আলোকচিত্র সাংবাদিক জিয়া ইসলামের আহতের ঘটনায় মামলা করেছে তার প্রতিষ্ঠান দৈনিক প্রথম আলো। এ মামলার পর মডেল ও অভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন প্রথম আলোর প্রধান আলোকচিত্র সাংবাদিক জিয়া ইসলাম। সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) অভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলাবাগান থানায় ডেকে নেয় পুলিশ। পরে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ মামলা করলে কল্যাণ কোরাইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কলাবাগান থানায় করা মামলাটিতে (নং ৬, ধারা ২৭৯, ৩৩৮ এর ক, ৪২৭) জিয়া ইসলামকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে কল্যাণের বিরুদ্ধে। প্রথম আলোর পক্ষে মামলাটি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক মেজর (অব.) সাজ্জাদুল কবীর। এর পরপরই কল্যাণকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানিয়েছেন। কল্যাণকে আগেই থানায় ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।
দুর্ঘটনায় মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন জিয়া। সেখানে উপস্থিত অন্য গণমাধ্যমের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। মঙ্গলবার দুপুরে জিয়া ইসলামকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জিয়া পান্থপথ ক্রসিং থেকে মোটরসাইকেলে করে কারওয়ান বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। বসুন্ধরা সিটির সামনে পৌছানোর পর জিয়াকে ধাক্কা দেওয়ার পরপরই গাড়ির লাইট বন্ধ করে দেন গাড়ির চালক। পরে গাড়িটি আটকানোর চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু প্রাইভেটকারটি সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরাফাত হোসেন বলেছেন, ‘আমরা ব্যাপারটি ক্ষতিয়ে দেখছি। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো সিসি টিভি ক্যামেরা ছিল কিনা তা দেখা হচ্ছে। কল্যাণ কোরাইয়ার ব্যাপারটিও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, তার গাড়ির দুর্ঘটনাটি তেজগাঁও থানার কাছে হয়েছে।’
সোমবার মধ্যরাতে পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির সামনে আহত জিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কল্যাণও হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, “জিয়াকে ধাক্কা দেওয়ার পরে গাড়িটি লাইট বন্ধ করে কিছুক্ষণ থেমে ছিল। পরে এটি চলে যায়। জিয়াকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করানোর পর কল্যাণ রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালে যান।
“তিনি সেখানে কয়েকজনকে সাংবাদিকদের বলেন, তার গাড়ির ধাক্কায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। তারপর লাপাত্তা হয়ে যান তিনি। এই ঘটনায় মামলায় অভিযোগ পাওয়ার ভিত্তিতে কল্যাণ কোরাইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে,” বলেন মারুফ সরদার।
সন্ধ্যায় অভিনেতা কল্যাণ ফেইসবুকে “আই এম ইননোসেন্ট” স্ট্যাটাস দিলে তা অনেকের নজরে পড়ে। পুলিশও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় ডেকে নেয়। তখন তিনি বলেছিলেন, সোমবার মধ্যরাতে তার গাড়িও দুর্ঘটনায় পড়েছিল। তবে তা ঘটেছে তেজগাঁও থানার কাছে, যার সঙ্গে জিয়ার দুর্ঘটনার সম্পর্ক নেই।
ওই লেখার বিষয়ে জানতে চাইলে কল্যাণ প্রথমে বলেন, “ভাই, বহু ঝামেলায় আছি, পরে কথা বলি। কথা বলার পারমিশন নাই এখন।” কল্যাণ দাবি করেন, তার গাড়ির দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেন, “আমি গেছি আমার রোগী নিয়ে হাসপাতালে, আর উনারা গেছে উনাকে (জিয়া) নিয়ে।”
কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে- জানতে চাইলে কল্যাণ বলেন, “আমারটি (তার গাড়ি দুর্ঘটনা) তেজগাঁও থানার এখানে হয়েছে। আর উনার (জিয়) ঘটনাটি অন্য জায়গায়। দুটি আলাদা ঘটনা। আই এম ইননোসেন্ট’ স্ট্যাটাস কেন দিয়েছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার ঘটনাটি নিয়ে দিয়েছি। আচ্ছা ভুল হয়েছে, তা তুলে নিচ্ছি।”
তখন পুলিশ কর্মকর্তা মারুফ বলেছিলেন, “কল্যাণ কোরাইয়া স্বীকার করছে না। সে (কল্যাণ) বলছে, তার গাড়ির দুর্ঘটনাটি তেজগাঁও থানার কাছে হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।”
কলাবাগান থানার ওসি মো. আরাফাত হোসেন বলেন, তারা কল্যাণকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
জিয়াকে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল থেকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
প্রথম আলোর অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক কমল জোহা খান রাতে বলেন, জিয়ার ডান পা ভেঙে গেছে। বুকে প্রচণ্ড আঘাত রয়েছে। মাথায়ও আঘাত পেয়েছেন। চার ঘণ্টার একটি অপারেশন হয়েছে তার।



Leave a Reply