছে, শেষ যে দু’টি অ্যান্টিবায়োটিক্স গনোরিয়া সারাতে ব্যবহার করা হত, তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করেছে অসুখের জীবাণু। অর্থাত্ আর কিছু দিনের মধ্যেই ছোঁয়াচে যৌনরোগটি আর কোনো রকম অ্যান্টিবায়োটিকস প্রয়োগ করে সারানো সম্ভব হবে না।
প্রচলিত কোনো ওষুধই যখন গনোরিয়া টেকাতে অপারগ, তখন কীভাবে এই ভয়ঙ্কর ব্যধির হাত থেকে বাঁচা যাবে?
চিকিত্সকদের পরামর্শ, যে কোনো যৌন ব্যধির মতোই গনোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে একমাত্র কনডম। গনোরিয়া আক্রান্ত সঙ্গীর সঙ্গে যৌন মিলনে সংক্রামক রোগের জীবাণু শরীরে প্রবেশ ঠেকাতে পারে এই অস্ত্র।
সমীক্ষা বলছে, প্রতিবছর শুধু আমেরিকাতেই ৮,২০,০০০ জনের শরীরে নিসেরিয়া গনোরিয়া ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে। সংক্রামিত ব্যক্তির বয়স গড়ে ১৫ থেকে ২৪ বছর। এই মুহূর্তে গনোরিয়ার চিকিত্সায় অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও সেফট্রিয়াক্সোন, এই দুই অ্যান্টিবায়োটিক্সের যুগলবন্দী প্রয়োগ করতেন চিকিত্সকরা। কিন্তু হালে দেখা গেছে, এই দুই ওষুধের প্রতিরোধও জয় করে ফেলতে চলেছে রোগের জীবাণু। আর সেখানেই সিঁদূরে মেঘ দেখছেন বিজ্ঞানীরা।
এমন পরিস্থিতিতে গনোরিয়ার আগ্রাসন ঠেকানোর একমাত্র উপায় কনডম ব্যবহার। যৌন মিলনের সময় কনডম ব্যবহার অপরিহার্য করে তুলতে গণসচেতনতা গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে বিশ্বের তাবড় দেশ। কনডম ব্যবহার করেও যাতে পূর্ণ যৌন সুখ উপভোগ করা যায়, তার জন্য নিরন্তর গবেষণা চলেছে।
গনোরিয়া ঠেকানোর টিপস:
১) যৌন মিলনের সময় কনডম ব্যবহার করুন। তবে শুধু একজন যৌনসঙ্গীতে অভ্যস্ত থাকলে গনোরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কা কম।
২) কনডম কেনার সময় প্যাকেটের ওপর ছাপা এক্সপায়ারি ডেট দেখে নিন। ডেট পেরিয়ে গিয়ে থাকলে ওই কনডম কিনবেন না। এমন কনডম ব্যবহারে রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।
৩) একজন যৌনসঙ্গীতে সন্তুষ্ট থাকা অভ্যাস করুন। তবে সে ক্ষেত্রে আপনার পার্টনার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তুললে ভয়ের কারণ আছে। এই কারণে দু’জনেরই নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরী।
৪) সেক্স ডল বা ডিভাইস ব্যবহারের অভ্যাস থাকলে তা-ও স্যানিটাইজ করে নেওয়া দরকার। ব্যবহারের আগে ডিভাইস জীবাণুমুক্ত করতে মেডিকেটেড সলিউশন দিয়ে ধুয়ে নিন। অন্যথায় ডিভাইসেও (ডিলডো জাতীয়) কনডম ব্যবহার করুন।
৫) যদি গনোরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করেন, কখনো যৌনাঙ্গ অথবা গুহ্যদ্বার ছোঁয়ার পর চোকে হাত দেবেন না। চোখে এই ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ প্রচণ্ড যন্ত্রণা ও দৃষ্টিহানি তৈরি করে।
৬) গনোরিয়ার চিকিত্সায় ডাক্তারের প্রেসক্রাইব করা ওষুধের কোর্স সম্পূর্ণ করা জরুরী। রোগের প্রকোপ কমলে ওষুধ খাওয়া থামাবেন না। তাতে পরিস্থিতি জটিলতর হতে পারে।
৭) চিকিত্সা চলাকালীন যৌন মিলন এড়িয়ে চলুন। এতে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।



Leave a Reply