প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, ‘প্রিয় সরকার, আপনি নিজেরে দুর্বল ভাবছেন কেন? আপনাকে দুর্বল বোধ করাতে চায় তারাই যাদের লাভালাভের হিসাব আছে। আপনাকে দুর্বল বোধ করাইয়া তারা ধাপকি দিয়া এই জাহানের অশেষ নেকি হাসিল করতে চায়।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সোমবার বিকেলে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এ কথা বলেন।
পাঠকদের জন্য মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হল :
প্রিয় সরকার, আপনি নিজেরে দুর্বল ভাবছেন কেন? আপনাকে দুর্বল বোধ করাতে চায় তারাই যাদের লাভালাভের হিসাব আছে । আপনাকে দুর্বল বোধ করাইয়া তারা ধাপকি দিয়া এই জাহানের অশেষ নেকি হাসিল করতে চায়।
আপনি জেনে রাখেন, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম আপনার সাথে থাকবে যদি আপনি খালি ঘুরে দাঁড়ান আর বলেন দেশের জন্য লাভজনক না এরকম কোনো প্রকল্প আমি পাস করতে পারবো না। এই আগস্টে আপনারা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেন। স্মরণ করেন, যে ভারতের সাহায্য ছাড়া বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, দেশ স্বাধীন হবার পর প্রথম সাক্ষাতেই ইন্দিরা গান্ধীকে বলেছেন সৈন্য ফেরত নেয়ার কথা। তিনি বন্ধুর সাহায্যকে শ্রদ্ধা করেছেন কৃতজ্ঞ চিত্তে, কিন্তু কৃতজ্ঞতায় নেংটি হারিয়ে নয়।
ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব আমরা সবাই চাই। কারণ এটা দুই দেশের জন্যই যতোটা স্বস্তির ততোটাই অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক হতে পারে। কিন্ত আমার অধিকার বা আমার ন্যায্য ভাগের কথা বললে যদি বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার ভয় করেন তাহলে স্বস্তি এবং মস্তি করবে অন্য কেউ, আমরা না। আপনি ভারতের সাথে বন্ধুত্ব আরো নিবিড় করেন, আরো যৌথ প্রকল্প নেন, কিন্ত আমাদের লাভ ক্ষতি হিসাব করে নেন।
রামপাল অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত দিক থেকে একটা কঠিন ধরা খাওয়া প্রজেক্ট হতে যাচ্ছে এটা বুঝতে রকেট সায়েন্টিস্ট হওয়া লাগে না। সুদ-সহ পঁচাশি ভাগ অর্থ এবং প্রজেক্টের জায়গা জোগান দিয়ে, নিজের পরিবেশের উপর ঝুঁকি নিয়ে ( ভারত যেখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে, সেখানে আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি ‘বুড়ি হইবার ভারতীয় করপোরেটের কারণে), বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে ভারত থেকে কাঁচামাল হিসাবে কয়লা এবং প্রায় দ্বিগুণ দামে এই প্রকল্পের বিদ্যুৎ কেনার বাধ্যতামূলক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ ‘কিতা লভিবে’ সেতো বোঝাই যাচ্ছে।
প্রকল্পের দুর্বলতা আরো বিস্তারিত বুঝতে একজন ভারতীয় বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞের লেখা পড়তে পারেন হাফিংটন পোস্টে (কমেন্ট সেকশনে দিচ্ছি)।
সুপ্রিয় সরকার, এই প্রকল্পের বিরোধীতা করা কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক কেলেংকারিতে যে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের নাম পত্রিকায় দেখেছি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া মানে ভারতের বিরুদ্ধে থাকা নয়। ভারত অনেক বিশাল বিস্তৃত ব্যাপার । ভারত কোনো দুর্বৃত্তের না, ভারত একশো কোটি জনতার।
মনে রাখবেন, আপনি দুর্বল হলে আমরা দুর্বল হয়ে যাই। সুতরাং আপনি সবল হোন, আমরা আপনার পাশে আছি।
বিঃদ্রঃ হে ULAB কর্তৃপক্ষ, আপনাদের উদ্দেশ্যে কঠিন কিছু কথা বলার আছে। বিদেশী ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা খুবই ভালো জিনিস। কিন্তু আপনারা যে তার সাথে আত্মপরিচয়কে গুলিয়ে ফেলেছেন, ছাত্রদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার প্লটে নিরব থেকে কার্যত প্লটের অংশীদার হয়েছেন, এবং শেষে বাজারে কিছু বা..সুলভ যুক্তি সরবরাহ করে যাচ্ছেন, কোনো রকমের অনুতাপ প্রকাশ না করেই, সেটা অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ । এই বিষয়ে বলতে চাই একটু পরে। এখানে শুধু এইটুকুই বলতে চাই ‘চেন্নাই যান বা কেরালা যান এবং মেরুদণ্ড বানিয়ে নিয়ে আসেন। মনে রাখবেন, চেন্নাই বা কেরালা কাহারো চেয়ে কম ভারত নয়।’’’



Leave a Reply