বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর ভাল করলেন, নাকি বারোটা বাজালেন?

শেখ আদনান ফাহাদআমার মতো দলীয় সাংবাদিকের পর্যন্ত কালকের প্রেস কনফারেন্স ভালো লাগেনি। আমার ধারণা শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের এই ধান্দাবাজির দিকটা ভালোই জানেন…

শেখ আদনান ফাহাদ।

রামপাল নিয়ে কাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর শেষ কথা বলে দিয়েছেন। আমার একটা লেখায় আমি বলেছিলাম, শেখ হাসিনা কথা না বললে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিলে জনমানুষের বিভ্রান্তি যাবে না। আমিও বিভ্রান্ত ছিলাম।

উনাকে আমি বিশ্বাস করি, তাঁর উপর আমার আস্থা আছে, আওয়ামী লীগের অনেকের উপর আমার বিশ্বাস, আস্থা কোনওটাই নাই। শেখ হাসিনা আমার এবং অনেকের বিভ্রান্তি দূর করে দিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, শেখ হাসিনা দেশের, দশের ক্ষতি করে কিছু করবেন না।

কিন্তু কাল থেকে রামপাল থেকেও যে বেশী আলোচিত হচ্ছে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর ‘সংবাদ সম্মেলন’। এমনিতে ‘প্রেস কনফারেন্স’র সংজ্ঞা হল ‘সংবাদ সম্মেলন’। কিন্তু একটি সংবাদ সম্মেলন যে কীভাবে ‘দলীয় সাংবাদিক সম্মেলন’ হয়ে যায় তার উজ্জ্বলতম উদাহরণ এই সাংবাদিক সম্মেলন।

এই দলীয় সাংবাদিকদের ভেতরে আমিও একজন। এমনকি অন্য অনেকের চেয়ে আমি বড় দলীয় সাংবাদিক। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে ৩ বছর সরাসরি কাজ করেছি। দেশ-বিদেশ ঘুরেছি। শেখ হাসিনার সাথে বিদেশে বহুবার সরাসরি কথা বলেছি, একবার তো মিশরে মনমোহন সিংয়ের সাথে উনার একটা মিটিং এর সময় মিটিং রুমের দরজায় এসএসএফের অনুরোধে নিরাপত্তার কাজ পর্যন্ত করেছি। আমাকে সবাই বিশ্বাস করত, এখনো করে। এর বড় কারণ আমি এর সুযোগ নিয়ে প্লট নিইনি, ব্যাংক ব্যালেন্স বানাইনি। আমার যা কিছু আর্থিক অর্জন তার সবটাই বেতন-সর্বস্ব।

আমার মতো দলীয় সাংবাদিকের পর্যন্ত কালকের প্রেস কনফারেন্স ভালো লাগেনি। সাংবাদিকের কাজ হল প্রেস কনফারেন্সে প্রশ্ন করা। প্রধানমন্ত্রী বা প্রিয় মানুষকে বিব্রত না করে অনেক ভালো প্রশ্ন করা যায়। প্রশ্ন করলে শেখ হাসিনা বিরক্ত হন না, উনাকে যতটুকু জানি, বুঝি, উনি চামচামি একদমই পছন্দ করেন না। বিদেশি অনেকেই ওনাকে প্রশ্ন করে বিব্রত করার চেষ্টা করেছেন আমি দেখেছি, উনি বঙ্গবন্ধু কন্যা হিসেবে দারুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে তার সঠিক জবাব দিয়েছেন।

তাহলে কাল যারা প্রশ্ন করার সুযোগ নিয়ে নিজেদেরকে বড় আওয়ামী লীগার হিসাবে জাহির করতে চাইলেন তারা কি প্রধানমন্ত্রী বা দলের ভালো করলেন, নাকি বারোটা বাজালেন? এই সাংবাদিকদের দিয়ে আসলে দেশের বা পার্টির কী লাভ হচ্ছে? এদের অনেক সত্য কথাও মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম যারা খুব সেনসিটিভ তারা বিশ্বাস করেন না, তারা এত দালালী পছন্দ করেনা।

এই সাংবাদিকরা ভারতের হাতি নিয়ে যেভাবে নিউজ করেছেন, ফারাক্কার পানি নিয়ে করছেন না কেন? একটা চ্যানেলে দেখলাম প্রচার করা হচ্ছে, পানি বাড়ছে স্বাভাবিক নিয়মেই। এত চামচামি, দালালীর রেজাল্ট ভালো হয় না।

আমার ধারণা শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের এই ধান্দাবাজির দিকটা ভালোই জানেন। আজ ক্ষমতায় আছেন, কোনদিন যখন থাকবেন না, তখন এই সাংবাদিকরাই নতুন ক্ষমতাসীনদের কাছে যাবার জন্য বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের চরিত্র হননে আদাজল খেয়ে নামবেন। কারণ এদের কোনও আদর্শ নাই, সৃজনশীলতা নাই, এরা পারে কীভাবে নিজের স্বার্থ আদায় করতে হয়।

স্বার্থের পেছনে ছুটা সাংবাদিক আমাদের দরকার নাই, আমাদের দরকার বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী সৎ, দেশপ্রেমিক সাংবাদিক।

শেখ আদনান ফাহাদ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারি অধ্যাপক।
(লেখাটি শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ফাহাদের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত)

o প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নগুলি…

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *