পরিশোধিত লবণের দাম কেজিতে চার টাকা কমিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনকে চিঠি দিয়েছে পাঁচটি পরিশোধনকারী কোম্পানি। তারা সবচেয়ে ভালো মানের লবণের নতুন দাম ঠিক করেছে প্রতি কেজি ৩৮ টাকা।
অবশ্য বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কম দামের লবণ এখনো সহজলভ্য হয়নি। তবে কোম্পানিগুলো বলছে, ঈদুল আজহার আগে ও পরে তারা নতুন দামের লবণ বাজারে ছেড়েছে। পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পুরোনো লবণ থেকে যাওয়ায় এখনো নতুন দামের লবণ সব জায়গায় পৌঁছায়নি। খুব শিগগির নতুন দামের লবণ সহজলভ্য হবে।
দেশে লবণের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ৭ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় লবণ মিলের মালিকদের সঙ্গে এক বৈঠক করে।
ওই বৈঠকে বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের পরামর্শে কোম্পানিগুলো লবণের দাম কেজিতে চার টাকা করে কমানোর ঘোষণা দেয়। সম্প্রতি চিঠি দিয়ে তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশনকে লবণের দাম কমানোর কথা জানায়।
গত দুই মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদিত না হওয়ায় দেশে লবণের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ভ্যাকুয়াম ইভাপোরেশন পদ্ধতিতে পরিশোধিত লবণের দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৫-২৬ টাকা। তা বাড়তে বাড়তে ৪০-৪২ টাকায় উঠেছে।
দাম কমিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশনকে চিঠি দিয়েছে এসিআই, পূবালী, মোল্লা, ক্রিস্টাল ও মধুমতি সল্ট। এসিআই, মোল্লা, পূবালী ও ক্রিস্টাল তাদের ভালো মানের লবণের নতুন দাম ঠিক করেছে কেজিপ্রতি ৩৮ টাকা, যা এত দিন ৪২ টাকা ছিল। অন্যদিকে মধুমতি তাদের লবণের দাম ৩ টাকা ২০ পয়সা কমিয়ে কেজিপ্রতি ২১ টাকা ৬০ পয়সা করেছে। পূবালী মেকানিক্যাল পদ্ধতিতে পরিশোধিত লবণ ৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ৩৬ টাকা, সাধারণ লবণ ৩২ টাকা থেকে কমিয়ে ২৮ টাকা করেছে বলে উল্লেখ করেছে চিঠিতে।
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর পুরোনো লবণই এখনো বিক্রি হচ্ছে। দু-একটি দোকানে মোড়কে ৩৫ টাকা দর লেখা লবণও মিলেছে। তবে বেশির ভাগ দোকানেই ৪২ টাকা কেজির লবণ বিক্রি হচ্ছে।
ঢাকায় দামের ওঠানামার প্রভাব সবার আগে পড়ে কারওয়ান বাজারে। সেখানকার দোকানগুলোতে ৩৮ টাকা কেজির লবণ এখনো আসেনি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বাজারের কিচেন মার্কেটের কুমিল্লা জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা মো. গোফরান বলেন, গতকাল বুধবারও তিনি পরিবেশকের কাছ থেকে এসিআইয়ের লবণ কিনেছেন। যে লবণ দিয়েছে, তার মোড়কে ৪২ টাকা দামই লেখা আছে।
এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আলমগীর বলেন, পরিবেশকের কাছে হয়তো পুরোনো লবণ রয়ে গেছে। সেগুলো বিক্রি করছে। তবে এসিআই নতুন দরের লবণ ছেড়েছে। তিনি বলেন, অপরিশোধিত লবণ না থাকায় তাঁদের মিল কয়েক দিন ধরে বন্ধ।
পূবালী সল্টের মালিক পরিতোষ কান্তি সাহা বলেন, ঈদের আগে ও পরে তিনি নতুন দামের লবণ ছেড়েছেন। তবে তাঁর কোম্পানির লবণ বেশি বিক্রি হয় ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও উত্তরবঙ্গে। ওই সব এলাকায় কম দামের লবণ মিলছে বলে দাবি করেন তিনি।
মোল্লা সল্টের মহাব্যবস্থাপক আবদুল মান্নান বলেন, তাঁরা ১০ হাজার কার্টন (প্রতি কার্টনে ২৫ কেজি) নতুন দামের লবণ ইতিমধ্যে বাজারে ছেড়েছেন। নতুন দরের লবণ শিগগিরই সহজলভ্য হবে।
এদিকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরকার যে দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছিল, তার প্রথম চালান আগামী রোববার চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে। এ দফায় একটি জাহাজে ৪৮ হাজার টন লবণ আসবে। এদিকে দেশে অপরিশোধিত লবণের দাম কিছুটা কমেছে। ঈদের আগে বস্তাপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৩৫০ টাকায় উঠেছিল, তা এখন ১ হাজার টাকার কাছাকাছি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান পরিতোষ কান্তি সাহা।



Leave a Reply