একটি হাই স্কুলে পরীক্ষার ফি বাবদ ৩০ টাকা বকেয়া ছিল এক ছাত্রীর। সে কারণে শ্রেণি শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন শাস্তি হিসেবে বেঞ্চে দাঁড় করিয়ে রাখেন শিক্ষার্থীকে।
সহপাঠীদের সামনে এ অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে চাঁদপুরের বাগাদী গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাথী আক্তার (১৪)। সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার মধ্য বাগাদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্বজনরা জানায়, রিকশাচালক দেলোয়ার হোসেন গাজীর তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সাথী আক্তার। সোমবার তার দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রবিবার ছিল পরীক্ষা ফি জমা দেওয়ার শেষ সময়। কিন্তু তা দিতে না পারায় শিক্ষক আলাউদ্দিন তাকে বেঞ্চের ওপর দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখেন। সোমবার স্কুলে না গিয়ে বাড়িতেই থাকে সাথী। একপর্যায়ে বসতঘরের আড়ায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।
মা চায়না বেগম বলেন, ‘মাত্র ৩০ টাকার জন্য আমার মেয়েকে প্রাণ দিতে হলো। আমার কাছেও টাকা চেয়েছিল, কিন্তু তা না পেয়ে মন খারাপ করেছিল।’
বাবা দেলোয়ার হোসেন গাজী বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে মেয়েকে শিক্ষিত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ভাগ্য তা মেনে নেয়নি। শিক্ষক আলাউদ্দিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং স্কুল ঘেরাও করে। শিক্ষকরা পরিস্থিতি বুঝে সটকে পড়েন। সাথীর সহপাঠী পিংকি ও রুনা আক্তার জানায়, রবিবার অপমানের ঘটনার পর সাথী বলেছিল, তোদের সঙ্গে আর দেখা হবে না। এখন বোঝা গেল কতটা কষ্ট পেয়েছিল সে।
ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন গাজী বলেন, ঘটনাটি খুব নিন্দনীয়। দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
চাঁদপুর মডেল থানার ওসি ওয়ালী উল্লাহ বলেন, তদন্তপূর্বক আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে আটক করা হয়নি। সাথীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।



Leave a Reply