কলকাতা সংবাদদাতা: বিভিন্ন রেস্তোঁরা ও ফাস্টফুডের দোকানের চিকেন ফ্রাই ও ব্রোস্টে মানবদেহের জন্য ভয়াবহ রকমের ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া পাওয়া গেছে।
পশ্চিমবঙ্গ জনস্বাস্থ্য পরীক্ষাগারের রিপোর্টও বলছে, দমদমের মতিঝিল রোডের সেই রেস্তোরাঁর খাবার ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়ায় ভর্তি, স্বাস্থ্যের পক্ষেও আদৌ নিরাপদ নয়।
রিপোর্ট বলছে, ওই রেস্তোরাঁর খোয়া ক্ষীরে মিলেছে ফর্মালিনের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক! যা ব্যবহার করা হয় মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য। খদ্দেরের পাতে পড়ার জন্য তৈরি ‘রেডি টু ইট’ মুরগির ঠ্যাঙে পাওয়া গিয়েছে কলিফর্ম ব্যাক্টেরিয়া। যা সাধারণত মানুষের মলের সংস্পর্শে তৈরি হওয়ার কথা।
কনভেন্ট লেনে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের অধীন পরীক্ষাগার এই রিপোর্ট দিয়েছে। শুক্রবার তা পেয়েছে দক্ষিণ দমদম পুরসভা ও রাজ্য পুলিশের এনফোর্সমেন্ট শাখা (ইবি)। ১৯ মে পুরসভা ও ইবি অভিযান চালিয়েছিল ওই রেস্তোরাঁয়। তখনই চোখে পড়ে মজুত রাখা প্রচুর উচ্ছিষ্ট খাবার, মরা মাছি-আরশোলার অস্তিত্ব প্রকট পানীয় ও খাবারে। খোয়া ক্ষীর ও রান্না করা মুরগির নমুনা ওই দিনই পাঠানো হয়েছিল পরীক্ষাগারে।
দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান রবিবার বলেন, ‘‘আমরা রিপোর্ট পেয়েছি। এ তো খাবার নয়, পয়সা দিয়ে মানুষ বিষ কিনে খাচ্ছেন!’’ কিন্তু এ নিয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? চেয়ারম্যান জানান, অভিযান ইস্তক রেস্তোরাঁ বন্ধ। ইবি-র এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘‘মালিক সুইডেনে আছেন। সম্ভবত অভিযানের খবর পেয়েই আর ফিরছেন না। ওঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে।’’
রিপোর্ট অনুযায়ী, রান্না করা মুরগিতে কলিফর্ম ব্যাক্টেরিয়া মিলেছে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২০০টি, স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস নামে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া প্রতি মিলিলিটারে ২০টি। মিলেছে ইস্ট ও ক্ষতিকর জৈবকণা মোল্ড-ও। রিপোর্টে লেখা হয়েছে, ওই মুরগির ঠ্যাঙ ব্যাক্টেরিয়া দূষণে আক্রান্ত এবং নিরাপদ খাদ্যের কথা ভাবলে বিষয়টি উদ্বেগজনক।




Leave a Reply