মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

হায় গলাকাটা পাসপোর্ট!

রিমি রুম্মান।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় এক বান্ধবী হুট করেই প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যায়। বেশ ক’বছর বাদে এক পড়ন্ত বিকেলে আচমকা দেখা হয়ে যায় আমাদের।

সঙ্গে তার নায়ক চেহারার বর। তখন আমি ইডেন কলেজে পড়ি। মামার বাসা থেকে ক্লাস করি। বান্ধবীটি ধারে কাছেই থাকে। সেই সুবাদে একদিন বাসায় এলে আমি আত্মীয়দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেই। আমার আত্মীয় সম্পর্কিত এক ছোটবোন থাকে চারতলায়। সে স্বামীর কাছে ইউরোপে যাবার চেষ্টা করছিল।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তার স্বামী দেশে এলো। পরিচয় হল আমার বান্ধবী এবং তার বরের সাথে। দুই কাপলের সখ্যতা গড়ে উঠে। তারা একসঙ্গে সিনেমা দেখে, রেস্টুরেন্টে ডিনার করে, ভারতে গিয়ে শপিং করে। স্বল্প সময়ে একে অপরের ভীষণ বিশ্বস্ত হয়ে উঠে! সীমাহীন ব্যস্ত এক সময় তাদের। আমার সঙ্গে কথা বলার মতন অফুরন্ত সময় নেই কারোর। আমি অনেকটাই অপরিচিতের মতন অপাংত্তেয়, অনাকাংখিত ঝামেলা হয়ে রই।

জানুয়ারির এক শীতের দিনে আমার আপার বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান। আমরা কেউ ছুটছি পার্লারে, কেউবা ধানমন্ডিতে অনুষ্ঠানস্থলে। এমন ব্যস্ত দিনে কোন এক প্রয়োজনে স্বল্প সময়ের জন্যে মামার বাসায় যেতে হোল। মামা থাকেন পাঁচতলায়। আর আত্মীয় বোনটি চারতলায়। ঘরভর্তি তার শ্বশুরবাড়ি এবং বাবার বাড়ির মানুষজন। সেইদিন ছিল তার ফ্লাইট, ইউরোপ চলে যাবার দিন। বিদায় দেবার জন্যই গ্রাম থেকে সকলের আসা। কিন্তু সেখানে শান্ত, নিস্তব্দ, থম্‌থমে পরিবেশ বিরাজ করছিলো। সকলেই চিন্তাক্লিষ্ট।

মুরুব্বীস্থানীয় এক আত্মীয় এগিয়ে এলেন। বললেন, তোমার বান্ধবীর স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না গতকাল থেকে। তার তত্ত্বাবধানেই রাখা পাসপোর্ট, ভিসা, টিকেটসহ জরুরি কাগজপত্র সব। এদিকে একটু একটু করে ফ্লাইটের সময় ঘনিয়ে আসে। জরুরি কাগজপত্রসহ মানুষটি লাপাত্তা। তারা আমার সহযোগিতা চাইলো। কিন্তু আমার কথা বলার মতন অফুরন্ত সময় ছিল না।

দু’দিন বাদে জানা গেলো, বান্ধবীর স্বামী পাসপোর্টের ‘মনোয়ারা বেগম’ নামটি পরিবর্তন করে ‘মনোয়ার হোসেন’ নামে গলাকাটা পাসপোর্ট বানিয়ে নির্দিষ্ট ফ্লাইটে উড়াল দিয়েছিলো। কিন্তু পথিমধ্যে কোন এক দেশে ইমিগ্রেশনের লোকজনের হাতে ধরা পড়েছে এবং ফেরত এসেছে।

সাড়া জাগানো ছবি ‘অজ্ঞাতনামা’য় গলাকাটা পাসপোর্টে বিদেশ যাবার বিড়ম্বনা দেখে এতো বছর বাদে সেইসব ঘটনাগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠলো।

ছবিটি চমৎকার। হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
হায় বিদেশ! হায় গলাকাটা পাসপোর্ট!
ভালো থাকুন সকলে।

লেখক : যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *