২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় থেকে শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভীর মধ্যে ঠিক যেন সাপে-নেউলে সম্পর্ক। ওই নির্বাচনে শামীম ওসমান আইভীর কাছে এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এরপর থেকেই পরস্পর বিরোধীতা করে দেশব্যাপি আলোচনায় এই দুজন।
এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আবারও মুখোমুখি হন তারা। যদিও শেষ পর্যন্ত দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে শামীম ওসমান ও আইভীর মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব অবসনের পথে।
তাদের মধ্যে তিক্ত সম্পর্কের বরফ গলে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত খুশি। দলীয় প্রার্থী আইভীকে জেতাতে এখন বন্দর আওয়ামী লীগ ভেদাভেদ ভুলে মাঠে নেমেছে।
আইভীকে নিজের ছোট বোন উল্লেখ্য করে শুক্রবারই সংবাদ সম্মেলনে করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা শামীম ওসমান। এ সময় তিনি আইভীকে উপহার দেওয়ার জন্য বানানো দুটি শাড়ি সাংবাদিকদের দেখান।
শামীম ওসমান বলেন, ‘এই শাড়ি দুটো আমি আমার বোন আইভীকে দেব। আইনগত কারণে আমি প্রচারণায় নামতে পারবো না। আমার বোন এই শাড়ি পড়ে প্রচারে নামবে। আর মনে হবে ভাই তার পাশে আছে।’
সাদা রঙের ওই তাঁতের শাড়ি পাড় লাল-সবুজের। আর জমিনে সুতায় কাজ করা নৌকার প্রতিকৃতি রয়েছে। শামীম ওসমান বলেন, আইভী বরাবর সুতির শাড়ি পড়তে পছন্দ করেন। আর সাদা রঙের শাড়ির প্রতিও আইভীর বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। আমি আশা করি এই উপহার পছন্দ হবে আইভীর।
এই শাড়ি ছাড়া আইভীর জন্য আর কোনো সারপ্রাইজ আছে কি না- জানতে চাইলে শামীম ওসমান বলেন, ‘আর একটা সারপ্রাইজ হচ্ছে ওর বিজয় সুনিশ্চিত করা। এটা সারপ্রাইজ না এটা কনফার্ম।’
শামীম ওসমান আরো বলেন, আইভীর প্রতি আমার রাগ, দুঃখ কিছু নাই। বিকজ শি ইজ মাই ইয়ংগার সিস্টার। তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে আমার শেখ হাসিনা, আমার নেত্রী, আমার আদর্শ, আমার মা যে নির্দেশ দিয়েছেন, এর বাইরে কোনো চিন্তার অবকাশ ছিল না, আজও নাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থাকবে না।



Leave a Reply