ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দিরসহ হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ‘হোতা’ দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি গ্রেপ্তার হয়েছেন। ঘটনার দুই মাস পর বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নাসিরনগর থানার এসআই ইশতিয়াক আহমেদ জানিয়েছেন।
রাত ১০টার দিকে আঁখিকে নিয়ে নাসিরনগর থানায় পৌঁছান পুলিশ কর্মকর্তারা। শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে বলে এসআই ইশতিয়াক জানান। তিনি বলেন, গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে গৌরমন্দিরে হামলার ঘটনায় নাসিরনগর থানায় করা ২২ নম্বর মামলায় আঁখিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গৌরমন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল চৌধুরী বাদী হয়ে করা এই মামলার সকল আসামি অজ্ঞাত উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আঁখি হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান; যুবলীগের জেলা কমিটির সাবেক সদস্য তিনি। বর্তমানে দলে কোনো পদ নেই তার। আঁখির মদের কারবারও রয়েছে।
ফেইসবুকে ‘ইসলাম অবমাননার’ ছবি পোস্ট করার অভিযোগে গত বছরের ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ১৫টি মন্দিরসহ হিন্দুদের শতাধিক ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
হামলায় আঁখির সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে বিভিন্ন অনুসন্ধানে।
হরিপুর ইউনিয়ন থেকে ১৪-১৫টি ট্রাক ভরে মানুষ আসার পর নাসিরনগরের হিন্দু পল্লীতে হামলা হয়। যেসব ট্রাকে হামলাকারীরা এসেছিল চেয়ারম্যান আঁখি সেগুলোর ব্যবস্থা ও অর্থের যোগান দিয়েছিলেন বলে তথ্য মিলেছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে বেকায়দায় ফেলতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সমর্থকরা নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়ি-মন্দিরে হামলার নেপথ্যে ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
পুলিশ আঁখিকে খুঁজলেও এতদিন তিনি লুকিয়ে ছিলেন। রোববার তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, তার চার দিনের মধ্যে আঁখি ধরা পড়লেন।
হিন্দু পল্লীতে হামলার ঘটনায় স্থানীয় বারোয়ারি মন্দিরের পুরোহিতসহ দুই ব্যক্তি দুটি মামলা দায়ের করেন। প্রত্যেক মামলায় অজ্ঞাতনামা ১০০০ থেকে ১২০০ জনকে আসামি করা হয়।
এরপর কয়েকজনের বাড়িতে কয়েক দফা আগুন দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় দায়ের মোট আট মামলায় শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।



Leave a Reply