বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

পুরুষরা যে কারণে কম আয়ু পায়

পুরুষরা যে কারণে কম আয়ু পায়লিঙ্গ বৈষম্যের শুরু সেই মাতৃগর্ভ থেকে। কিন্তু যে দৃষ্টিতে আপনি দেখছেন সেভাবে নয়।

১৯৮১-২০০১১ সালের মধ্যে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় ৫ লাখ ৭৪ হাজার শিশুজন্মের ওপর এক গবেষণা পরিচালিত হয়। সেখানে দেখা যায়, পুত্র শিশুদের অপরিপক্ক অবস্থায় জন্মগ্রহণের ঝুঁকি বেশি। তা ছাড়া জন্মের আগে থেকেই তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

তা ছাড়া যে নারীরা ছেলে শিশু জন্ম দিতে চলেছেন তাদের অ্যাকলামশিয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। এ অবস্থায় গর্ভকালীন মায়ের দেহে প্রচুর তরল আসে। রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং মূত্রে প্রোটিন যায়।

অস্ট্রেলিয়ায় পুত্র শিশুদের জন্মহার বেশি। প্রতি ১০০টি কন্যা শিশু জন্ম নিলে ১০৬টি পুত্র শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু পুরুষরা নারীদের চেয়ে কম বয়সে মৃত্যুবরণ করে। সেই পুরনো আমল থেকেই এ ধারণা প্রতিষ্ঠিত। পুরুষরা আসলেই নারীদের চেয়ে আগে মারা যায়। আর এ কারণেই কম সংখ্যক মেয়ে জন্মানোর পরও অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী।

আবার যে গর্ভবতীদের গর্ভপাত ঘটে বা মৃত শিশুর জন্ম হয়, তাদের বেশিরভাগের গর্ভেই পুত্র শিশু ছিল দেখা গেছে। বড় ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুতে ছেলে শিশুরাই এগিয়ে।

নারী-পুরুষদের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও পুরুষরা এগিয়ে। অসংখ্য পুরুষ হৃদরোগ (৫৯ শতাংশ), টাইপ ২ ডায়াবেটিসসহ এন্ডোক্রাইন ডিসঅর্ডার (৫৭ শতাংশ) এবং ক্যান্সারে (৫৬ শতাংশ) আক্রান্ত। আবার কিছু ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে- ব্লাড ও মেটাবলিক ডিসঅর্ডার (৫৯ শতাংশ), ডেমেনশিয়াসহ নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার (৫৮ শতাংশ) এবং আরথ্রাইটিস (৫৬ শতাংশ)।

পুরুষরা কেন আগে মারা যায়? : এর সুস্পষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা। তবে বহু গবেষণায় বলা হয়, নারী-পুরুষের জেনেটিক পার্থক্যের কারণে এমন ঘটে। পুরুষের আছে এক্সওয়াই সেক্স ক্রোমোজন। আর নারীর আছে এক্সএক্স  সেক্স ক্রোমোজম। গর্ভপত্রে নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে ১৪২টি জিন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। এসব জিনের এক-তৃতীয়াংশ সেক্স ক্রোমোজমে বিরাজ করে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নন-সেক্স ক্রোমোজমে বিরাজ করে। আর সামান্য অংশ হরমোনের সঙ্গে যুক্ত।

লিঙ্গ বৈষম্যের চূড়ান্ত নমুনা দেখা যায় মস্তিষ্কে। বিশেষ করে এন্টেরিওর সিঙ্গুলেট কর্টেক্সে। এই অংশটি হৃদস্পন্দন এবং রক্তচাপসহ কিছু আবেগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে। মনে করা হয়, গর্ভপত্রের বিকাশের ওপর নির্ভর করে গর্ভকালীন সময়ের জটিলতা কেমন হবে। গর্ভে ছেলে-মেয়েদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন হয়ে থাকে।

বিবর্তন এবং লিঙ্গে যুদ্ধ : প্রাণী জগতে অনেক ক্ষেত্রে অনেক পুরুষ পরিহার্য। নিয়ন্ত্রক ও শক্তিশালী পুরুষরা একাধীক স্ত্রী প্রজাতির সঙ্গে মিলনের সুযোগ পায়। অনেক প্রাণীর ক্ষেত্রে এসব শক্তিমান, বড় আকারের পুরুষরাই বংশ বৃদ্ধির সুযোগ পায়।

অপেক্ষাকৃত বড় আকারের শিশু জন্মকালীন ধকল সামলে নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে। পরবর্তিতে সেই বড় হয়ে বংশ বৃদ্ধির সুযোগ বেশি পায়। অন্যদিকে, নারী প্রজাতি এদের জিন বহন করবে এবং বংশবৃদ্ধি করে যাবে। তারা উভয়ই প্রাপ্তবয়স্ক হবে বলে ধারণা করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তানের লিঙ্গভেদে গর্ভপত্রে অ্যাজমার আক্রমণের সম্ভাবনা নির্ভর করে। অ্যাজমা গর্ভপত্রে প্রদাহের ঝড় সৃষ্টি করে। এতে কন্যার ভ্রূণের বৃদ্ধি কিছুটা রোহিত হয়। আর এ ক্ষেত্রে কন্যা শিশুর ভ্রূণ টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। অবশ্য পুত্র শিশুর ভ্রূণ যে ক্ষতিগ্রস্ত হবেই এমন কোনো কথা নেই। তবে অপরিপক্ক জন্ম বা মৃত ভ্রূণ সৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে।

আসলে শিশুর স্বাস্থ্যকর জীবন ও রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি এই ভ্রূণের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার ওপরই নির্ভর করে। গর্ভপত্রেই নির্ধারতি হয় পরবর্তী জীবনের স্বাস্থ্যকর অবস্থাটি কেমন হবে।

কাজেই গর্ভমূলে আমাদের ভ্রূণ যেভাবে গড়ে উঠেছিল, সেখানেই নির্ধারিত হয়েছিল আমাদের স্বাস্থ্য ও আয়ু কেমন হবে। পরে অবশ্য জীবনযাপন এর ওপর বেশ প্রভাব ফেলে। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *