বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

৬০ সাংসদ ও সরকারি চাকরিতে ২০ ভাগ কোটার দাবিতে সরব হিন্দুরা

parliament-bহিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য বাংলাদেশের পার্লামেন্ট ‘জাতীয় সংসদ’-এ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ৬০টি সংরক্ষিত আসন ও সব সরকারি চাকরিতে ২০ ভাগ কোটা ব্যবস্থার আর্জি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।

হিন্দু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিত্র বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্রের স্বার্থে হিন্দু সম্প্রদায়ের এই পাঁচ দফা দাবি করছি আমরা।”

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে ৬০টি সংরক্ষিত আসন এবং একজন উপ প্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্টি করা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তার সার্থে একটি সুরক্ষা আইন পাশ ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন, বেদখল সব দেবোত্তর সম্পত্তি স্ব স্ব মঠ মন্দিরে হস্তান্তর, সরকারি চাকরিতে ২০ ভাগ কোটাসহ প্রত্যেক মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং শারদীয় দুর্গাপুজায় তিনদিনের সরকারি ছুটি ও সব বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক সরস্বতী পূজা চালু করা।

হিন্দু পরিষদের সভাপতি দিপংকর শিকদার বলেন, “স্বাধীনতার পূর্বে ও পরে হিন্দু জনগোষ্ঠী ছিল ৪০ ভাগ; আর আজকে আট ভাগে নেমে এসেছে। প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি, বিভিন্ন লোমহর্ষক অত্যাচারের ফলে প্রতিদিন হিন্দু পরিবার দেশত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। “আমরা দেশ ত্যাগ করতে চাই না। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। আমাদের দেওয়া পাঁচ দফা দাবি মেনে নিন।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে তাঁতী লীগের কার্যকরী সভাপতি সাধনা দাস গুপ্ত, হিন্দু পরিষদের সহ সভাপতি দিলীপ দাস দেওয়ান, ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি মনিষ বালা, সাংগঠনিক সম্পাদক মনীষ দাশগুপ্ত এবং বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুফল সরকার ও ঢাকা জেলা সভাপতি শ্যামল রায় বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত, সংসদে ৩৫০ সাংসদের মধ্যে ৩০০ জন বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে আসেন; ৫০টি সাংসদ পদ ‘মহিলা’দের জন্য সংরক্ষিত, যা নির্বাচিত রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে পেয়ে থাকে। ৬০টি সংরক্ষিত সাংসদের জন্য সংখ্যালঘুদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সহ অন্য সংগঠনগুলোও দাবি জানিয়ে আসছে। এই ব্যাপারে অবশ্য সরকারের তরফ থেকে কোনো মন্তব্য কখনই করা হয় না।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *