নিজস্ব প্রতিবেদক: কেয়ার-জিএসকে কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার ইনিশিয়েটিভের মধ্যবর্তী মূল্যায়নের ফলাফল ও শিখন বিনিময় ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হলো ঢাকার হোটেল লেকশোরএ । মূল স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন সুনামগঞ্জ, উপ পরিচালক সুনামগঞ্জ, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী পার্টনার, জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন সমূহ, অবসটেট্রিক এবং গাইনোকলজিক্যালসোসাইটি অব বাংলাদেশ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও, সুনামগঞ্জের তৃনমূল কমিউনিটি গ্রুপ, ইউনিয়ন পরিষদ এবং দক্ষ স্বাস্থ্য উদ্যোক্তারা এই ইভেন্টে অংশগ্রহন করে এই উদ্যোগটির মূল্যায়ন ফলাফল এবং ভবিষ্যত করনীয় বিষয়ের উপর আলোকপাত ও মূল্যবান মতামত প্রদান করেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের যুগ্নসচিব (প্রশাসন) আব্দুল গফ্ফার খানপ্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।এছাড়াও ডা: জাহাঙ্গীর আলম সরকার ডিরেক্টর- প্রাইমারী হেলথ কেয়ার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ডা:মো: শরীফ , ডিরেক্টর –এমসিএইচ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। মি:ডেবিড প্রিটচার্ড, আফ্রিকা ও এশিয়া অঞ্চল, গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন এবং কেয়ার ইউকে থেকে প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মি: আন্দ্রেজ গোঞ্জালো। এছাড়াও সুনামগঞ্জ থেকে সিভিল সার্জন, উপপরিচালক পরিবার পরিকল্পনা ও প্রাইভেট দক্ষসেবাদানকারীররা। নাহিদ সুলতানা মল্লিক এ্ই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।
গবেষনা প্রতিষ্ঠান আই,সি,ডিডিআরবি ২০১৬ সালের এই প্রকল্পটির কর্ম এলাকায় পরিচালিত মা ও শিশু স্বাস্থ্য জরিপের তথ্য এখােেন উপস্থাপন করেন।অনুযায়ীদেখা যাচ্ছে গত তিন বছরে সুনামগঞ্জে মা ও শিশুর দক্ষ সেবা গ্রহনেরহারবেড়ে দাড়িয়েছে তিন গুনেরও বেশী। এখানে দেখা যাচ্ছে দক্ষ স্বাস্থ্যসেবাদানকারীদের দুই তৃতীয়াংশরও বেশী সেবাপেয়েছে দরিদ্র ও হত দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা। সরকার ও উন্নয়ন সহযোগী পার্টনারদের সহায়তায় শিশু মৃত্যুর হার কমেছে অনেকাংশে। এছাড়াও প্রকল্পের মনিটরিং তথ্য সূত্র মতে ৫০% এরমত দক্ষ স্বাস্থ্য উদ্যোক্তরা প্রতিমাসে পাচ হাজার ও তার বেশী রোজগার করছে।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন এটা স্পষ্ট যে দূর্গম এলাকাগুলোতে সেবা প্রদানের কৌশলগুলো কাজ করছে না। এই পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ উদ্যোগটি একটি সুনামগঞ্জে মা ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিশেষ করে শিশু মৃত্যুর হার কমাতে এবং দরিদ্র ও হত দরিদ্রের মধ্যে সেবা প্রদানে অসমতা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে। তিনি সকল উন্নয়ন সহযোগী পার্টনার ও জাতি সংঘের অঙ্গ সংগঠন সমূহকে এ্ই উদ্যোগের শিখন ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর জন্য বিশেষ করে হাওড়, চর উপক’ল প্রভৃতি দূগম এলাকাগুলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য।
বিশেষ অতিথি ডা: জাহাঙ্গীর আলম সরকার, ডিরেক্টর- প্রাইমারী হেলথ কেয়ার বলেন মাঠ পর্যায়ে এই প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করে আমার অভিজ্ঞতার আলোকে আমি বলতে পারি যে ৩০০ জন ¯^াস্থ্য উদ্যোক্তা তৈরী হয়েছে তারা সবাই স্থানীয় এবং এই প্রকল্প শেষে স্থায়ীত্বশীল ভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। এই উদ্যোগটি স্থানীয় সরকার এবং কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রæপের সাথে ওতোপ্রতো ভাবে জড়িত।
ডিরেক্টর- এমসিএইচ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ডা:মো: শরীফ বলেন এই উদ্যোগটি স্থায়ীত্বশীল সেবা প্রদানের সিষ্টেম এর ক্ষেত্রে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত যা সরকারের কাজকে এই ধরনের দূর্গম এলাকাতে পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে।
মি:ডেবিড প্রিটচার্ড, আফ্রিকা ও এশিয়া অঞ্চল, গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন বলেন গত পাঁচ বছর আগে শুরু হওয়াএই উদ্যোগটি ¯^াস্থ্যে জনবলের ঘাটতি পূরনে এই অঞ্চলে মা ও শিশু ¯^াস্থ্যসেবা গ্রহন সংশ্লিষ্ট আচরন ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে সত্যিই গর্ববোধ করছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সরকারের ¯^াস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরনের সাথে প্রাইভেট সেক্টর /মার্কেটফোর্স এর মাধ্যমে একটি স্থায়ীত্বশীল কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার সমš^য় স্থায়ীত্বশীল মডেল তৈরী করবে।
এই অনুষ্ঠানের সভাপতি নাহিদ সুলতানা মালিক ডেপুটি সেক্রেটারী , সমাপনি বক্তব্যে বলেন এই উদ্যোগটি বিদ্যমান ¯^াস্থ্য ব্যবস্থাকে আরো সমৃদ্ধ করবে। তিনি সবাইকে এই উদ্যোগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের সক্রিয় সহযোগীতা কামনা করেন যাতে করে এর সব উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারে।
জিএসকের ২০% লভ্যাংশের বিনিয়োগ এর অংশ হিসেবে, এই কমিউনিটিহেলথ ওয়ার্কার ইনিশিয়েটিভটি সুনামগঞ্জের হাওড়ের দূর্গম এলাকার মা ও শিশু ¯^াস্থ্যের উন্নয়নেরা একটি অরো একটি মাইল ফলক স্পর্শ করলো,যেখানে ৩০০ জন ¯^াস্থ্য উদ্যোক্তা স্থানীয় সরকার এবং কমিউনিটি গ্রæপের সহায়তায় স্থায়ীত্বশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।



Leave a Reply