দেশে দেশে ভিন্নমত দমনে অনেক সময় আইন-আদালতের আশ্রয় নিয়ে থাকেন ক্ষমতাসীনরা। এক্ষেত্রে দুটি শব্দ বেশী শোনা যায়- দেশদ্রোহিতা বা রাষ্ট্রদ্রোহিতা।
তবে দেশদ্রোহিতা বা রাষ্ট্রদ্রোহিতার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
মঙ্গলবার ভারতের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, সরকারি নীতি অর্থাৎ সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলা মানেই দেশদ্রোহিতা নয়। এমনটা হলে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেয়া যায় না।
সম্প্রতি ভারতে দেশদ্রোহিতা নিয়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে গেছে। দেশদ্রোহিতা আইনে একের পর এক মামলা করা হয়েছে। কিন্তু ভিন্নমত দমনে এটি ব্যবহার হচ্ছে অভিযোগ করে বিভিন্ন মহল এই আইন বাতিলের দাবি করেছে।
এ নিয়ে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ হস্তক্ষেপ দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। তার মতে, ১৯৬২ সালের দেশদ্রোহিতা আইনের যথেচ্ছ অপব্যবহার করা হচ্ছে। বহু পুলিশকর্মী তো দেশদ্রোহিতার অর্থও বোঝেন না।
এ দিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপক মিশ্র ও বিচারপতি ইউ ইউ ললিতের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, সর্বোচ্চ আদালতের আজকের ব্যাখ্যার ফলে দেশদ্রোহিতা নিয়ে যাবতীয় বিতর্কের অবসান ঘটবে।
ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪-এ ধারার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, সরকারি নীতি ও সরকারের সমালোচনা বা বিরোধিতা করার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে।
অবশ্য এর জন্য কোনো রকম প্ররোচনা বা হিংসার আশ্রয় নিয়ে জনসম্পত্তির ক্ষতি করা বা শান্তি বিঘ্নিত করার অভিপ্রায় সেই নাগরিকের থাকতে পারবে না বলে জানিয়েছেন আদালত।




Leave a Reply