বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সীমান্তে আটকে আছে বাংলাদেশ-ভারতের কূটনীতি

Ban-Indiaভূ-রাজনৈতিকভাবে প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে যেসব রাষ্ট্রের সু-সম্পর্ক নাই, তারা বেশ সংকটে আছে। তবে প্রতিবেশী দেশের সর্ম্পক ছাপিয়েও ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুকাল ধরে সৌহার্দপূর্ণ। কিন্তু ভারতে অনুপ্রবেশের বিষয়ে দেশ দুটির মধ্যে সবসময়ই চলে আসছে একটি ঠান্ডা লড়াই।

ইন্দো-বাংলা সীমান্ত কঠোর করতে এ যাবতকালে ভারত অসংখ্য উদ্যোগ ও পরিকল্পনা হাতে নেয়। যদিও বিভিন্ন কারণে এসব ফলপ্রসু হয়নি। দেশটিতে লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে- ভারতের আসাম দিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস সরকার। তাই ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার এরই মধ্যে এ নিয়ে আরো কঠোর হয়েছে।

দলটি এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে এ সরকার ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্ত পুরোপুরিভাবে বন্ধই করে দেবে। এরপর সীমান্ত এলাকা তদারকির জন্য সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা বসানোর ঘোষণা দেয় তারা। সর্বশেষ এবার ড্রোন বসানোর ঘোষণা এসেছে ভারতের পক্ষ থেকে। ভারত-পাক সীমান্তে জঙ্গি অনুপ্রবেশ রুখতে ড্রোন ব্যবহার করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। এবার সেই কায়দায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তাকে আরো সুনিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে ড্রোন। কিন্তু ওসব সিদ্ধান্তও বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

সম্প্রতি নিরাপত্তা ইস্যুতে স্বরাষ্ট্র পর্যায়ের বৈঠকে চার দিন ভারতে থেকে আসলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আগরতলায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর চারদিনব্যাপী যৌথ বৈঠক করে গত সপ্তাহে। জানা গেছে, এসব বৈঠকেও ভারতের আগ্রহের প্রেক্ষিতে স্থান পেয়েছে ইন্দো-বাংলা সীমান্ত প্রসঙ্গ।

যদিও এসব বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। সব মিলিয়ে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত কূটনীতি থমকে আছে ইন্দো-বাংলা আন্তর্জাতিক সীমান্তে।

এরই মধ্যে কুরবানী ঈদকে সামনে রেখে গরু চোরাচালান রোধে সীমান্তে অতিরিক্ত সীমান্তরক্ষী মোতায়েন করেছে ভারত সরকার। এর আগে গত বছর ইন্দো-বাংলা সীমান্তে কারফিউ (সান্ধ্য আইন) জারি করে রাজ্যের কাছাড় জেলা প্রশাসন। এখন কারফিউ নেই। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে পূর্ব প্রস্তুতি থাকে সবসময়।

সীমান্তে জঙ্গিসহ অবৈধ কর্মকান্ড বন্ধ করতে ইন্দো-বাংলা সীমান্তে গত বছর ৩৫টি নতুন বিওপি স্থাপন করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, ইন্দো-বাংলা’র বিভিন্ন সীমান্তে আরো ৫০টি নতুন বিওপি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।

যদিও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী দু’বছরের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পুরোপুরি ঘিরে ফেলা হবে। গত ২৪ জুলাই ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সুশীল কুমার বলেছিলেন, ‘২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ হয়ে যাবে। যদি দুই দেশের কোনও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের উপর দিয়ে নদী বয়ে যায়, তাহলে সেই সব ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’

জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকেও বিষয়টি উঠে আসে। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। গত ২৮ জুলাই নয়া দিল্লিতে চতুর্থ ভারত-বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়। এতে দুটি দেশের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়। স্থল সীমা চুক্তি রূপায়ণের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হয়। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামে ৬০ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ইন্দো-বাংলা সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে। এজন্য ইনফ্রারেড সেন্সর এবং থার্মাল ইমেজার ব্যবহার করা হবে। নৌ সীমান্তে খেয়ানৌকা ব্রিজ স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে নদীজুড়ে নজরদারি চালাতে পারবেন বিএসএফ কর্মকর্তারা।

স্বরাষ্ট্রসচিব মোজাম্মেল হক খান বলেন, ইন্দো-বাংলায় সীমা দু’দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ জোন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনই জানানো যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট সীমানা ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে আসামের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার। যার ২২৩.৭ কিলোমিটার এরই মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া আছে। বাকি রয়েছে ৬০.৭ কিলোমিটার সীমান্ত। এর মধ্যে ১১.৯ ভাগে বেড়া দেয়া হবে। বাকি ৪৮.৮ শতাংশ অঞ্চল নদীসংলগ্ন হওয়ায় তাতে সরাসরি বেড়া দেয়া সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *