বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কলকাতার চিকিৎসকদের নাম ভাঙিয়ে বাংলাদেশে অর্থ আদায়ের চক্র

কলকাতার চিকিৎসকদের নাম ভাঙিয়ে বাংলাদেশে অর্থ আদায়ের চক্রকলকাতার চিকিৎসকদের নাম ভাঙিয়ে বাংলাদেশে অর্থ আদায়ের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরে। শুধু চিকিৎসকই নন, কলকাতার নামকরা হাসপাতালের নামেও এই চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের হাতে হেনস্তা হতে হয়েছে কলকাতার এক স্বনামধন্য চিকিৎসককে।

কলকাতায় কর্মরত বাংলাদেশি মিডিয়ার প্রতিনিধিদের কাছে স্ত্রীরোগ ও প্রজনন বিশেষজ্ঞ ডা. গৌতম খাস্তগীর অভিযোগ করেছেন যে, এই চক্র স্বার্থান্বেষী মহলের সঙ্গে মিলে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করার কাজটিও করেছেন। চট্টগ্রামের বিশিষ্ট খাস্তগীর পরিবারের সন্তান এই বিশিষ্ট চিকিৎসক বাংলাদেশে নাড়ির টানে বারে বারে  ছুটে গিয়েছেন। বন্ধ্যত্ব মোকাবিলায় বাংলাদেশের নিঃসন্তান দম্পতিদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছেন। সেখানে তাদের পরিবারের স্থাপিত প্রাচীনতম খাস্তগীর নারী শিক্ষালয় স্কুলের উন্নতিতে কাজ করার কথাও ঘোষণা করেছেন। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন বেশ ধাক্কা খেয়েছে। কয়েক বছরে তাকে ভাঙিয়ে বিনামূল্যে রোগী দেখার সুযোগে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালালচক্র। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডোনেশন হিসেবে রোগীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ স্কুলকেও দেয়া হয়নি।

তবে কলকাতায় ডা. খাস্তগীরের বার্থ হাসপাতালে বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীরা যখন জানান যে, তাদের কাছ থেকে অনেক অর্থ অগ্রিম নেয়া হয়েছে দেখানোর জন্য তখনই গৌতম বাবু বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানতে পারেন। বন্ধ করে দেন সব যোগাযোগ। দীর্ঘদিন ধরে দালাল চক্রের অর্থ উপার্জনের পথ বন্ধ হতেই তারা একটি ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে কুৎসা প্রচারে নেমেছে বলে তার অভিযোগ।

অবশ্য ডা. খাস্তগীর এ নিয়ে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের গোচরে আনার কথাও ভাবছেন তিনি।

তিনি জানিয়েছেন, সরকারিভাবে অনুমতি নিয়েই তিনি বাংলাদেশে বিনামূল্যে রোগী দেখেছেন। কোনো আর্থিক সুবিধা লাভের লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশে রোগী দেখেননি বলেও দাবি করেছেন। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার বা মেডিকেল কাউন্সিলের কাছে কোনো অভিযোগ কেউ দায়ের করেননি। তা সত্ত্বেও মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

কলকাতায় বন্ধ্যত্ব মোকাবিলার সেরা চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে তার স্থাপিত বেঙ্গল ইনফার্টিলিটি অ্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ থেরাপি হসপিটাল তথা বার্থ-এ বহু বাংলাদেশের দম্পতি সন্তান লাভের আশায় এসে উপকৃত হয়েছেন। আর ‘ডেলিভারিং গডস ক্রিয়েশন টু ম্যানকাউন্ড’ ব্রত নিয়ে কাজ করার তাগিদেই তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশের নিঃসন্তান নারীদের কাছে সেরা চিকিৎসা পৌঁছে দিতে।

তবে আঘাত পেয়েও গৌতম বাবু অভিমুখ থেকে সরে আসতে রাজি নন।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *