বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নারী জঙ্গিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ: নিহত ১, আটক ৩ নারী

নারী জঙ্গিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ নিহত ১ আটক ৩ নারীরাজধানীর আজিমপুরে নারী জঙ্গিদের একটি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। শনিবার রাতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালাতে গেলে জঙ্গিদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়।

এতে আবদুল করিম নামে এক জঙ্গি নিহত এবং তিন নারী জঙ্গি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন পুলিশের চার সদস্য। আহত সবাইকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত করিম গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা এবং কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানা গড়াসহ জঙ্গিদের জন্য বাসা ভাড়া নেওয়ার মূল হোতা। আর গুলিবিদ্ধ নারী জঙ্গিদের মধ্যে একজন হলেন মেজর (অব.) জাহিদুল হক ওরফে মুরাদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ চারটি পিস্তল উদ্ধার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি দল বিডিআর ২ নম্বর গেটসংলগ্ন আজিমপুরের ২০৯/৫ নম্বর ছয়তলা বাড়ি ঘিরে ফেলে। ওই সময় দোতলা থেকে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়। স্লোগান শুনে পুলিশ নিশ্চিত হয় ভেতরে জঙ্গি রয়েছে। পরে পুলিশ শক্তি বাড়িয়ে ওই বাড়ির দোতলায় গিয়ে দরজায় ধাক্কা দেয়। তখন বাসার ভেতর থেকে প্রতিরোধের চেষ্টা করে গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। একপর্যায়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করলে জঙ্গি নেতা করিমের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া নারী সদস্য জেবুন্নাহার শিলা (৩০), শারমিন আক্তার (২৫), শাহেলা আক্তার (২৭) গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একটি সূত্র মতে, করিম আত্মহত্যা করে। জঙ্গিদের বিস্ফোরকে আহত হন ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল (সিটিটিসি) ইউনিটের পাঁচ সদস্য—মাহতাব, জহিরুদ্দিন, রামচন্দ্র বিশ্বাস, লাভলু ও শাজাহান আলী। তাদেরও একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত নারীরা জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে নিশ্চিত করেছেন সিটিটিসি ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার ছানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, নারী জঙ্গিদের অতর্কিত হামলার পাশাপাশি পুরুষ জঙ্গি সদস্য তাদের লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায়। বোমার স্প্লিন্টারে ও ছুরিকাঘাতে আহত হন পুলিশ সদস্যরা। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে পুরুষ জঙ্গি নিহত ও তিন নারী জঙ্গি আহত হন।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, নিহত করিম দুর্ধর্ষ জঙ্গি। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তেই করিম ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বাসা ভাড়া নিত। তার সংসারের খরচের টাকাও দেওয়া হতো সংগঠন থেকে। তার কাজই ছিল বাসা ভাড়া নিয়ে জঙ্গিদের নিরাপদ আস্তানা তৈরিতে সহায়তা করা। করিমের মাধ্যমেই তার স্ত্রী জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার শাহাবুদ্দিন কোরেশিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আইজিপি বলেন, নাশকতা চালানোর জন্য জঙ্গিরা বাসাটি ভাড়া নিয়েছিল। নিহত জাহিদুলের স্ত্রীও আছেন আহতদের মধ্যে। সুস্থ হলে আহত তিন নারী জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সিটিটিসি ইউনিটের কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিহত করিমের স্ত্রীও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত। এর আগে ভাটারা, কল্যাণপুর ও শোলাকিয়ায় এই করিমই স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ বাসা ভাড়া নিয়েছিল। সামান্য কিছু আসবাবপত্র নিয়ে বাসায় ওঠে সে। পরে জঙ্গিরা ওই বাসায় অবস্থান নেওয়ার পর করিম পরিবার নিয়ে সটকে পড়ে। গুলশানে হামলার দুই দিন পর করিম পরিবারসহ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। এরপর থেকে তাকে ধরতে জোর তৎপরতা চলছিল।

শনিবার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বাসার ভেতরে রক্তের ছোপ দেখা গেছে। বাসার ভেতরে ভারী কোনো আসবাবপত্র নেই। কিছু বিছানাপত্র ও হাঁড়ি-পাতিল রয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা জানান, বাড়িটির মালিক হাজি কায়সার। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ বাড়িটি ঘিরে ফেলে। আস্তে আস্তে পুলিশের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়। রাত সোয়া ৮টায় দোতলায় ওঠে পুলিশ। দরজা ধাক্কা দিলে ‘আসছি’ বলে ভেতর থেকে নারী সদস্যরা ছোরা ও মরিচের গুঁড়া হাতে নিয়ে দরজা খোলে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই নারী জঙ্গিরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে মরিচের গুঁড়া ছুড়ে মারে। তাদের একজন দুই পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে দৌড়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। ওই বাসা থেকে মেজর (অব.) জাহিদের দুই শিশুসন্তান জুনায়েরা (৬) ও মারিয়াম (১) এবং ১২ বছরের আরেক শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। পুলিশের এক নারী কর্মকর্তা তাদের দেখাশোনা করছেন।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, অভিযান চলাকালে প্রচুর গোলাগুলি হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বোরকা পরা এক নারীকে দৌড়াতে দেখা যায়। ওই সময় পুলিশ ফাঁকা গুলি করে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *