বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পিতৃত্বকালীন ছুটির বিধান প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেয়েও আটকে আছে

পিতৃত্বকালীন ছুটির বিধান আটকে রেখেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়মা ও শিশুসন্তানের সুষ্ঠু পরিচর্যা করতে কর্মজীবী বাবার জন্য ১৫ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রস্তাব গত বছর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অনুমোদন করলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বিধিগত খুঁটিনাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা দোহাই দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে গড়িমসি করছে।

২০১৪ সালের জুলাই মাসে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে পিতৃত্বকালীন ছুটির বিধান করার প্রস্তাব করেন টাঙ্গাইলের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহবুব হোসেন। প্রস্তাবে বলা হয়, কর্মজীবী নারীর জন্য ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর করা হয়েছে। মা ও নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যার জন্য বাবারও সময় দেয়া জরুরি।

এজন্য ১৫ দিনের ছুটির বিধান করা যেতে পারে। সম্মেলনে আলোচনার পর পিতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়টিকে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত মধ্যমেয়াদি সিদ্ধান্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রস্তাব পাঠানোর আগে জেলার সব কর্মকর্তাকে নিয়ে বৈঠক করা হয়। সেই বৈঠকে একজন কর্মকর্তা মাতৃত্বকালীন ছুটির আদলে পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রস্তাব ডিসি সম্মেলনে দেয়ার সুপারিশ করেন। বৈঠকে উপস্থিত সব কর্মকর্তা বিষয়টিতে সমর্থন দেন।

এর আগে ২০১০ সালে মাতৃত্বকালীন ছুটি চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব দেয় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে পিতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়টিও ছিল। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রস্তাব আলাদাভাবে উপস্থাপনের নির্দেশ দেয়। এর এক বছর পর থেকে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর করা হলেও পিতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়টি চাপা পড়ে যায়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ছুটির কিছু খুুঁটিনাটি দিক পর্যালোচনা চলছে। তবে সত্যি বিষয়টিতে একটু গতি হারিয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে সরকারি চাকরিজীবী হলে কি হবে তারও হিসাব চলছে। এছাড়া আসলে ১৫দিনই ছুটি পাবেন না আরও কমবেশি করা যায় তারও একটি হিসাব চলছে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *