বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ফেসবুক-ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বেচাকেনা হচ্ছে যৌনতা

ফেসবুক-ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বেচাকেনা হচ্ছে যৌনতানিষিদ্ধপল্লিতে গিয়ে, কেউ দেখে ফেলার আগে মুখে রুমাল চাপা দিয়ে চট করে যৌনকর্মীদের ঘরে ঢোকার দিন শেষ গিয়েছে আগেই! যৌনকর্মীরাও এখন আর নিজেদের চট করে ‘বেশ্যা’ বলতে চান না।

বিশ্বায়নের যুগে তাঁরা এখন নিজেদের ‘কলগার্ল’ বলতেই পছন্দ করেন৷ সেই চিরচেনা পতিতাপল্লীর গলিতে অবশ্য এখন যুবকদের দেখা মিলবে না৷ কারণ, ওই সব মার্কা মারা জায়গায় নারীশরীরের সঙ্গলাভের চেয়ে নিজের বেডরুম বা চেনা চৌহদ্দির মধ্যেই মিলনে আগ্রহী এযুগের পুরুষরা৷

আর ডিজিটাল যুগের এই প্রবণতাকে পুঁজি করেই ব্যবসা বাড়ছে এসকর্ট সার্ভিসের৷ পোশাকি নাম আলাদা হলেও মূল ব্যবসা সেই এক ও আদিম৷ অর্থের বিনিময়ে খানিকক্ষণ নারী শরীরের সঙ্গ লাভ৷ কিন্তু এই পেশায় বারবনিতাদের কোনও ঠাঁই নেই৷ মহিলারা এখানে ‘ফিমেল এসকর্ট’, যৌনকর্মীদের চেয়ে রেটও অনেক চড়া৷ ঘণ্টা প্রতি কয়েক হাজার টাকা খসানোর সাধ্য থাকলেই যে কোনও পুরুষ উদ্দাম সুখ পেতে পারেন, প্রতিশ্রুতি এসকর্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের৷ কোনও রাখঢাক নয়, দিব্যি সক্কলের চোখের সামনে ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ খুলে রমরমিয়ে চলছে ব্যবসা৷ ওয়েবসাইটগুলিতে চোখ বোলালে রীতিমতো চমকে উঠতে হয়৷ শব্দের কারিকুরিতে কী নিখুঁত যৌনতার আহ্বান৷ রয়েছে রেট চার্ট৷ কত কড়ি ফেললে কত পিপে তেল মিলবে- জ্বলজ্বল করছে সেই তথ্য৷ কেউ নিকিতা বা নিশা, কেউ আবার একেবারে বাঙালি নাম ব্যবহার করে ব্যবসা ফেঁদে বসেছেন৷

এরকম কয়েকটি ওয়েবসাইট ঘেঁটে জানা গেল, গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বাঙালি অষ্টাদশী বা ‘হাইক্লাস হাউসওয়াইফ’, উঠতি গ্ল্যামারাস মডেল বা এয়ারহস্টেসকে গাঁটের কড়ি ফেললেই নিয়ে আসা যাবে বেডরুমে৷ লোক জানাজানির ভয় নেই বললেই চলে, কারণ গোটা প্রক্রিয়াটাই চলে মূলত ফোন-ইন্টারনেটে৷ হোটেল বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে গ্রাহকদের৷ হোটেলগুলির সঙ্গে আগে থেকেই পাকা বন্দোবস্ত থাকে এই সব এসকর্ট সার্ভিসের৷ যৌন মিলনে অক্ষম বা বেশি বয়স্কদের জন্য রয়েছে মৌখিক সুখ আদানপ্রদানের ব্যবস্থাও৷ আর যাঁরা নিয়মিত যৌনক্রীড়ায় মত্ত হতে হতে মিলনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের জন্য রয়েছে নিপুণ ফোর-প্লে, সুন্দরীর সাহচর্যে বসে মদ্যপান বা অন্যান্য নেশার সুযোগও৷

44কেমন দেখতে এই ফিমেল এসকর্টদের? এসকর্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের ওয়েবসাইটে ফলাও করে সে বিবরণও দেওয়া রয়েছে৷ এরকমই একটি ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, তাদের এক ‘মডেল’-এর উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি, ওজন ৫৭ কিলোগ্রাম, বয়স ২২ বছর৷ ক্রমান্বয়ে দেওয়া হয়েছে ওই মডেলের আরও ব্যক্তিগত ও খুঁটিনাটি তথ্য৷ তাঁর ঠোট গোলাপি ও ‘পাউটি’ শেপের, সেলফি তোলার জন্য আদর্শ৷ চুলের রং সোনালি-বাদামি৷ ব্যাঙ্কক নাকি তাঁর পছন্দের গন্তব্য৷ তবে কোনও ক্ষেত্রেই এসকর্টদের ছবি ব্যবহার করা হয় না৷ হয় কোনও বিদেশি মডেলের ছবি ব্যবহার করে বা মুখ ঝাপসা করে এসকর্টদের ছবি ব্যবহার হয়ে ওয়েবসাইটে৷ পুরোটাই গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে৷ এবার ওয়েবসাইটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশের কোথায় আসা যাক- পেমেন্ট ও পেমেন্ট মোড৷

প্রায় প্রতিটি ওয়েবসাইটেই একটি নম্বর ও ইমেল আইডি দেওয়া রয়েছে৷ যেখানে ফোন করে পেমেন্ট অপশন জানা যাবে৷ সাধারণত এই নম্বরগুলিতে ফোন করলে প্রথমেই একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা কোনও একটি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে জমা দিতে বলা হয়৷ তারপর বাকি কথা৷ কত টাকা লাগবে? একাধিক ওয়েবসাইট ঘেঁটে জানা গেল, ১-২ ঘণ্টা ও একবার সম্পূর্ণ মিলনের জন্য খরচ ১০-১৫ হাজার টাকা৷ এসকর্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের দাবি, ওই খরচের মধ্যেই ধরা হয়েছে ফোর-ফাইভ স্টার হোটেলের ভাড়া, কার পার্কিংয়ের খরচ, বেয়ারাদের টিপস৷ কোনও মডেলের সঙ্গে ৩-৪ ঘণ্টা ‘সময় কাটানোর’ খরচ ২০-২৫ হাজার টাকা৷ যার মধ্যে দু’বার ‘মেটিং সেশন’, ফোর-প্লে করা যাবে৷ ৩৫-৪০ হাজার টাকায় মিলবে আনলিমিটেড ‘মেটিং সেশন’, গোটা রাতের জন্য৷ পার্টনারকে ‘হট’ লাগলে তবেই এই প্যাকেজের দাম দিতে হবে, নচেৎ পয়সা লাগবে না, দাবি ওয়েবসাইটের৷ এছাড়াও রয়েছে গ্রাহকদের পছন্দমাফিক বিভিন্ন ক্লাস্টমাইজড প্যাকেজ৷ বিদেশি নাগরিকরা খরচ মেটাতে পারবেন ডলারেও৷ ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম-টুইটারের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিয়মিত অ্যাক্টিভ থাকেন এই এসকর্ট সার্ভিস এজেন্টরা৷ স্বাভাবিকভাবেই নাবালক বা পড়ুয়াদের চোখে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়৷

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *