বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকায় পুলিশ প্রহরায় কারবালা স্মরণ তাজিয়া মিছিলে

ঢাকায় কারবালা স্মরণ তাজিয়া মিছিলেকারবালার স্মরণে আশুরা দিনে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল বের করেছে শিয়া মুসলমানরা; গত বছরের নাশকতার ঘটনার পর এবার কঠোর নিরপত্তার মধ‌্যে চলছে এই আনুষ্ঠানিকতা।

গত বছর আশুরার আগের রাতে তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার ঘটনা ঘটায় এবার এ মিছিল ঘিরে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মিছিলের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। গত বছর তাজিয়া মিছিলে হামলায় দুজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়।

নিরাপত্তার কারণে এবার তাজিয়া মিছিলে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হোসনি দালান এলাকা থেকে তাজিয়া মিছিলে ধারালো অস্ত্র বহনের অপরাধে ১৪ জন ‘পাইক’কে আটক করে চকবাজার থানার পুলিশ। তাজিয়া মিছিলে ‘হায় হোসেন’ মাতম তুলে যারা দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি নিয়ে নিজেদের শরীর রক্তাক্ত করে, তাদের পাইক বলা হয়।

১০ মহররম মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক। বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমান বিশেষ করে শিয়া মুসলমানরা ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন।

হিজরি ৬১তম বর্ষের (৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন।

বাংলাদেশে আশুরা পালিত হচ্ছে বুধবার। তবে বরাবরের মত এবারও কয়েকদিন আগে থেকেই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে পুরান ঢাকায়।

আশুরার দিন প্রধান তাজিয়া মিছিলে অংশ নিতে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকার শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ বুধবার সকাল থেকেই হোসেনি দালানের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সাড়ে ১০টার দিকে ইমামবাড়ার সামনে থেকে ‘হায় হোসেন-হায় হোসেন’ মাতম তুলে শুরু হয় বিশাল তাজিয়া মিছিল।

হাজারো মানুষের শোক মিছিলটি লালবাগ, আজিমপুর এতিমখানা, আজিমপুর চৌরাস্তা, নিউ মার্কেট হয়ে ধানমণ্ডি ২ নম্বর সড়কের পশ্চিম প্রান্তে ‘কারবালা’ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হবে।

মিছিলে অনেকের হাতেই দেখা যায় জরি লাগানো লাল আর সবুজ নিশান, মাথায় শোকের কালো কাপড়। কারবালার স্মরণে কালো চাঁদোয়ার নিচে কয়েকজন বহন করেন ইমাম হোসেনের (রা.) প্রতীকী কফিন।

মিছিলের সামনে ইমাম হাসান ও ইমাম হোসেনের দুটি প্রতীকী ঘোড়া, দ্বিতীয় ঘোড়ার জিন রক্তের লালে রাঙানো।

অন‌্যান‌্য বছর কারাবালার রক্তপাতের স্মরণে অনেকে মিছিলের মধ‌্যে ছুরি বা শেকল দিয়ে আঘাত করে নিজেদের দেহ থেকে রক্ত ঝরালেও এ বছর ওই ধরনের কোনো অস্ত্র বা দীর্ঘ লাঠি বহন ছিল নিষিদ্ধ।

গত বছর আশুরায় হোসাইনী দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় জঙ্গিদের বোমা হামলায় দুজন নিহত হন।

ওই অভিজ্ঞতার পর এবার মিছিলে কোনো ধরনের নাশকতা যেন ঘটতে না পারে সেজন্য ব্যাপক নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।

তিনি বলেন, “মিছিল যে এলাকা দিয়ে যাবে, সেই এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। রাস্তার উভয় পাশে ভবনের ছাদে পুলিশ হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও কাজ করছে।”

নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও তাতে ‘ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট হয়নি’ মন্তব‌্য করে তিনি বলেন, “আশা করছি এবার আর দুর্ঘটনা ঘটবে না।”

ইমামবাড়া ছাড়াও ঢাকার ফার্মগেইট, মোহাম্মদপুর ও মিরপুর থেকে তাজিয়া মিছিল বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষীণ করেন শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।

এ বছর জোহরের নামাজের আগেই তাজিয়া মিছিল শেষ করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *