সুন্দরবনের অদূরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে ইউনেস্কোর উদ্বেগের বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, তাদের প্রস্তাবনার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর দেখছে। তারাই জবাব দেবে।
শনিবার বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। সরকার রামপাল থেকে সরে আসবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা সরকারের বিষয়। এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি।
নসরুল হামিদ বলেন, সরকার পরিবেশের বিষয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। সে কারণে নতুন করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের আগে পরিবেশের প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পাওয়ার হাবের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ভারতীয় কম্পানির প্রস্তুতকৃত সমীক্ষা রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয় সেমিনারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন ১০ হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। এ জন্য অনেকগুলো পাওয়ার হাব তৈরি হবে। যেসব স্থানে পাওয়ার হাব তৈরি হবে। সেখানে পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে সে বিষয়ে আগেই সমীক্ষা করা হবে।
প্রসঙ্গত, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরকারের অবস্থান এবং এর বিরোধিতা করে দেশে-বিদেশে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনসহ সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের আন্দোলন যখন তুঙ্গে, ঠিক সে সময় এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে আপত্তি জানাল ইউনেসকো।
এ বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে ৫০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থাটি।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে তারা বলেছে, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান ও সর্ববৃহৎ শ্বাসমূলীয় জলাবন (ম্যানগ্রোভ) সুন্দরবন ও এর জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রামপাল থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে সরকারকে পরামর্শও দিয়েছে তারা। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকার যে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) করেছে, সেটিকেও অসম্পূর্ণ বলে অভিহিত করেছে ইউনেসকো। প্রতিবেদনের বিষয়ে আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে সরকারের মতামত চেয়েছে সংস্থাটি।



Leave a Reply