বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ হয়ে ত্রিপুরায় যাবে জ্বালানি তেল

আসামের বরাকে জাতীয় সড়কের বেহাল দশায় জেরবার হওয়া ত্রিপুরার অর্থনীতিকে বাঁচাতে এগিয়ে এল বাংলাদেশ। ত্রিপুরার জন্য এর আগে রেশনের খাদ্যপণ্যের পর এবার পেট্রোপণ্য পাঠাতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে চলেছে ভারত সরকার।

জরুরি ভিত্তিতে আসাম থেকে পাঠানো ওই পেট্রোপণ্য ত্রিপুরায় পরিবহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নয়াদিল্লী থেকে এই এক প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সিলেটের ডাউকি সীমান্ত দিয়ে ট্যাংকার নিয়ে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে মৌলভীবাজারের চাতলাপুর সীমান্ত দিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যে পাঠাতে চায় ভারত। ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানায়।

বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে এভাবে ত্রিপুরার জন্য ত্রাণ পরিবহনে জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করতে হবে। নয়াদিল্লি থেকে এই চুক্তির খসড়া এরই মধ্যে ঢাকায় হাসিনা সরকারের কাছে এসে পৌঁছেছে। এ সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের রাস্তা ব্যবহার করে ভারত ত্রাণ পাঠাতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, বন্যা ও পাহাড়ি ঢল এবং সময়মতো মেরামত না কারায় আসাম ও ত্রিপুরার জাতীয় মহাসড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ত্রিপুরার মানুষ নিত্যপণ্যের অভাবে ভুগছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের সংকট সেখানে চরমে পৌঁছেছে। সে কারণে বাংলাদেশের রাস্তা ব্যবহার করে তেলবাহী ট্যাংকার পাঠাতে চায় ভারত।

বাংলাদেশের ওই কর্মকর্তা বলেন, ত্রিপুরাকে এ ধরনের মানবিক সাহায্য এর আগেও আমরা করেছি এবং এবারেও এ সাহায্য দিতে আমাদের আপত্তি নেই এবং তারা এখন পর্যন্ত শুধু তেলবাহী ট্যাংকার পরিবহনের অনুমতিই চেয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণাল বৈঠকে কীভাবে ত্রিপুরাকে সাহায্য করা যায় সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে কলকাতা থেকে ত্রিপুরা রাজ্যে মানবিক কারণে বাংলাদেশ ভূখণ্ড ব্যবহার করে চাল পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেভাবে বাংলাদেশ ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপালে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের পরে ত্রাণ সাহায্য পাঠিয়েছিল।

(ছবিতে বেহাল আসামের বরাক উপত্যকার জাতীয় মহাসড়ক)

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *