বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রিয়তমা সিএসবি…

CSB Newsবোরহানুল হক সম্রাট।

সম্প্রচার বন্ধ হবার পর শুধু টাকার দৈন্যতার কষ্টে নয়, বরং শুরু থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছিলাম তাও তুমি জানো। তোমার আমার রিলেশন আজ তাই দশক পার, যা কখনো দম বন্ধ করা, কখনো স্মৃতি হাতরানোর যাতনা, আর ফিরে পাওয়ার অনিশ্চয়তা নিয়ে টিকে থাকে। মনের গভীরে সেই লাল কালো রঙ মুছে ফেলার ক্ষমতা আর কারো হয়নি।

শুধু আমি কেনো, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বন্ধ হবার কতদিন, কত বছর পরও তুমি, সিএসবি আবারো ফিরে আসবেই এমন স্বপ্ন, কল্পনা কতজন করেছেন তা গবেষনা করার বিষয় হতে পারে। গত ১০ বছরে উত্তরার বিএনএস টাওয়ারের ১৪ তলায় যেখানে একদা তোমার জন্ম হয়েছিল তার দিকে তোমার কত প্রেমিক-প্রেমিকা কতদিন কতবার তাকিয়ে দেখেন এখনো তাও গবেষনা হতে পারে।

তোমার আমার প্রেমের সব কথাই আমার মনে আছে। যেদিন ভবনের জায়গা বুঝে পেয়েছিলাম সেদিন থেকে। তোমার গড়ে উঠা, তোমার যৌবনের, রুপের, গড়নের, কিশোর আর অকাল প্রয়াণের সব, সব কিছুর কিছুই আমি ভুলতে পারি না। লাইব্রেবী, আরকাইভ, স্টুডিও, নিউজ রুম, পিসিআর, এমসিআর, ক্যামেরাকক্ষ। আমাদের ক্যান্টিন যেখান থেকে দুরের বিমান উঠানামা দেখতে দেখতে হাতের ভাতগুলো ঠান্ডা হতো, ১৫ তলার এমসিআরের পাশের এক সলতে জায়গা যেখান থেকে নিচের স্টুডিওটা দেখা যেত, ১৪ ও ১৫ তলার সিড়ি যেখানে যাওয়া নিষেধ ছিল, কখনো ছাদ যেখানে সবাই লুকিয়ে বিড়ি টানতো।

সে কী প্রেম! আমি বলতেই পারি, আমি তার পরে আর কোথাও দেখিনি এমন করে তৈরি হয়েছিল একটা টেলিভিশনের কর্মীদের জন্য প্রকান্ড ও আধুনিক রান্নাঘর, আমি দেখিনি নিচে তাকিয়ে সারি সারি গাড়ির বহর। নিউজ রুম আর স্টুডিওর সেই সখ্যতা আমি আর পাই না কোথাও। একটা স্টুডিও কতটা আধুনিক হতে পারতো তাও দেখিয়েছিলে তুমি ঝলকের মতো এসেও।

দশকের মানসিক দৈন্যতা মনটাকে দিন দিন ক্ষুদ্র করে ফেলছে। অথচ একটা ভিজিটিং কার্ড পযন্ত কত গবেষণার পর কত সুন্দর হতে পারে এই ১০ বছর পরেও তুমি স্বমহিমায় তাই জানিয়ে চলেছো। তুমি কতটা কাছের করে নিয়েছিলে আমাদের যে কারণে আমার এখনো সেই নিউজ টেবিলের প্রতিটি কম্পিউটারের বাটন মনে পড়ে। কোন কোন লেখা সেখানে ছিল তাও ফিরে এসে চলে যায়। চোখে ভাসে বেতন থেকে কেটে নেয়া ট্যাক্সের সেই চালানের কাগজটিও। আমি সযতনে লুকিয়ে রেখেছি আমার কাছে লেখা তোমার প্রথম পত্রটিও। সত্যিই যা ছিল প্রেমপত্র।

তারপর চোখে ভাসে, কানে বাজে এক কমপ্লিট প্রশিক্ষণের খুনসুটি যা আমাদের মনকে একাত্ম করে রেখেছিল মাসের পর মাস। আমি কী করে ভুলে যাব, আমাদের সেই প্রতিটি গাড়ী চালকের কথাও যারা কত আনন্দ বেদনার সাথে এখনো স্মৃতি হয়ে আছে।

তারপর সেই ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জহির খান বল করছিলেন। সেই ভঙ্গির মধ্যেই ঢুকলো একদল কালো পোষাকের লোক। বুকের মধ্যে ধক ধক করছিল সবার। তারা উপরে সিড়ি ভেঙ্গে আরো উপরে উঠে গেল। আমি পিছু নিলাম তাদের। তোমার গলা বন্ধ করার জন্য বাম পাশের সে ঘরের দরজা খোলা হলো। তারপর তুমি ইতিহাস হলে।

সেই ইতিহাস পিছনে ফেলে কোনদিন যদি তুমি ফিরে আসো, আর আমি যদি বেঁচে থাকি, যদি তুমি আমায় গ্রহণ করো, প্রিয়তমা এ আমার চিরপ্রতিজ্ঞা, আমি তোমার কাছেই ফিরে যাব, যত লাঞ্ছনাই পিছু নিক, আমি তোমারই হবো।
তোমার সম্রাট
৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *