পঞ্চমবারের মতো বাড়ছে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ওষুধ শিল্পনগরী প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ। দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পটি চার দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আবারো মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সময়েও কাজ শেষ হবে না বলে আশঙ্কা করছে খোদ পরিকল্পনা কমিশন।
যদিও এর আগে গত রোববার শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছিলেন, আগামী অক্টোবরের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে এবং এর পরপরই শিল্পনগরীটিতে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনের কারখানা স্থাপন শুরু হবে।
দীর্ঘদিন থেকে এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়ান্টস) শিল্পপার্ক নির্মাণের তোড়জোড় থাকলেও ২১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প নেয়া হয় ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে। এরপর চার দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলেও এখনো অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি। ব্যয়ও ১১৮ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ জন্য আরেক দফা এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
কমিশন বলছে, প্রস্তাবিত মেয়াদেও পার্কটির নির্মাণ করা সম্ভব নয়। যদিও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) বলছে, শেষ দফায় এক বছর মেয়াদ বাড়ালেই দ্রুতগতিতে পার্কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে।
জানতে চাইলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্লট দ্রুত হস্তান্তর করতে পারলে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। এসব বিষয়ে ওষুধ শিল্প মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনার পর পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, বেশ কয়েকটি কারণে এ পার্ক নির্মাণে হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে মামলাজনিত কারণে জমি অধিগ্রহণে দেরি হওয়া।
আইএমইডির পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদিত মেয়াদের মধ্যে ফায়ার স্টেশন, প্রধান ভবন, ওয়াটার রিজার্ভার, পানির পাইপলাইন, পুলিশ ফাঁড়ি, ২টি পাম্প ড্রাইভার কোয়ার্টার, গভীর নলকূপ এবং প্রকল্প এলাকায় বিদ্যুতায়ন ও গ্যাস সরবরাহ লাইন স্থাপন ও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।
এছাড়া উদ্যোক্তা তহবিলের ৮০ কোটি টাকায় সিইটিপি এবং ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণের কথা থাকলেও তা এখনো শুরু হয়নি। এমনকি কাজ শুরুর কোনো পদক্ষেপও নেই।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের ওষুধ শিল্পখাতে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ওষুধ উৎপাদন হচ্ছে। এ উৎপাদন থেকে অভ্যন্তরীণ চাহিদার শতকরা ৯৭ ভাগ মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে। এপিআই শিল্পপার্ক স্থাপন করা হলে, ওষুধ শিল্পের কাঁচামালের দেশীয় চাহিদার শতকরা ৭০ ভাগ যোগান দেয়া সম্ভব হবে।



Leave a Reply